ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি স্পেন-ইতালি

অবশেষে দীর্ঘ নয় বছর পর ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই তথা উয়েফা ইউরোর সেমিফাইনালে উঠেছে ইতালি। গতকাল রাতে অনুষ্ঠিত হওয়া ইউরো-২০২০ এর দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করেছে রবার্তো মানচিনির শিষ্যরা।

এর পূর্বে ২০১২ সালে সর্বশেষ ইউরোর সেমিফাইনালে উঠেছিল ইতালি। সেবার অবশ্য ফাইনালও খেলেছিল আজ্জুরীরা। কিন্তু স্পেনের কাছে হেরে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল। এরপর ২০১৬ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের।

জার্মানির মিউনিখের আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচের ১৩তম মিনিটেই জালের নাগাল পেয়েছিল ইতালি। কিন্তু অফসাইডের কারণে বাতিল হয় গোলটি। ৩১তম মিনিটের মাথায় লিড নেয় আজ্জুরিরা। সেট পিস থেকে বেলজিয়ামের দুইজন রক্ষণভাগের খেলোয়াড়কে বোকা বানিয়ে ডান পায়ের শটে গোল করেন নিকোলো বারেলা।

৪৪তম মিনিটের মাথায় ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লরেঞ্জে ইনসিগনি। এ সময় বারেলার কাছ থেকে বক্সের বাইরে বল পেয়ে যান ইনসিগনি। সেখান থেকেই ডান পায়ে শট নেন। তার নেওয়া শট গোলপোস্টের ডান কোণার ওপরের অংশ দিয়ে জালে জড়ায়।

অবশ্য বিরতিতে যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে একটি গোল শোধ দেয় বেলজিয়াম। যোগ করা সময়ে (৪৫+২) ইতালির জিওভানি ডি লরেঞ্জো বক্সের মধ্যে ফাউল করেন বেলজিয়ামের জেরেমি ডোকুকে। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান কমান রোমেলু লুকাকু।

বিরতির পর কিছুটা রক্ষণাত্মক পন্থা অবলম্বন করে খেলে ইতালি। সেই সুযোগে একের পর এক আক্রমণ শানায় বেলজিয়াম। তৈরি করে দারুণ কিছু সুযোগ। ৬১তম মিনিটের মাথায় বামদিক থেকে কেভিন ডি ব্রুইনের বাড়িয়ে দেওয়া বল অল্পের জন্য জালে জড়াতে ব্যর্থ হন লুকাকু। গোললাইনের সামনে থেকে তার নেওয়া শট কোনেরকমে ফিরিয়ে দেন ইতালির লিওনার্দো স্পিনাজ্জোলা।

৭১তম মিনিটের মাথায় আরও একটি গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন বেলজিয়ামের দ্রিস মার্টেন্স। কিন্তু সেটা থেকেও গোল করতে ব্যর্থ হন তিনি। এরকম গোল মিসের মহড়ায় শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে থাকা বেলজিয়াম। ২০১৬ সালের পর ২০২০ সালেও ইউরোর কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিলো রেড ডেভিলসরা।

এদিকে আগামী শুক্রবার দিবাগত রাতে সেমিফাইনালে ওয়েম্বলিতে স্পেনের মুখোমুখি হবে ইতালি।