অ’টোপাসের ফলে বি’শ্ববিদ্যালয় ভর্তিতে পি’ছিয়ে যেতে পা’রেন যারা

করোনাভাইরাসের কারণে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অটোপাস দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সরকার। এতে শিক্ষার্থীদের বড় অংশই খুশি হলেও একাংশ গভীর উদ্বেগের মধ্যে পড়েছেন। বিশেষত যারা ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে কিংবা বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাদের উদ্বেগ বাড়ছে। জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফল গড় করে এইচএসসির ফল কীভাবে দেয়া হবে তা নিয়ে তাদের উদ্বেগ বেশি।

কারণ এর সঙ্গে তাদের পরবর্তীতে ক্যারিয়ারে সফল হওয়ার বিষয়টি জড়িয়ে রয়েছে। সবমিলিয়ে অন্তত চার ধরনের শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে পিছিয়ে যেতে পারেন বলেন মনে করছেন সিংশ্লিষ্টরা। জানা গেছে, এর ফলে ‘বৈষম্যের’ শিকার হতে পারেন বলে আশঙ্কা অনেকের।

এ বিষয়ে একজন অভিভাবক বলেন, ‘ইংরেজি মাধ্যমের প্রতিষ্ঠানগুলো যে পন্থা নিয়েছিল তা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। তাতে ‘প্রেডিকটেড রেজাল্ট’ হিসেবে উল্লেখ থাকবে। কিন্তু দেশে যে ফল দিচ্ছে তাতে ‘প্রেডিকটেড’ লেখা যাবে না। তাহলে শিক্ষার্থীর ট্রান্সক্রিপ্টে কী লেখা হবে? আরোপিত বা অটোপাস?’ এইচএসসির ফল প্রকাশে যে পন্থা নেয়া হয়েছে তা বৈজ্ঞানিক নয় বলেও মনে করেন তিনি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় যারা জিপিএ-৫ পেয়েছে তাদের ফল দেয়া সহজ হবে। কিন্তু যারা কম জিপিএ পেয়েছিল, তাদের গড় করা নিয়ে জল্পনা দেখা দিয়েছে। অনেকেই উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে ভালো প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করার জন্য উচ্চ মাধ্যমিকে বাড়তি প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন। এখন ফল গড় করা হলে তারা বঞ্চিত হবেন বলে মনে করছেন।

আবার জেএসসিতে কোনোও বিভাগ না থাকায় এইচএসসির সঙ্গে কোনো তুলনা চলে না। জেএসসি থেকে বাংলা ও ইংরেজি বাদে অন্য বিষয়ে মূল্যায়নের সুযোগও তেমন নেই। অন্যদিকে এসএসসিতে এক বিভাগে পড়া শিক্ষার্থীরা পরে উচ্চ মাধ্যমিকে অন্য বিভাগে চলে যায়। আবার মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ড থেকেও সাধারণ শিক্ষায় আসে অসংখ্য শিক্ষার্থী।

এমনকি আগের বছর এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য ও মান উন্নয়ন প্রার্থীরাও চরম সঙ্কটে পড়ছেন। এদেরকেও পাস করিয়ে দেয়ার ঘোষণায় প্রশ্ন উঠেছে, পরীক্ষাই দিতে না পারলেও মান উন্নয়ন করা হবে কোন প্রক্রিয়ায়। এছাড়া ফেল করা শিক্ষার্থীর গ্রেড নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় এসএসসি ও এইচএসসির প্রাপ্ত নম্বরের গড় থাকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এর ওপর ৮০ নম্বর রয়েছে। অন্যদিকে বুয়েট বা মেডিকেলে ভর্তিতে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, উচ্চতর গণিত ও জীববিদ্যার গ্রেড নির্ধারণ করে দেয়া হয়। এসএসসির তুলনায় বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা এইচএসসিতে এসব বিষয়ে গুরুত্ব দেন।

অথচ ঘোষণা অনুযায়ী, গড় নম্বর বা গ্রেড দেয়া হলে কেউ অতি মূল্যায়িত বা কেউ অবমূল্যায়িত হবেন। এতে অনেকে বঞ্চিত হতে পারে। এ কারণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অনেকে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এসব শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে চান। এরমাধ্যমে তারা সঠিক ফলাফল পাবেন বলে মনে করছেন।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সরকারের এ সিদ্ধান্ত উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তা দূর করেছে। অতীতের দুটি পরীক্ষার ভিত্তিতে মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে দু’বছর ধরে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়ন ও নির্বাচনী পরীক্ষার ফলও বিবেচনা করা যেতে পারে। যদিও মন্ত্রী বলেছেন, এটি কঠিন, তবুও ভেবে দেখতে পারে।’ এতে অনেক সমস্যার সমাধান হবে বলেও মনে করেন তিনি।

এ বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এইচএসসির ফলাফল নির্ধারণের নীতি ও কৌশল তৈরির কাজ করছে কারিগরি কমিটি, সঙ্গে বিশেষজ্ঞরাও আছেন।

পরামর্শক কমিটির সঙ্গে বৈঠকে আগেই তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের কাজ শেষ করা হবে। পরীক্ষার বিষয়টি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। শিক্ষার্থীদের যে গ্রেড দেব, তা নিয়েই উচ্চশিক্ষায় যাবে তারা।’ তাছাড়া উচ্চশিক্ষায় আলাদা মূল্যায়নের ব্যবস্থা থাকায় এটা বড় কোনো প্রশ্ন নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।