বাসা ভাড়া না দিয়ে মালিককেই বাড়িছাড়া করলো ভাড়াটিয়া

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় এক ভাড়াটিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে বাসা ভাড়া পরিশোধ না করে বাসায় জোরপূর্বক অবস্থান এবং বাসা মালিককে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে মিঠাপুকুর থানা পুলিশ ওই বাসা ছেড়ে দিতে বলার পরও অজ্ঞাত প্রভাবে বাসা ছাড়ছেন না ভাড়াটিয়া পরিবার।

এমন পরিস্থিতিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় থাকা বাসার মালিক ভয়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রংপুর নগরীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন বাসার মালিক শিক্ষক দম্পতি শাহ মোহাম্মদ নুরুল রওশন ও কাওছারী আক্তার বানু।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নুরুল রওশন বলেন, মিঠাপুকুর উপজেলা সদরে থানার কাছে চিথলী দক্ষিণপাড়ায় আমার বাবার সম্পত্তিতে নির্মাণ করা বাড়ি রয়েছে। সেখানে প্রতি মাসে দুই হাজার টাকা ভাড়া পরিশোধ করা এবং তিন বছর পর বাসা ছেড়ে দেয়ার শর্তে ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি ভাড়াটিয়া আব্দুল আলীম মিঠু ও তার স্ত্রী বাসায় ওঠেন।

এজন্য ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বাসা ভাড়ার চুক্তিপত্র সম্পাদন করা হয়। কিন্তু ওই চুক্তি গত বছরের ডিসেম্বরের ৩১ তারিখ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত বাসা ছেড়ে দেননি ভাড়াটিয়া মিঠু ও তার পরিবার। এমনকি সাত মাস ধরে বকেয়া ভাড়া পরিশোধে অস্বীকৃতি জানিয়ে নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছেন তারা।

তিনি অভিযোগ করেন, মিঠু এক সময় মিঠাপুকুর থানার মামলা লেখালেখি ও দালালি করতেন। সেই প্রভাবে মিঠুর লেলিয়ে দেয়া বাহিনী আমাকে অব্যাহত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ তাকে বাসা ছাড়ার কথা বলার পরও ছাড়েননি। তার হুমকিতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে নিরাপত্তাহীনতার কারণে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। বাসা ভাড়া দিয়ে ঘরছাড়া হয়েছি।

ভাড়াটিয়ার মিঠুর দখলে থাকা বাসা উদ্ধারে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি, পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল আলীম মিঠু বলেন, ওই শিক্ষক দম্পতি বাসার মালিক নন। আমি ভাড়া থাকি না। এই বাড়ি আমার, নিজের সম্পত্তিতে বাড়ি করেছি। এ ব্যাপারে আদালতে মামলা বিচারাধীন।