মেসির মতো পায়ে টেপ পেচিয়ে দেশের জন্য লড়বেন তামিম

এখন তামিম ইকবালের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ বিশ্রামে থাকা। তবে পয়েন্টের হাতছানি বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ককে বাধ্য করছে বিকল্প ভাবতে। আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের সুপার লিগের অংশ বলে কথা। তাই পায়ে টেপ পেচিয়ে, যতটা সম্ভব নিরাপদে থেকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে খেলবেন তামিম।

বাংলাদেশের অধিনায়ক তামিম ইকবাল মনে করিয়ে দিয়েছে আর্জেন্টিনার অধিনায়কের মেসিকে। দলের সর্বোচ্চ অর্জনের লক্ষ্যে কোপার ফাইনালের দিন ইনজুরি আক্রান্ত থেকেও খেলেছেন। সেমিতে তার রক্তাক্ত পা নিয়ে দৌড়ানোর দৃশ্য দেখেছে গোটা বিশ্ব। এমনকী কোচ স্কালোনি ১৫ তম কোপা জয়ের পর বলেছিলেন শেষ দুই ম্যাচ পায়ের চোট নিয়ে খেলে গেছেন মেসি।

অন্যদিকে বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান তামিম হাঁটুর চোটের কারণে সফরের একমাত্র টেস্টে খেলতে পারেননি। ব্যথা এখনও আছে, অস্বস্তি তো আছেই। কিন্তু এই ইনজুরি আক্রান্ত পা নিয়েও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পয়েন্ট তোলার লড়াইয়ে লড়ে যেতে চান তামিম।

টেস্টে খেলা অনিশ্চিত জেনেই অবশ্য জিম্বাবুয়ে গেছেন তামিম। তার মূল লক্ষ্যই ছিল ওয়ানডে সিরিজে খেলা। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচ বলেই খেলতে মরিয়া তিনি। টেস্ট ম্যাচের এই কদিন পুরোপুরি বসে থাকেননি তামিম। রানিং, স্ট্রেচিং, টুকটাক ক্যাচিং অনুশীলন করেছেন। তারপরও জড়তা যতটুকু আছে, প্রস্তুতি ম্যাচে তা কাটিয়ে উঠতে চান তিনি।

তামিম বলেন, “ওয়ানডে সিরিজ আশা করি খেলতে পারব। যতটা নিরাপদে থেকে পারা যায়, চেষ্টা করব সেভাবে খেলার। তারপর খেলার মধ্যে কিছু হয়ে গেলে তো অন্য ব্যাপার। তবে এখন যে অবস্থা, তাতে ম্যানেজ করতে পারব। তার আগে প্রস্তুতি ম্যাচটা খেলব। সেখানেও অনেকটা বুঝতে পারব। আশা করি, সব ঠিকঠাক হবে।”

এই নিরাপদে থাকার অংশ হিসেবেই পায়ে টেপ পেচিয়ে খেলবেন তিনি। প্রস্তুতি ম্যাচে সেটার মহড়াও হয়ে যাবে। হাঁটুর এই চোটের কারণে গত মাসে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ টি-টোয়েন্টির সুপার লিগে খেলেননি তামিম। জিম্বাবুয়ে সফরেও যান ব্যথা নিয়েই। টেস্টের আগে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিনে ব্যাটিং করেননি তিনি। দ্বিতীয় দিনে শেষ বিকেলে আধ ঘণ্টার মতো সময় কাটান উইকেটে। তবে ওই ইনিংসের পথে একটি রান নেওয়ার চেষ্টায় আবার বেড়ে যায় তার ব্যথা।

ওয়ানডে সিরিজের জন্যও তার মূল ঝুঁকির জায়গা রানিং। সেখানেই সতর্ক থাকতে হবে তাকে। ওয়ানডে সিরিজ ভালোভাবে শেষ করতে পারলেও এরপর তার দেশে ফিরে আসা নিশ্চিত। খেলতে পারবেন না টি-টোয়েন্টি সিরিজে। দেশে ফিরে শুরু হবে তার বিশ্রাম পর্ব, এই চোট থেকে সেরে ওঠার যা আপাতত একমাত্র দাওয়াই।