আমার সামনে ব্রাজিলকে ছোট কোরো নাঃ সতীর্থকে মেসি

অবশেষে ২৮ বছর অপেক্ষার পর পাওয়া পরম আরাধ্য এক শিরোপা। আর্জেন্টিনায় এখন খুশির জোয়ার। আবেগ বাঁধ না মানাই স্বাভাবিক। দলের মিডফিল্ডার রদ্রিগো দি পলও আবেগে লাগাম দিতে পারেননি। আর্জেন্টিনার হয়ে বাতিস্তুতা-সিমিওনেরা সেই ১৯৯৩ সালে যখন মহাদেশসেরা হয়েছিলেন, দি পলের তখন জন্মও হয়নি। সমর্থক হিসেবে হোক বা খেলোয়াড় হিসেবে, দলের সাফল্য দেখেননি কখনো।

এদিকে কোপা আমেরিকা জেতার পর উচ্ছ্বসিত দি পলের হয়তো স্বাভাবিক জ্ঞান একটু হলেও লোপ পেয়েছিল। শিরোপা নিয়ে উদ্‌যাপন করতে গিয়ে ব্রাজিলকে টেনে আনতে চাইছিলেন। কোপার ফাইনাল দেখতে সাড়ে ছয় হাজারেরও বেশি দর্শককে ঢুকতে দেওয়া হয়েছিল মারাকানায়, যাঁদের অধিকাংশই ছিলেন ব্রাজিল–সমর্থক।

ভাঙা হৃদয় নিয়ে দেখেছিলেন আর্জেন্টাইনদের শিরোপা উৎসব। এই অবস্থায় তাঁদের কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দেওয়ার যাবতীয় বন্দোবস্ত করে ফেলেছিলেন দি পল। উদ্‌যাপন করতে গিয়ে ব্রাজিলবিদ্বেষী এক গান গাইতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু মেসি সেটা হতে দেবেন কেন! আঙুল উঁচিয়ে দি পলকে সতর্ক করে দিয়েছেন মেসি,

যেন ব্রাজিলের দর্শকদের সামনে তাঁদের দেশকে হেয় করে কোনো গান গাওয়া না হয়। ফুটবলের জয়-পরাজয় মাঠেই থাকুক, সেটার ওপর ভিত্তি করে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের জায়গাটুকু যেন নষ্ট না হয়, সে দিকে সতর্ক ছিলেন মেসি। দি পলকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘আমার চোখের সামনে এসব গাওয়া যাবে না!’

এদিকে ভিডিওটা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এর মধ্যেই। অধিনায়ক হিসেবে মেসির সুনাম চলছে সব জায়গায়। শুধু মেসিই নন, দি পলকে সেই গান গাইতে মানা করেন আরেক সিনিয়র সতীর্থ সের্হিও আগুয়েরোও। মাঠে দর্শকদের সামনে না গাইলেও ড্রেসিংরুমে দি পলকে আটকে রাখা যায়নি। সতীর্থদের সঙ্গে ওই গান গেয়েছেন, তালে তালে নেচেছেন। সে ভিডিওতে অবশ্য মেসিকে অংশ নিতে দেখা যায়নি।