লবণে কারসাজি করলে শাস্তি

এবারের ঈদুল আজহায় বাজারে লবণের কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে, লবণের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করলে বা দাম বাড়ানোর চেষ্টা করলে জড়িতদের জেল-জরিমানা করা হবে। শুধু তা-ই নয়, লবণের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এমন কোনো কাজ বা চেষ্টা করলেও একই শাস্তির আওতায় আনা হবে। শাস্তি বাস্তবায়নে মোবাইল কোর্ট থাকবে। গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়ে এসব নির্দেশ পাঠানো হয়েছে বলে শিল্প মন্ত্রণালয়ের বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই নির্দেশ সামনে রেখে গতকালই সারা দেশে ঈদুল আজহায় ন্যায্য মূল্যে লবণের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং এ বিষয়ে সব ধরনের অনিয়ম চিহ্নিত করতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠান বিসিকের (বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন) প্রধান কার্যালয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। এসব কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতি জেলায় জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে জেলা পর্যায়ের বিসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে সদস্যসচিব করেও একটি করে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মনিটরিং সেলে ০১৭২২২০২৯৪০সহ আরো মোবাইল নম্বর থাকছে। এসব নম্বরে ঈদুল আজহায় লবণের সরবরাহ, বিক্রি, মজুদ বা এসংক্রান্ত যেকোনো অনিয়মের খবর জানানো যাবে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিকে এবং জেলা পর্যায়ের বিসিক অফিসেও এসব অনিয়মের কথা জানানো যাবে। অনিয়মের খোঁজ পাওয়ার পর নিকটবর্তী স্থানে যে মোবাইল কোর্ট থাকবে তাদের মনিটরিং সেল বা জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি জানাবে।

মোবাইল কোর্ট অতি দ্রুত সেখানে উপস্থিত হয়ে অনিয়মে জড়িতকে বা জড়িতদের জেল-জরিমানার মতো শাস্তিরও আওতায় আনবে। শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ ছয় মাস এবং পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। তবে মোবাইল কোর্ট প্রয়োজনে শাস্তির পরিমাণ আরো বাড়াতে পারবে। বিসিকের চেয়ারম্যান মো. মোস্তাক হাসান এনডিসি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এবার ঈদুল আজহায় লবণ নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম করার সুযোগ দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে আছে।’

প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আসন্ন ঈদুল আজহায় সারা দেশে এক কোটি ১৯ লাখ কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে। এর মধ্যে ৪৫ লাখ গরু ও মহিষ এবং ৭৩ লাখ ভেড়া ও ছাগল। শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়া প্রক্রিয়াকরণে সারা দেশে নিয়মিত চাহিদার পাশাপাশি বাড়তি ৮২ হাজার থেকে এক লাখ টন লবণের প্রয়োজন হয়। এরই মধ্যে উপজেলা পর্যায়ের ডিলারদের কাছে এক লাখ ১০ হাজার টন লবণ পাঠানো হয়েছে। সারা দেশে ১৮৫টির মতো লবণের মিল আছে।

এসব মিল থেকে শিল্প ও ভোজ্য লবণ সরবরাহ করা হয়। শিল্প মালিকরা নিজস্ব ডিলারের মাধ্যমে লবণ সরবরাহ করেন। ডিলাররা পাইকারি পর্যায়ে লবণ সরবরাহ করেন। এবার বিসিক থেকে কোরবানির পশুর চামড়ায় ব্যবহারে পাইকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি শিল্প লবণের দাম ১২ টাকা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। গত বছরও একই দর ছিল। গত তিন বছর এ দেশে সরকারিভাবে লবণ আমদানির অনুমতি না থাকলেও অনেকে কারখানায় কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারের কথা বলে মিথ্যা তথ্যে লবণ আমদানি করে বাজারে কম দামে বিক্রি করে। এতে দেশি লবণশিল্প অসম প্রতিযোগিতায় পড়ে।

বিসিকের মহাব্যবস্থাপক (সম্প্রসারণ) সরোয়ার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এবার ঈদুল আজহায় কঠোর নজরদারি করা হবে। অনেকে শিল্প-কারখানার কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারের কথা বলে মিথ্যা তথ্যে লবণ আমদানি করে বাজারে ছাড়ে। অনেকে ঈদুল আজহার চাহিদা সামনে রেখে সিন্ডিকেট করে আগেই কম দামে লবণ কিনে মজুদ করে রাখে। ঠিক পশু কোরবানি হওয়ার পর বাজারে লবণের তীব্র সংকট তৈরি করে। চাহিদা যখন বাড়তে থাকে, তখন বেশি দামে লবণ বিক্রি করে থাকে।

লবণের অভাবে চামড়া নষ্ট হয়ে যেতে থাকে। ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়েই বেশি দাম দিয়ে লবণ কেনে। এবার এসব অনিয়ম রোধে কঠোর নজরদারি করা হবে।’ চলতি অর্থবছরে সারা দেশে লবণের চাহিদা গড়ে ১৯ লাখ টন। এর মধ্যে শিল্প লবণ ৯ লাখ টন এবং ভোজ্য লবণ ১০ লাখ টন। এ বছর দেশে লবণ উৎপাদিত হয়েছে ২০ লাখ টন। গত বছর লবণের চাহিদা ছিল ১৮ লাখ টন। গত বছর উৎপাদিত হয়েছে ১৯ লাখ টন।