মুমিনের যেসব গুণে জীবন সুন্দর হয়

একজন মুসলমান অন্য মুসলমানের প্রতি ভ্রাতৃত্বের হাত বাড়াবে, বিপদে-আপদে একে অন্যকে সহযোগিতা করবে, কল্যাণ কামনা করবে, সৎকাজের আদেশ দেবে, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে, প্রয়োজনে তার পাশে দাঁড়াবে—এমন নির্দেশনা দেয় ইসলাম। ইসলামের বিধি-বিধানগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা য়ায়, কিছু কাজ করলে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় হয় এবং এ সম্পর্ক আরো গভীর ও মজবুত হয়। ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় ইসলাম কিছু কাজকে নিষেধ করেছে আর কিছু কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। যেমন—

হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ না করা : হিংসা আগুনের মতো সৎকাজকে পুড়িয়ে ফেলে। এটি শত্রুতা বাড়ায়। রাসুল (সা.) বলেন, তোমরা পরস্পর মনে বিদ্বেষ পোষণ কোরো না, পরস্পর হিংসা কোরো না। একে অন্যের বিরুদ্ধাচরণ কোরো না, তোমরা সবাই আল্লাহর বান্দা ভাই ভাই হয়ে যাও।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬০৬৫)

গালিগালাজ না করা : ইসলামে কাউকে গালিগালাজ করা হারাম। মহানবী (সা.) বলেন, ‘কোনো মুসলমানকে গালি দেওয়া ফাসেকি এবং হত্যা করা কুফরি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬০৪৪) ঠাট্টা-বিদ্রুপ না করা : ঠাট্টা-বিদ্রূপ করলে বা উপহাস করলে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা, তোমাদের কেউ যেন অপর কাউকে উপহাস না করে।

কেননা সে উপহাসকারী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে এবং কোনো নারী অন্য নারীকেও যেন উপহাস না করে। কেননা, সে উপহাসকারিণী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ হতে পারে। তোমরা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করো না এবং একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না, ঈমান আনার পর কাউকে মন্দ নামে ডাকা গুনাহ। যারা এ রকম কাজ থেকে তাওবা না করে তারাই অবিচারকারী।’ (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১১)

পরনিন্দা না করা : গিবত বা পরনিন্দা করা হারাম ও নিষিদ্ধ। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, তোমাদের কেউ যেন কারো গিবত না করে। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে? এটাকে তো তোমরা ঘৃণা করো। তোমরা আল্লাহকে ভয় কোরো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু। (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১০)

সম্পর্ক ছিন্ন না করা : ইসলামী শরিয়ত অনুমোদিত কারণ ছাড়া কোনো মুসলমানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হারাম। রাসুল (সা.) বলেন, কোনো মুসলমানের জন্য তার ভাইকে তিন দিনের বেশি ত্যাগ করা বৈধ হবে না। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬০৬৫)

সালাম দেওয়া : মুসলিমসমাজে পরস্পর অভিবাদনের মাধ্যম সালাম। সালাম রাসুল (সা.)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। রাসুল (সা.) বলেন, আমি কি তোমাদের এমন একটি কাজের কথা বলব না, যা করলে তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা সৃষ্টি হবে? তা হলো, তোমরা পরস্পর বেশি বেশি সালাম বিনিময় করবে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৯৮)

হাসিমুখে কথা বলা : নবীজি (সা.) সব সময় হাসিমুখে কথা বলতেন। হাসিমুখে কথা বলা সুন্নত। রাসুল (সা.) বলেন, ‘প্রত্যেক ভালো কাজ সদকাস্বরূপ। আর এটিও ভালো কাজের অন্তর্ভুক্ত যে তুমি তোমার ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করবে। (তিরমিজি, হাদিস : ১৯৭০)

প্রয়োজন পূরণ করা : নবীজি (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের কোনো প্রয়োজন পূরণ করে, আল্লাহ তাআলাও তার প্রয়োজন পূরণ করেন। যে ব্যক্তি তার কোনো মুসলমান ভাইয়ের পার্থিব কষ্টগুলোর মধ্য থেকে একটি কষ্ট দূর করে দেবে, আল্লাহর তাআলা কিয়ামতের দিন তার ওপর থেকে একটি বড় কষ্ট দূর করে দেবেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৪৪২)

দোয়া করা : দোয়া মুমিনের হাতিয়ার। একজন মুসলমানের উচিত অন্য মুসলমানের জন্য কল্যাণের দোয়া করা। রাসুল (সা.) বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি যখন তার অন্য ভাইয়ের জন্য তার অনুপস্থিতিতে দোয়া করে তখন ফেরেশতারা তার দোয়ায় আমিন বলে এবং তার জন্য অনুরূপ দোয়া করে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১৫৩৪)