ভাতাভোগীদের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে দুস্থ, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও বিধবা ভাতার টাকা একটি চক্র হাতিয়ে নিচ্ছে। টাকা না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন ভাতাভোগীরা। কোরবানি ঈদের সামনে উপকারভোগীরা ভাতার টাকা না পেয়ে ইউএনও অফিস ও সোনালী ব্যাংকের সামনে ধর্ণা দিয়ে কান্নাকাটি করে নিরুপায় হয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন। অনেকেই এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে জানা যায়, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সোনালী ব্যাংক বাজার শাখায় ৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বয়স্ক ভাতা ৪ হাজার ৪৭৭ জন তিন মাস পরপর ১৫শ টাকা করে বিধবা ভাতা ১ হাজার ৫৭৫ জন তিন মাস পরপর ১৫শ টাকা এবং প্রতিবন্ধী ৯৭৮ জন তিন মাস পরপর ২ হাজার ২০০ টাকা করে ভাতা উত্তোলন করে আসছিলেন। ভাতাভোগীরা এতদিন সোনালী ব্যাংক থেকেই ভাতা টাকা উত্তোলন করত।

সরকার ঘোষিত সমাজসেবা অফিস কর্তৃক ভাতাভোগীদের ভাতা বই ডিজিটালাইজেশন অর্থাৎ এমআইএস এন্ট্রি করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদে ভাতা বই, ভাতাভোগীর মোবাইল নম্বর এবং এনআইডি কার্ড জমা প্রদান করা হয়। কিন্তু এমআইএস এন্ট্রি করার সময় ভাতাভোগীদের প্রদানকৃত মোবাইল নম্বর বাদ দিয়ে ভুল নম্বর এন্ট্রি করে। পরবর্তীতে নগদ কোম্পানির লোকজন পরিচয়ে ভাতাভোগীদের কাছে ১শ টাকা নিয়ে নতুন করে সিম দিয়েছে।

সমাজসেবা অফিস মোবাইল ব্যাংক নগদের মাধ্যমে সরাসরি ভাতা এর টাকা উপকার ভোগীদের মোবাইলে সেন্ট করেন। কিন্তু ভাতা ভোগীর মোবাইলে টাকা থাকাকালে একটি চক্র অটো ক্যাশআউট করে নেয়। পরবর্তীতে যে নম্বরে ক্যাশআউট হয়েছে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ভাতাভোগীরা নগদ এজেন্টের কাছে টাকা তোলার জন্য আসলে ফাঁস হয়ে যায় টাকা তোলার ঘটনা।

এ ব্যাপারে চর ভবসুর গ্রামের মমতাজ আলী বয়স্ক ভাতার টাকা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের টাকা তুলতে এজেন্টের কাছে গেলে তাকে জানানো হয়, ৩ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। তার অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা নেই। বিষয়টি তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকেও জানিয়েছে। জানা গেছে. মোবাইল এজেন্টরা অ্যাকাউন্ট খোলার সময় গোপন পিন নম্বর জেনে নেয়। সকল পিন নম্বর প্রায় একই। গত ২৮ ও ২৯ জুন তারিখের মধ্যেই টাকাগুলো হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

গুজিমারী গ্রামের পানফুল ভিক্ষা করে সংসার চালান। তার মোবাইল অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা পাওয়ার কথা। মোবাইলে টাকা না পেয়ে চিৎকার করে কান্না করে বলেন, আমার এক ছেলে পাগল, সংসারে আয়ের কেউ নাই। সরকার আমাকে টাকা দিল, সেই টাকা গেল কই। আমার সংসার এখন ক্যামনে চলবে। এ সময় তার পাশে থাকা প্রতিবন্ধী ইলমা, জরিনা, বিধবা সালেহাও বিলাপ করে কান্না করছিলেন।

দেওয়ানগঞ্জের পৌরসভাসহ ৪ ইউনিয়ন ছাড়াও উত্তরের ডাংধরা, পাররামরামপুর, চর আমখাওয়া, হাতীভাঙ্গা ইউনিয়নেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলেও ভাতাভোগীরা জানান। এ ব্যাপারে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম আব্দুল্লাহ বিন রশিদ বলেন, ভাতাভোগীদের মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্টের বর্তমান পিন নম্বর পরিবর্তন করতে হবে এবং পিন কারো কাছে শেয়ার করা যাবে না। যে সমস্ত এজেন্টরা দুস্থ মানুষের টাকা তুলে নিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগীদের থানায় জিডি করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।