লিটনের চার সেঞ্চুরির তিনটিই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে

২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর। সংযুক্ত আরব আমিরাতে এশিয়া কাপের মঞ্চে ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ। দলের মহাবিপদের মাঝে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করেছিলেন লিটন দাস। ৪০ ওভার পর্যন্ত ব্যাট করে ১১৭ বলে ১২১ রান করেন তিনি। শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ৩ উইকেটে হেরে যায় বাংলাদেশ। সেই লিটন আজ পর্যন্ত ৪৫টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ফেলেছেন। সেঞ্চুরির সংখ্যা ৪টি। এর মাঝে তিনটি এসেছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। জিম্বাবুয়েকে পেলেই যেন জ্বলে ওঠেন লিটন।

গত বছরের মার্চে বাংলাদেশ সফরে এসেছিল জিম্বাবুয়ে। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের সবকটি খেলাই হয় সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে। প্রথম ম্যাচেই লিটন পেয়ে যান ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। ১০৫ বলে ১৩ চার ২ ছক্কায় অপরাজিত ১২৬* রান করে অবসর নেন লিটন। পরের ম্যাচে আউট হন ৯ রান করে। শেষ ম্যাচে আবার তিনি জ্বলে ওঠেন। মারকাটারি ব্যাটিংয়ে করেন ১৪৩ বলে ১৬ চার ৮ ছক্কায় ১৭৬ রানের ইনিংস। খেলেন নয়নাভিরাম সব শট। এতে ভেঙে যায় তামিম ইকবালের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ড।

বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান এখন লিটনের। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড আর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিনটি সিরিজে লিটনকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। ৮ ইনিংসে করেন ১০১ রান! এর মাঝে একটাও ফিফটি ছিল না; বরং ‘ডাক’ ছিল ৩টি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতে তো বাদই পড়ে যান। আজ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে আবার তিনি সুযোগ পান একাদশে। মাঠে নেমে নির্বাচকদের আস্থার প্রতিদান দিতে কার্পণ্য করেননি। প্রিয় পজিশন ওপেনিংয়ে নেমেই হাঁকান সেঞ্চুরি।

৭৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে দল যখন ধুঁকছিল, তখন শক্ত হাতে হাল ধরেন লিটন। ঠাণ্ডা মাথায় দলকে এগিয়ে নিয়ে যান। ১১৪ বলে খেলেন ১০২ রানের ইনিংস। তার মতো মারকাটারি ব্যাটসম্যান আজ হাঁকিয়েছেন মাত্র ৮টি বাউন্ডারি। কোনো ওভার বাউন্ডারি নেই। ৭৮ বলে করেন পঞ্চাশ। পরের পঞ্চাশ করেন মাত্র ৩২ বলে। তাই অনেকেই আজকের ইনিংসকে লিটনের সেরা ইনিংসও বলছেন। লিটনের এই জ্বলে ওঠা যদি ধারাবাহিক হয়- তাহলে বাংলাদেশ ক্রিকেটরই লাভ।