বিশ্বকে ‘ভ’য়ং’ক’র’ ‘অ’স্ত্র’ দেখালো উত্তর কোরিয়ার

এই মহা’মারি করো’নাকালীন সময়ে শনিবার মধ্য রাতে সারা দুনিয়াকে বেশ চমকে দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। এদিন ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার মধ্যরাতের পরপরই পিয়ংইয়ংয়ে যে সামরিক কুচকাওয়াজ হয়েছে তা নজিরবিহীন।

প্রচুর মানুষের অংশগ্রহণে কোনো ভুলভ্রান্তি ছাড়াই যে চোখধাঁধানো কুচকাওয়াজ হয়েছে, তেমন অনুষ্ঠান আয়োজনে উত্তর কোরিয়ার জুড়িমেলা ভার। চেয়ারম্যান কিম জং উন অনুষ্ঠানে আবেগে মোড়া একটি ভাষণ দিয়েছেন। তার দেশের সংগ্রামের ইতিহাসের কথা বলতে গিয়ে কয়েকবার তিনি চোখ মুছেছেন।

কিন্তু নতুন একটি আন্তমহাদেশীয় দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) উন্মোচন ছিল শনিবার মধ্যরাতের জমকালো ওই অনুষ্ঠানের প্রধান বিস্ময়। এর আগে দু’হাজার ২০ সালের ১ জানুয়ারিতে কিম জং উন তার নতুন বছরের ভাষণে ঘোষণা করেছিলেন, উত্তর কোরিয়া এমন সব অত্যাধুনিক ‘অ’স্ত্র’ তৈরি করছে যা শুধু “গুটিকয়েক আধুনিক রাষ্ট্রের হাতে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নতুন হুমকি

উত্তর কোরিয়া এর আগেই দুটো আইসিবিএম পরীক্ষা করেছে। ২০১৭ সালে দুই বার তারা হুয়াসং-১৪ পরীক্ষা করে। পার’মাণ’বিক ‘বো’মা’বহনে সক্ষম এই ‘ক্ষে’প’ণা’স্ত্র’ ১০ হাজার কিমি (৬২১৩ মাইল) দূরের লক্ষ্যবস্তু আ’ঘা’ত’ করতে সক্ষম।

তার অর্থ, পুরো পশ্চিম ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের অর্ধেক এখন কোরীয় এই ‘পা’র’মা’ণ’বি’ক ‘ক্ষে’প’ণা’স্ত্রে’র’ আওতায়।

ওই একই বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালে উত্তর কোরিয়া তাদের আরেকটি ‘পা’রমা’ণ’বি’ক’ ‘ক্ষেপ’ণা’স্ত্র ‘হুয়াসং-১৫ পরীক্ষা করে যার পাল্লা ১৩ হাজার কিলোমিটার। অর্থাৎ এটি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের যে কোনো স্থানে আ’ঘা’ত করতে সক্ষম।

শনিবার রাতে নতুন যে আইসিবিএমটি প্রদর্শন করা হয়েছে সেটির পরীক্ষা এখনো হয়নি। তবে এটিও দুই-ধাপ বিশিষ্ট তরল-জ্বা’লানি চালিত ‘ক্ষে’প’ণা’স্ত্র’, কিন্তু দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থে এটি হুয়াসং-১৫’র চেয়ে এটি অনেকটাই বড়।

এটির পাল্লা কত অর্থাৎ কত দূরের লক্ষ্যবস্তু এটি আ’ঘা’ত করতে সক্ষম তা এর য’ন্ত্রের প্রযুক্তি তা না জানলে বা পরীক্ষা না করা পর্যন্ত বলা যাবে না।কিন্তু এই নকশা দেখে উত্তর কোরিয়ার লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য পরিষ্কার বোঝা যায়: ‘ক্ষে’প’ণা’স্ত্রে’র’ পাল্লা বাড়ানোর কোনো প্রয়োজন তাদের আর নেই। বদলে, তারা এখন চেষ্টা করছে একটি ‘ক্ষে’প’ণা’স্ত্রে’ একাধিক পার’মা’ণ’বি’ক ‘বো’মা’ বসানোর প্রযুক্তির প্রয়োগ।

এর সাফল্য যুক্তরাষ্ট্রের ‘ক্ষে’প’ণা’স্ত্র’ প্রতি’রক্ষা ব্যবস্থার জন্য নতুন মাথাব্যথা তৈরি করবে, কারণ একটি ‘পা’র’মা’ণ’বি’ক’ ‘বো’মা’কে’ প্রতিরোধের জন্য এমনিতেই একই সঙ্গে অনেক ‘ক্ষে’প’ণা’স্ত্র’ ছুড়তে হয়। এখন যদি উত্তর কোরিয়া একটি ‘ক্ষে’প’ণা’স্ত্রে’ একাধিক ওয়ারহেড বা ‘বো’মা’ স্থাপনে সক্ষম হয় তা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও চাপে ফেলবে।

নতুন যে আইসিবিএম উত্তর কোরিয়া প্রদর্শন করেছে, তার নকশা দেখে ধারণা করা শক্ত যে কখন এটি পরীক্ষা করা হবে বা মোতায়েন করা হবে। তবে, যেসব ট্রাকের ওপর সেটি বহন করা হয়েছে, তা বাড়তি উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। কোনো পার’মা’ণ’বিক ‘যু’দ্ধে’ লি’প্ত হওয়ার জন্য এখনও যেটি উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে দুর্ব’লতা তা হলো যথেষ্ট লঞ্চার বা উৎক্ষেপকের অভাব।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্যমতে, উত্তর কোরিয়ার ছয়টি লঞ্চার রয়েছে যা থেকে তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পাল্টা আ’ঘা’ত আসার আগে বড়জোর ১২টি আইসিবিএম উৎক্ষেপণে সক্ষম।২০১০ সালে উত্তর কোরিয়া গোপনে চীন থেকে ছয়টি WS51200 হেভি-ডিউটি ট্রাক আমদানি করে। তারপর তাতে হাইড্রোলিকস প্রযুক্তি প্রয়োগ করে সেগুলোকে চলমান ‘ক্ষে’প’ণা’স্ত্র’ উৎক্ষেপণ উপযোগী লঞ্চারে পরিণত করে।

সে ধরনের ট্রাকের ওপরেই নতুন ওই ‘ক্ষে’প’ণা’স্ত্র’গু’লো’ শনিবার রাতের প্যারেডে বহন করা হয়েছে, কিন্তু এই প্রথম ছয়টিরও বেশি তেমন ট্রাক চোখে পড়ল। অর্থাৎ, উত্তর কোরিয়া হয়তো এখন নিজেরাই নিজেদের মতো করে এসব ট্রাক তৈরি করতে সমর্থ হচ্ছে বা জোগাড় করতে পারছে।

সুতরাং এটা পরিষ্কার যে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়া এখনও হেভি-ডিউটি ‘ক্ষে’প’ণা’স্ত্র’ উৎক্ষেপকের যন্ত্রপাতি জোগাড় করতে এবং এমনকি নিজেরাই হয়তো ‘উ’ৎ’ক্ষে’পক তৈরি করতে সক্ষম হচ্ছে।উত্তর কোরিয়ার নতুন আইসিবিএম বাকি বিশ্বের জন্য একটিই বার্তা দিচ্ছে- তাদের রাষ্ট্র, নেতৃত্ব এবং তাদের মানুষের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে যেন খাটো করে না দেখা হয়।