‘কাদের মির্জা আ.লীগকে ধ্বংসের নিল নকশায় মেতে উঠেছেন’

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের মুখপাত্র মাহবুবুর রশীদ মঞ্জু বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জাকে উদ্দেশ করে বলেছেন, একের পর এক নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে আওয়ামী লীগকে ধ্বংসের নীল নকশায় মেতে উঠেছেন কাদের মির্জা। আজকে মেতে উঠেছেন নির্লজ্জ চাঁদাবাজিতে। তিনি বলেন, এখানকার টিআর কাবিখা,

কাবিটা, সব তার পেটের মধ্যে। এখানে মন্ত্রীর তরফ থেকে দেওয়া সব অনুদানের টাকা তার পেটের মধ্যে। এখানকার উন্নয়নমূলক কাজ থেকে পিসির টাকা তিনি একবারের জায়গায় দুইবার নিয়েছেন। নিয়ম বহির্ভূতভাবে এলজিআরডি, সড়ক ও জনপথ, ফ্যাসিলিটিজ বিভাগের কাজের আগে পিসি নিয়েও কাজ চলা অবস্থায় শেষপর্যায়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।

আবার টাকা নিয়ে এখানে তাদের কাজ করতে দেওয়া হয়েছে। এভাবে আজকে কোম্পানীগঞ্জের মানুষ বসুরহাট বাজরে উঠে না। অনেক ব্যবসায়ী বসুরহাট থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে চলে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় কোম্পানীগঞ্জ অবরুদ্ধ, অবরুদ্ধ গণতন্ত্র, অবরুদ্ধ আওয়ামী লীগ, আজকে ক্ষতির মুখে দলটি।

রোববার দুপুরে নোয়াখালী-৫ আসনের সাবেক এমপি আবু নাছের চৌধুরীর বাড়িতে কাদের মির্জার নির্দেশে তার অনুসারীদের হামলার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। মুখপাত্র মঞ্জু বলেন, আবু নাছের চৌধুরীর বাড়িতে পুলিশের সামনে গুলি করা হয়েছে। সেখানে পুলিশ কোনো সন্ত্রাসীকে আটক করেনি।

সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলকে আব্দুল কাদের মির্জার নেতৃত্বে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তার হাত-পা ভেঙে দিয়েছে। হাজার হাজার মানুষ দেখেছেন। কিন্তু প্রশাসন আজকে পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা নেয়নি। কারণ মামলা থেকে তাদের বাপ, ছেলে, ভাইসহ তিনজনকে মামলা থেকে বাদ দিতে হবে। কাকে মামলার আসামি করব, কাকে মামলার আসামি করব না, সেটা মামলার বাদী বুঝবে।

তিনি বলেন, প্রশাসন কাউকে নির্ধারণ করে দেওয়ার আইন বাংলাদেশের সংবিধানে আছে কিনা? এখানকার প্রশাসন পক্ষপাতমূলক। এখানকার প্রশাসনকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হোক, না হলে ঈদের পর কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা আমাদের দাবি প্রতিষ্ঠা করব।

এখানে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ। আমরা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে কাজ করি। কিন্তু এ অপরাজনীতির হোতার কারণে সব কর্মকাণ্ড বিঘ্নিত হচ্ছে। এ অপরাজনীতির হোতা নেতা, আমলা, মন্ত্রী কারো ইজ্জত সম্মান রাখেনি।

তিনি আরও বলেন, কাদের মির্জা কখন আওয়ামী লীগ করেন, কখন পদত্যাগ করেন এটার কোনো ঠিক নেই। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ কাদের মির্জাকে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রের কাছে সুপারিশ পাঠিয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পদ থেকে কাদের মির্জাকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করতে হবে। অন্যথায় ঈদের পরে আমরা কঠিন আন্দোলনে নামব।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী প্রমুখ।