হত্যার পর স্বামীর লাশ বালু চাপা দেয় স্ত্রী !

মোবাইল ফোনে পরিচয় থেকে প্রেম। তারপর জড়ান অনৈতিক সম্পর্কে। নিজ বয়সের ছয় বছরের ছোট প্রেমিকের সঙ্গে সংসারের পরিকল্পনা থেকে স্বামী সেলুন কর্মী জাহিদুল ইসলামকে হত্যার পরিকল্পনা করে স্ত্রী রুপালী খাতুন। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৬ জুলাই রাতে রুপালী স্বামী জাহিদুলকে ঘুমের ওষুধ মিশানো দুধ খেতে দেন। অচেতন হয়ে পড়লে প্রেমিক সুজন হাত-পা চেপে ধরেন। আর মুখে বালিশ চাপা দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন স্ত্রী। পরে দুইজনে মিলে লাশ ভাড়া বাসার পাশের নির্মানাধীন ভবনে বালুচাপা দেয়।

গতকাল শনিবার রাতে রুপালী খাতুন (২৫) ও তার পরোকিয়া প্রেমিক সুজন মিয়া (১৯) গ্রেপ্তার করে জাহিদুল হত্যা রহস্য উদঘাটন করেছে গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর থানার পুলিশ। রুপালী কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী থানার বড়াইকান্দি গ্রামের শুকুর আলী দেওয়ানীর মেয়ে আর প্রেমিক সুজন জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ থানার নীলেরচর গ্রামের নজরুল ইসলাম সরকারের ছেলে।

নিহত জাহিদুল ইসলাম (৩০) কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী থানার চর বোয়ালমারী গ্রামের আব্দুল বারেকের ছেলে। স্ত্রীকে নিয়ে তিনি গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুরের শৈলডুবি এলাকায় ভাড়া থাকতেন। ১০দিন ধরে নিখোজ থাকার পর গত শুক্রবার তার গলিত লাশ বালু থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। তার নিখোঁজের ঘটনায় থানায় সাধারন ডায়রীও করেন স্ত্রী রুপালী।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (অপরাধ উত্তর) জাকির হাসান জানান, রুপালীর সঙ্গে প্রেমিক সুজন মিয়ার বিগত ৮/৯ মাস যাবৎ প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। সুজন টঙ্গী থেকে গার্মেন্টে কাজ করতো। প্রেমের সর্ম্পকের পর এক সন্তানের জননী রুপালী দুইদফা পালিয়ে সুজনের বাড়িতে গিয়ে উঠে। সুজন বুঝিয়ে তাকে ঘরে ফিরিয়ে আনে। কিন্তু এবার স্কামীকে হত্যা করে ঘর বাধার স্বপ্ন থেকেই প্রেমিককে নিয়ে স্বামীকে হত্যা করেছে রুপালী।