আজ পবিত্র হজ

আজ সোমবার শান্তির ধর্ম ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ পবিত্র হজ। আজ আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হওয়ার মাধ্যমে পবিত্র হজ পালন করবেন হাজিরা। মহামারির কারণে দ্বিতীয়বারের মতো এ বছরও সীমিত পরিসরে এর আয়োজন করা হয়েছে।

গত শনিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী হজ। গতকাল রবিবার মিনায় তাঁবুতে অবস্থান করেন হাজিরা। সৃষ্টিকর্তার আনুগত্য ও পাপমুক্তির আশায় তাঁবুর নগরী মিনায় অবস্থান করে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় ও ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল ছিলেন আল্লাহর মেহমানরা।

ধবধবে সাদা দুই টুকরো ইহরাম পরিহিত অবস্থায় আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় মিনা থেকে আজ ভোরে হাজিরা পৌঁছবেন হজের মূল অনুষ্ঠানস্থল আরাফাতের ময়দানে। সেলাইবিহীন শুভ্র কাপড়ে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এখানে সমবেত মুসলমানরা হাজিরা দেবেন।

এ ময়দানে আজ ধ্বনিত হবে ‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্‌দা, ওয়ান্‌নিমাতা লাকা ওয়াল্‌মুল্‌ক্‌, লা শারিকা লাকা’ (আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার)।

হজের তিন ফরজের মধ্যে ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ। হজযাত্রীরা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পবিত্র এ স্থানে অবস্থান করবেন। কেউ পাহাড়ের কাছে, কেউবা ইবাদত করবেন সুবিধাজনক জায়গায় বসে। আরাফাতের মসজিদে নামিরাহ থেকে স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টার পর হজের খুতবা দেবেন মক্কার

মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ ড. বান্দার বিন আবদুল আজিজ বালিলা। এ বছর আরবির পাশাপাশি থাকছে আরও ১০ ভাষার খুতবা। এবারও দ্বিতীয়বারের মতো হজের খুতবা বাংলায় অনুবাদ করা হবে। খুতবা শেষে হাজিরা জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে আদায় করবেন।

সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে আল্লাহর জিকির-আসকারে ব্যস্ত থাকবেন তারা। এর পর হাজিদের গন্তব্য মুজদালিফার দিকে। মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করে সেখানেই রাতযাপন। মুজদালিফা থেকে পাথর সংগ্রহ করে পুনরায় মিনায় ফিরবেন। ১০ জিলহজ সেখানে পৌঁছার পর হাজিদের পর্যায়ক্রমে চারটি কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

প্রথমে মিনাকে ডানদিকে রেখে দাঁড়িয়ে শয়তানকে (জামারা) পাথর নিক্ষেপ করবেন। এর পর দ্বিতীয় কাজ আল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি। তৃতীয় পর্বে মাথা ন্যাড়া। আর চতুর্থ কাজ তাওয়াফে জিয়ারত। হাজিরা মক্কায় ফিরে কাবা শরিফ তাওয়াফ ও সাঈ (কাবার চারদিকে সাতবার ঘোরা ও সাফা-মারওয়া পাহাড়ে সাতবার দৌড়ানো) করে পুনরায় মিনায় ফিরে যাবেন।

১১ জিলহজ সেখানকার খিমায় (তাঁবু) রাতযাপন; দুপুরের পর থেকে সূর্যাস্তের মধ্যে হাজিরা বড়, মধ্যম ও ছোট শয়তানের ওপর সাতটি করে মোট ২১টি পাথর নিক্ষেপ করবেন। এ কাজটি অবশ্য সুন্নত। পর দিন ১২ জিলহজ মিনায় অবস্থান করে পুনরায় একইভাবে তিনটি শয়তানের ওপর নিক্ষেপ করবেন সাতটি করে মোট ২১টি পাথর। এ কাজ শেষ হলে অনেকে সূর্যাস্তের আগেই মিনা ছেড়ে মক্কায় চলে যান।