শিমুলিয়ায় ঘরমুখো যাত্রীর চাপ, পারাপারের অপেক্ষায় ৫ শতাধিক গাড়ি

দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ও বাংলাবাজারঘাটে ঘরমুখো যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।পদ্মায় তীব্র স্রোত থাকায় একদিকে ফেরি চলাচলে সময় লাগছে বেশি, অন্যদিকে ঈদ কেন্দ্র করে শিমুলিয়াঘাটে ব্যক্তিগত গাড়ির বাড়তি চাপ বেড়েছে। ঘাট এলাকায় পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে ছোট-বড় পাঁচ শতাধিক যানবাহন।

সোমবার সকালে সরেজমিন গিয়ে এমন দৃশ্যই চোখে পড়ে। শিমুলিয়াঘাটে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ঘাটের অভিমুখে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে শত শত গাড়ি। এমনকি কিছু গাড়িকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে ২৪-৩০ ঘণ্টারও বেশি সময়।

এক্সপ্রেসওয়ের মাওয়ামুখী লেনে দোগাছি থেকে শ্রীনগর ছনবাড়ির কাছাকাছি কয়েক কিলোমিটার সড়কজুড়ে শত শত গাড়ির সারি। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকা এসব পরিবহনের চালক-শ্রমিকদের পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে। এক্সপ্রেসওয়েতে লেনে পাস দিয়ে চলা অন্যান্য যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

হাসাড়া হাইওয়ে থানার ওসি মো. আফজাল হোসেন বলেন, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে কয়েক শতাধিক গাড়ি ফেরি পারাপারের অপেক্ষা। শিমুলিয়াঘাটে গাড়িরচাপ ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে গাড়িগুলোকে এক্সপ্রেসওয়েতে রাখা হয়েছে। পচনশীল, শিশুখাদ্য ও জরুরি গাড়ি আটকানো হচ্ছে না।

ঘাট থেকে আমাদের জানালে ২০-৩০টি করে গাড়ি সেখানে পাঠানো হচ্ছে। স্বাভাবিক ও নিয়মতান্ত্রিকভাবেই ট্রাকগুলো এখানে রাখা হয়েছে। ফেরি চলাচলে বেশি সময় লাগায় গাড়ি পারাপারে দেরি হচ্ছে। বিআইডব্লিউটিসি শিমুলিয়াঘাটের মেরিন কর্মকর্তা জানান, নদীতে পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে শিমুলিয়া থেকে

বাংলাবাজার ঘাটে যেতে ফেরিগুলোর দ্বিগুণ সময় লাগছে। প্রতিটি ফেরিকে স্রোতের বিপরীতে ও নদীতে ৩-৪ কিলোমিটার অধিক পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে। স্রোতের বিপরীতে চলাচলে সক্ষম না হওয়ায় তিনটি ফেরি চলাচল করতে পারছে না। এ ছাড়া সচল ফেরির মধ্যে রয়েছে চারটি রোরো, ছয়টি মিডিয়াম ও চারটি ডাম্ব ফেরি।

১৫ ফেরি ও ৮২টি লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক থাকায় ভোগান্তি কমেছে যাত্রীদের। তবে যাত্রীবাহী যানবাহনের তুলনায় বেড়েছে ব্যক্তিগত যানবাহনের চাপ। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) শিমুলিয়াঘাটের উপমহাব্যবস্থাপক (এজিএম) শফিকুল ইসলাম জানান, সকাল থেকে এ রুটে ১৫টি ফেরির মাধ্যমে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। ঘাট এলাকায় পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে ছোট-বড় পাঁচ শতাধিক যানবাহন।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) শিমুলিয়াঘাটের সহকারী পরিচালক সাহাদাত হোসেন জানান, এ রুটে ৮৭টি লঞ্চের মধ্যে ৮২টি লঞ্চ চলাচল করছে। বাকি লঞ্চগুলোর কাগজপত্র ঠিক না থাকায় চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। এ ছাড়া স্পিডবোট চলাচল নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।