দুর্ধর্ষ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী করিম র‍্যাবের বন্দুকযুদ্ধে নিহত

কক্সবাজারে র‍্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কলিমুল্লাহ প্রকাশ করিম (৩২) নামে একজন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন। কথিত ‘আরসা’ ও ‘আল-ইয়াকিন’ নামধারী রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপের অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসাবে তিনি ক্যাম্পে পরিচিত। নিহত করিম কুতুপালং লম্বাশিয়া ক্যাম্পের রোহিঙ্গা মীর আহমেদের ছেলে।

র‍্যাব-১৫ এর উপ-অধিনায়ক তানভীর হাসান জানান, কুতুপালং ক্যাম্প এলাকায় একটি রোহিঙ্গা ডাকাত দল অবস্থান করছে এমন খবরে অভিযানে যায় র‍্যাব। র‍্যাবের অবস্থান টের পেয়ে ডাকাত দল গুলিবর্ষণ করলে আত্মরক্ষার্থে তারাও গুলি চালায়। পরে তল্লাশি করে দুইটি বন্দুক ও চার রাউন্ড গুলি ও ডাকাত সর্দার করিম উল্লাহর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্পগুলোতে আরসা ও আল-ইয়াকিন নামের রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী দলের সশস্ত্র সদস্যরা বেপরোয়া হয়ে উঠে। তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্প ছাড়াও আশেপাশের এলাকায়ও সন্ত্রাস চালিয়ে আসছিল। রাতের বেলায় বিভিন্ন ক্যাম্পে গোপনে বৈঠক করে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টিরও পাঁয়তারা করছিল বলে গোয়েন্দা সুত্রের খবর রয়েছে।

আজ সোমবার ভোরে ক্যাম্প এলাকায় র‌্যাবের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সন্ত্রাসী করিম নিহত হবার খবর চাউর হলে সাধারণ রোহিঙ্গা এবং ক্যাম্প সংলগ্ন বাংলাদেশী গ্রামবাসীরা উল্লাসে মেতে উঠেন। ক্যাম্পের সাধারণ রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি স্থানীয় গ্রামবাসীও রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের হাতে নির্যাতিত হয়ে আসছেন। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে হত্যা, অপহরণ, সন্ত্রাসী, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহজানির সাথে জড়িত সন্ত্রাসী গ্রুপের ভয়ংকর মাপের একজন কিলার হচ্ছেন নিহত করিম।

কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সাধারণ রোহিঙ্গারা জানায়,শিবিরে বহু নিরীহ রোহিঙ্গাকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী দল আরসা ও আল-ইয়াকিনের নাম দিয়ে নিহত করিম মিয়ানমার থেকে ইয়াবার বড় বড় চালান এনে ক্যাম্পে মজুদ করে প্রচুর টাকাও হাতিয়েছে বলে রোহিঙ্গারা জানায়।