শিশু মুনতাহার হাতে সাড়ে ৫ লাখ টাকা দিল গ্রামবাসী

ছয় মাস বয়সী সিদরাতুল মুনতাহা ও তার মায়ের প্রতিটি দিন যাচ্ছিল দুঃসহ যন্ত্রণায়। তিন মাস আগে মুনতাহার বাবা মাওলানা মো. মোশাররফ হোসেন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তিনি ছিলেন মাদরাসার প্রভাষক। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রী ফাতেমা তুজ যোহরার সামনে ছিল গভীর অন্ধকার। তবে গ্রামবাসী এগিয়ে আসায় তাদের মুখে হাসি ফুটেছে। স্বস্তিবোধ করছে পরিবারটি।

মো. মোশাররফ হোসেনের বাড়ি ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নের আষাড়িয়াচালা গ্রামে। স্থানীয় শহরগোপিনপুর ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার আরবি প্রভাষক ছিলেন তিনি। গত বছরের শেষের দিকে তার শরীরে মfরণব্যাধি ক্যান্সার ধরা পড়ে। দরিদ্র পরিবারের সন্তান, চিকিৎসার জন্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা ঋণ করে গত ৭ এপ্রিল মারা যান। অভাব ও দুঃখের সাগরে ভাসিয়ে যান স্ত্রী ফাতেমা তুজ যোহরা (২১) ও ছয় মাসের কন্যাসন্তান সিদরাতুল মুনতাহাকে।

মোশারফ মারা যাওয়ার আগেই তার চিকিৎসার জন্য গ্রামবাসী স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সোশ্যাল এইড বাংলাদেশ (সাব) মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ শুরু করছিল। কিন্তু তহবিল সংগ্রহের আগেই মোশাররফ মারা যান। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান জানান, ক্যান্সারের চিকিৎসা করতে গিয়ে মাওলানা মোশাররফ ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। তিনি ছিলেন সংসারের একমাত্র ছেলে। মোশাররফের শিশুসন্তান ও স্ত্রীর ভবিষ্যৎ জীবনের ন্যূনতম নিরাপত্তার জন্য গ্রামের বিত্তবান ও প্রবাসীদের সহযোগিতায় মানবিক উপহার হিসেবে তাদের হাতে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়।

গত বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ধলাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এজাহারুল ইসলাম ভূঁইয়া মায়ের কোলে থাকা সিদরাতুল মুনতাহার হাতে চেক তুলে দেন। এ সময় সাব-এর সভাপতি ড. সাঈদ আহমেদ, যুগ্ম সম্পাদক প্রভাষক মো. বাহাদুর কবির, ঘাটাইল প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. নজরুল ইসলামসহ এলাকার সর্বস্তরের লোকজন উপস্থিত ছিলেন। চেক পাওয়ার পর মোশাররফ হোসেনের স্ত্রী ফাতেমা তুজ যোহরা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, আমাদের জন্য গ্রামবাসীর এই ভালোবাসার কথা কোনো দিন ভুলবো না।