বা’সর রাতে মেয়েদের ‘ভ’য়ে’র ৫টি কারণ:

‘বাসর রাতে বিড়াল মারা’ একটা প্রবাদ প্রচলিত আছে। এ প্রবাদ নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও বাসর রাত প্রতিটি মানুষের জীবনেরই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাসর রাত নিয়ে পুরুষের মধ্যে থাকে প্রবল উত্তেজনা। কিন্তু মেয়েদের মধ্যে কাজ করে কৌতূহলের সঙ্গে প্রচণ্ড ভয়ও। এ ক্ষেত্রে শুধু ভয় বলা ঠিক হবে না, তাদের মনে শঙ্কা-অস্বস্তি সব মিলিয়ে অনেকগুলো অনুভূতি কাজ করে।

প্রথম একজন মানুষের সঙ্গে নিরবিলি জীবনের শুরু। এতদিন যাকে কেবল দূর থেকেই দেখেছেন, তার সাথেই এখন কাটাতে হবে জীবন। কমবেশি প্রতিটি নারীরই যৌন মিলনের ভয়টা থাকেই। বিয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে যৌন সম্পর্কের বিষয়টা এবং প্রেম করে বিয়ে হোক বা পারিবারিক, অবধারিতভাবেই বিয়ের রাতে এই বিষয়টি নিয়ে প্রবল ভয় কাজ করে নারীদের মাঝে।

একই কামরায় দুজনে নিরিবিলি জীবন-যাপন করবেন, একসঙ্গে কাটাবেন জীবনের বাকি রাতগুলো। বাসর রাতে কী হবে, কেমন হবে ইত্যাদি বিষয় নিয়ে সব মেয়েরাই থাকে চিন্তিত। বিশেষ করে পারিবারিক আয়োজনে বিয়ের ক্ষেত্রে এটি প্রবল হয়।

জেনে নিন বাসর রাতে মেয়েদের ভয়ের ৫টি কারণ…

১. বিয়ের প্রথম রাত বলে কথা, প্রত্যেক নারীই এইদিন অপসরার মত সাজেন ভালোবাসার মানুষটির জন্য। কেমন দেখাচ্ছে তাকে, বরের চোখে ভালো লাগছে কি না ইত্যাদি বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে ভয় কাজ করে।

২. নতুন একটি মানুষের সঙ্গে শুরু হবে তার নতুন জীবন। বাসর রাত মানে লজ্জা, জড়তা, অস্বস্তি সবকিছু মিলিয়ে একটি নতুন জীবনের যাত্রা। নিজের চিরচেনা জীবনের প্রায় সবকিছুই মেয়েদের ফেলে আসতে হয় বাবার বাড়িতে, নিজের প্রায় সমস্ত অভ্যাসই বিয়ের পর বদলে ফেলতে হয়। পরের দিন সকালটি কেমন হবে, কোন কাজটি কিভাবে করবেন এগুলো নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগেন নারীরা।

৩. শুধু স্বামী তো নন, শ্বশুরবাড়িতে প্রায় সবাই নতুন আর অচেনা পরিবেশ। সবার সঙ্গে মানিয়ে নেয়া, সবার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করার পালা শুরু হয়ে যায় বিয়ের প্রথম রাত থেকেই। পরের দিন থেকেই একেবারে ভিন্ন একটি জীবনের যাত্রা শুরু।

৪. জীবনে কখনো পরিবারকে ছেড়ে থাকা হয়নি। কীভাবে থাকা হবে সবাইকে ছাড়া? মা-বাবাকে ছেড়ে নতুন পরিবেশে কীভাবে মানিয়ে নেবেন? এসব শঙ্কা সব মেয়েরই কমবেশি থাকে।

৫. প্রেমের বিয়ে হোক বা পারিবারিক, কোন নারীই চান না বিয়ের প্রথম রাতেই গর্ভবতী হয়ে যেতে। কিন্তু প্রথম রাতেই বরের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলাটা অস্বস্তিকর। তাই বলাই বাহুল্য নার্ভাস হয়ে পড়েন নারীরা।

বাসর রাতের করনীয়-বর্জনীয় : যা না জানলেই নয়

১. প্রশ্ন : বাসর রাতে নববধু কিভাবে সজ্জিত হবে?

উত্তর : নববধু মেহেদি ব্যবহার করবে, অলংকার পরবে এবং সধ্যমত শরীয়ত সম্মত উপায়ে সেজেগুজে উত্তম পোশাক-পরিচ্ছেদে সজ্জিত হবে। (দেখুন- আহকামে জিন্দেগী)

২. প্রশ্ন : বাসর ঘরে প্রবেশ করে কোন নামাজ পড়বে কি না?

উত্তর : পুরুষ বাসর ঘরে প্রবেশ করতঃ নববধুকে সহ দুই রাকআত (শুকরানা) নামায পড়বে। (দেখুন- শিরআতুল ইসলাম, আহকামুল ইসলাম)

৩. প্রশ্ন : নামায পড়ার পর কি করবে?

উত্তর : অতঃপর স্ত্রীর কপালের উপরিস্থিত চুল ধরে বিসমিল্লাহ বলে এই দুআ পাঠ করা সুন্নাত-(বাংলা উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাহা ওয়া খাইরা মা যুবিলাত আলাইহি, ওয়া আউযুবিকা মিন শাররি হা ওয়া শাররি মা যুবিলাত আলাইহি) (দেখুন- ইমাদাদুল ফাতওয়া, আহকামুল ইসলাম)

৪. প্রশ্ন : বাসর ঘরে ঢুকে নামায ও দোয়া পড়ার পর আর কোন আমল আছে কি না?

উত্তর : বিভিন্ন ইসলামী কিতাবে বাসরঘরে ঢুকে উপরোক্ত আমলগুলো করতে বলা হয়েছে। এরপর স্বামী-স্ত্রী নিজেদের মত নিজেরা পরিচিত হতে থাকবে। তবে প্রথমে স্বামী মহর বিষয়ক আলোচনা করে নিবে। তা পূর্ণ আদায় না করে থাকলে স্ত্রী থেকে সময় চেয়ে নিবে। (সূত্র- আহকামুল ইসলাম)

৫. প্রশ্ন : সংগম শুরু করার পূর্বে সর্বপ্রথম কি করতে হবে?

উত্তর : সংগম শুরু করার পূর্বে সর্ব প্রথম নিয়ত সহীহ করে নেয়া; অর্থাৎ, এই নিয়ত করা যে, এই হালাল পন্থায় যৌন চাহিদা পূর্ণ করার দ্বারা হারামে পতিত হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে, তৃপ্তি লাভ হবে এবং তার দ্বারা কষ্ট সহিষ্ণু হওয়া যাবে, ছওয়াব হাছেল হবে এবং সন্তান লাভ হবে। (দেখুন- আহকামে জিন্দেগী, আহকামুল ইসলাম)

৬. প্রশ্ন : অনেকে বলে বাসর রাতে স্ত্রীর সাথে সহবাস করা অনুচিত, কথাটি ঠিক কি না?

উত্তর : না, এধরণের কথা ঠিক নয়, এ সময় যে কোন উপভোগের জন্য স্বামী-স্ত্রী পূর্ণ স্বাধীন। তারা সন্তুষ্টচিত্তে যে কোন কাজ করতে পারে। তবে অবশ্যই প্রথমরাত হিসেবে একে অপরের চাহিদার প্রতি লক্ষ রাখা উচিত। (সূত্র- আহকামুল ইসলাম, আহমাকে জিন্দেগী)

৭. প্রশ্ন : সংগমের শুরুতে কোন দোয়া পড়তে হবে?

উত্তর : সংগমের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলে কার্য শুরু করা। তারপর শয়তান থেকে পানাহ চাওয়া। উভয়টিকে একত্রে এভাবে বলা যায়- বাংলা উচ্চারণ : বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শাইতানা ওয়া জান্নিবিশ শাইতানা মা রাযাকতানা। অর্থ : আমি আল্লাহর নাম নিয়ে এই কাজ আরম্ভ করছি। হে আল্লাহ, শয়তানকে আমাদের থেকে দূরে রাখ এবং যে সন্তান তুমি আমাদের দান করবে তার থেকেও শয়তানকে দূরে রাখ। (দেখুন- আহকামে জিন্দেগী)

৮. প্রশ্ন : সংগমের বিশেষ কিছু আদব ও বিধি-নিষেধ জানতে চাই?