দুর্ভাগ্য পিছু ছাড়ছে না আফিফের

আগের ম্যাচে আউট হয়েছেন আম্পায়ারের ভুলে। তামিম একাদশ ও নাজমুল একাদশের ম্যাচে তামিম একাদশের পেসার শরিফুল ইসলামের বলটা লেগেছিল আফিফ হোসেনের থাই প্যাডে। তবু বোলার-উইকেটকিপারের জোরালো আবেদনে আম্পায়ার এলবিডব্লুর আঙুল তুলে দিলেন।

আফিফের রান তখন ১৫। আজও কপালটা খারাপই ছিল তাঁর। তবে এবার আর আম্পায়ারের ভুলে নয়, ব্যক্তিগত ৯৮ রানের সময় রান আউট সঙ্গি ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে।

আফিফের সেঞ্চুরি না হলেও তাঁর ইনিংসে ভর করেই নাজমুলরা করেছে ৮ উইকেটে ২৬৪ রান। বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপে এখন পর্যন্ত এটাই সর্বোচ্চ দলীয় রান।টুর্নামেন্টের প্রথম তিন ম্যাচের ছয় ইনিংসে দলীয় সর্বোচ্চ রান ছিল ২২১। আজ মাহমুদউল্লাহ একাদশ ও নাজমুল একাদশের ম্যাচে রান খরা আরেকটু কাটল। মিডল অর্ডারে আফিফের সঙ্গে মুশফিক ও ইরফান শুকুরের ব্যাটে নাজমুলদের রান আড়াইশ ছাড়িয়েছে।

তবে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা আজ আরও একবার ব্যর্থ হন। ৩১ রানের মধ্যে ফিরে যান নাজমুল একাদশের তিন ব্যাটসম্যান পারভেজ হোসেন, সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন। এরপর গল্পটা কেবলই আফিফের।

ক্রিজে এসে চোখ জুড়ানো সব শট খেলে বোলারদের ব্যাকফুটে পাঠিয়ে দেন তিনি। সামনের পায়ে ভর করে পেসারদের পুল শট খেলেছেন। ড্রাইভ করেছেন ফুল লেংথ বলে। স্পিনারদের বিপক্ষে সুযোগ নিয়েছেন বুঝেশুনে। সুইপ শট আর কাট শটের বাইরে শুরুতে বেশি কিছু চেষ্টা করেননি। উইকেটে থিতু হওয়ার পর হাত খুলেছেন। স্কুপে চার, স্লগ সুইপে ছক্কা এসেছে এই তরুণ বাঁহাতির ব্যাট থেকে।

আফিফের আগ্রাসী ব্যাটিং চাপ কমায় আরেক প্রান্তে থাকা মুশফিকের। মুশফিক তখন খেলছিলেন এক-দুই রান নিয়ে। ৬৯ বলে ছয় চারে ফিফটির পর নিশ্চিত সেঞ্চুরির পথেই এগোচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু রানটা যখন তার ৯৮, মুশফিক আফিফকে ক্রিজের বাইরে ডেকে এনে আবার ফিরে যেতে বলেন। ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে। বোলার মেহেদী হাসান মিরাজ রান আউট করে আফিফের ইনিংস থামিয়ে দেন ওখানেই। ১০৮ বলের ইনিংসে ১২টি চার ও একটি ছক্কা ছিল আফিফের।

ইনিংসের আরও ১১ ওভার বাকি তখন। আফিফ শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারলে নাজমুল একাদশের রানটা ৩০০ ছাড়তে পারত। মুশফিক ক্রিজে থাকলেও সম্ভব ছিল তা। কিন্তু আফিফের পর স্কুপ খেলতে গিয়ে আউট হয়ে যান মুশফিকও। গত ম্যাচে সেঞ্চুরির পর আজ মুশফিক করেছেন ৯২ বলে ৫২ রান।

প্রথম ম্যাচে মাহমুদউল্লাহ একাদশকে জেতানো জুটি ইরফান শুকুর ও তৌহিদ হৃদয় আজও যোগ করেন ৪৭ রান। ২৭ রানে হৃদয় আউট হলেও টিকে থাকেন শুকুর, যোগ করেন ৩১ বলে গুরুত্বপূর্ণ ৪৮ রান। নাজমুলদের স্কোরটা শেষ পর্যন্ত ২৬৪ রানে যায় শুকুরের ইনিংসের সুবাদেই।

মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিং, বিশেষ করে আফিফের ইনিংস নিশ্চয়ই নাজমুল একাদশের উপরের সারির তিন ব্যাটসম্যানদের আফসোস বাড়াবে। টিকে থাকলে রান সম্ভব, এই বার্তাটাই সেদিন সেঞ্চুরি করে দিয়েছিলেন মুশফিক। আজ ৯৮ রানের দারুণ ইনিংসে একই বার্তা দিলেন আফিফ।