পিতা হাজী সেলিমকেও ‘গু’লি’ করতে চেয়েছিলেন ইরফান!

হাজী সেলিম নিজেই লালবাগ এলাকায় একজন ‘স’ন্ত্রা’সী’ হিসেবে পরিচিত। রাজনীতিতে তার ‘উ’ত্থা’নই ‘স’ন্ত্রা’সের মাধ্যমে। ‘স’ন্ত্রা’স’, ‘চাঁ’দা’বাজি, জমি দখল,

বুড়িগঙ্গা দখল ইত্যাদি তার নিত্য-নৈমিত্তিক কাজ। মানুষের সাথে ‘জ’ব’রদ’স্তি করা থেকে শুরু করে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলও দখলের ‘অ’ভি’যো’গও রয়েছে হাজী সেলিমের ‘বি’রু’দ্ধে’।

এলাকার মানুষকে ‘ভ’য়-‘ভী’তি দেখানো বা ‘জি’ম্মি’ করে রাখাই ছিল তার রাজনৈতিক কৌশল। আর এই কৌশলের কারণেই প্রথমে ওয়ার্ড কমিশনার এবং পরে ‘৯৬ সালে এমপি হয় হাজী সেলিম।

হাজী সেলিমের দুই পুত্র। দু’জনের মধ্যে বড় ছেলেকে নিয়ে কোন ‘অ’ভি’যো’গ’ নেই। কিন্তু ছোট ছেলেটি শুরু থেকে ছিল ‘দু’র্বি’নী’ত’, ‘স’ন্ত্রা’সী’ এবং অবাধ্য হয়ে উঠে। লালবাগের একাধিক ব্যক্তি জানায়, ইরফান ছোটবেলা থেকেই বখে যায় এবং নানা রকম ‘অ’প’ক’র্মের’ সঙ্গে যুক্ত হতে শুরু করে।

ইরফানের সঙ্গে এক সময় চলাফেরা ছিল এই একজন বলেন,‘বখে যাওয়ার কারণে ইরফান শিক্ষা জীবনও শেষ করতে পারেনি। বিবিএ ভর্তি হলেও পড়াশোনা শেষ করতে পারেনি’। মহল্লার স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ইরফানের এমন ‘দু’র্বি’নী’ত হয়ে উঠার ‘কা’রণে’ই হাজী সেলিম তাকে বিয়ে দিয়েছিলেন। ‘সেইসাথে রাজনীতিতেও তাকে আনতে চেয়েছিলেন।

হাজী সেলিমের ‘ঘ’নি’ষ্ঠ’রা বলেন,‘শেষ দিকে এসে হাজী সেলিমের সাথেও ইরফানের দূরত্ব তৈরি হয়। এটাকে ঠিক ‘দূ’র’ত্ব বললেও ‘ভু’ল বলা হবে। এক রকমের ‘দ্ব’ন্দ্ব’ই বলা চলে’। তারা জানায়, বিভিন্ন বিষয়ে হাজী সেলিমের সঙ্গে প্রতিনিয়নই তার ‘ঝ’গ’ড়া’ ‘বি’বা’দ হতো।

২০১১ সালের একটা ‘ঘ’ট’না’র কথা উল্লেখ করে তারা বলেন, তখন হাজী সেলিমকে পিস্তল নিয়ে তাড়া করেন ইরফান সেলিম। আর এরপর থেকে হাজী সেলিম ছেলে ইরফানকে ‘সমঝে’ চলতে শুরু করেন। লালবাগের বেশ কয়েকজন জানায়, ইরফান বড় হওয়ার সাথে সাথে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতে থাকে। সেইসাথে ‘চাঁ’দা’বা’জি’ আর দখল ‘জ’বর’দস্তি’তে হাজী সেলিমকেও কোণঠাসা করে ফেলে।

জানা গেছে, ইরফান আগামী নির্বাচনে এমপি হওয়ার লড়াইয়ে নামতেন। এই বিষয়ে হাজী সেলিমকেও তিনি আগে থেকে সতর্ক করে দিয়েছেন বলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জানান,

ইরফান ছোটবেলা থেকেই টাকার জন্য তার মা কে ‘আ’ট’কে’ রাখত, অনেক সময় ‘মা’র’ধ’র করত। সে যে ‘ব’দ’মে’জা’জি এবং ‘ব’দ’রা’গী তা মাধ্যমিকের পর থেকেই সকলে জানতে শুরু করে। তাই ‘ভ’য়ে’ সমঝে চলত সবাই।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কলেজ জীবন শেষ হতেই একটি নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলে ইরফান। আর এই বাহিনীর মাধ্যমের এলাকায় সন্ত্রাসী, ‘চাঁ’দা’বা’জি’ থেকে শুরু করে ”’জ’ব’র’দ’স্তি করে যে কোন কাজ করে বেরাত। গাড়ি নিয়ে ইরফান সেলিমের বাড়াবাড়ি বা ‘উ’দ্ধ’ত ‘আ’চ’র’ণ অনেক আগে থেকেই বলে জানায় এলাকাবাসী।

এর এই রকম ঘ’ট’নায় পুরান ঢাকায় অনেকেই ‘লা’ঞ্চি’ত ও ‘নিগ্র’হের ‘স্বী’কার হয়েছেন বলে জানা যায়। ‘লা’ঞ্চ’না’র হাত থেকে নারীরাও বাদ যায়নি বলে জানায় মহল্লার অনেকে। গত বছরেই লালবাগ এলাকায় একটি বড় ‘ঘ’ট’না’ ঘটে। সে সময় ইরফানের গাড়ির সামনে দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন এক কলেজ পড়ুয়া ছাত্রী।

তখন ইরফান সেলিমের লোকজন ‘ছা’ত্রী’টি’কে ‘উ’ঠি’য়ে নিয়ে মদিনা আশিক টাওয়ারে ‘আ’ট’কে রাখে। অবশ্য পরে অনেক অনুনয় করে মেয়েটিকে ‘উ’দ্ধা’র’ করে তার অভিভাবকরা।

এ ‘ঘট’নার পরও ইরফান সেলিম কীভাবে কাউন্সিলর হল- সেটা একটি বড় প্রশ্ন। এলাকা বাসী জানায়, তাদের কোন উপায় ছিল না। ইরফান সেলিম এলাকায় এক আতঙ্কের নাম। তাদের মতে, হাজী সেলিমের তাও কিছু গুণ ছিল- সে এলাকার গরীব মানুষদের কিছু সাহায্য সহযোগিতা করত। মানুষের ‘অ’ভাব, ‘অ’ভি’যো’গ কিছুটা হলেও শুনত। কিন্তু ইরফান সেলিম এসবের ধারে কাছেও নেই। এলাকার মানুষকে ‘মা’র’পি’ট করা আর ‘স’ন্ত্রা’স করাই ছিল তার কাজ।

জানা গেছে, গত ১ বছরে ইরফান বাহিনী এলাকায় পুরো ‘ত্রা’সে’র রাজত্ব কায়েম করে রেখেছিল। আর এই বাহিনীতে ৭০ জনের মতো ক্যাডার ছিল। র‍্যাবের মতে, এদের সবার হাতেই অ’স্ত্র ছিল, যার সব কটিই আবার ‘অ’বৈ’ধ। আর এসবের ‘কা’রণে এলাকায় ইরফান সেলিমের কথাই ছিল শেষ কথা। আর এই ‘কা’রণে হাজী সেলিমও ছেলের ব্যাপারে ‘হতা’শ হয়ে পরেছিলেন। শেষের দিকে একেবারে হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন বলেও জানা যায়।

একাধিক ব্যক্তি জানায় যে, হাজী সেলিম বাকশক্তি হারানোর আগেও তার ছেলেকে নিয়ে ‘উ’দ্বে’গ প্রকাশ করতেন। আর এখন হাজী সেলিমের এই উদ্বেগই যেন সত্যি হল! সুত্র: বাংলা ইনসাইডার