বাবা-মা আমাকে জ’ন্ম দিতে চায়নি” জীবন ক’ষ্টের কাহিনী শে’য়ার ক’রলেন নেহা কক্কর!

একদিকে তার মধুর সুর, অন্য দিকে মিষ্টি হাসির যাদু। এই দুটির সংমি’শ্রণেই তিনি ক’রেছেন বিশ্ব জয়। হ্যাঁ, নেহা কাক্কার ভারত তথা সারা বিশ্বের একজন জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী। যিনি বর্তমানে সারা বিশ্বে নিজেকে উপস্থাপণ ক’রেছেন গর্বের স’ঙ্গে মাথা উঁচু করে।

তাকেই একদিন মাথা নিচু করে স্কুলে যেতে হত বাবা স্কুলের সামনে সিঙ্গারা, সমুচ্চা বিক্রি ক’রতেন বলে। ভারতের বর্তমান সময়ের শী’র্ষে থাকা এই সংগীত শিল্পীর অতীত ছিল এতটাই বে’দনাদায়ক। যা তিনি মনে করলেই টিভি ক্যামেরার সামনেই অঝোর ধারায় কেঁদে ফে’লেন বারংবার।

নেহা, পুরো নাম নেহা কাক্কার। ১৯৮৮ সালের ৬ই জুন তিনি বাবা মায়ের ৩য় সন্তান হিসাবে ভারতের উত্তরাখন্ড এর ঋষিকেশে জ’ন্মগ্রহণ করেন। নেহা খুবই দরি’দ্র পরিবার থেকে উঠে এসেছেন এটা সবারই জা’না। তার বাবা নারায়ণ কাক্কার ছিলেন এমন একজন ক’র্মজীবী যিনি নিজে’র পরিবাররে ব্যয়ভার বহন ক’রতেন সিংগারা, সমুচ্চা বিক্রি ক’রতেন নেহাদের স্কুলের সামনেই।

তা দেখে নেহার চারপাশের মানুষ সবসময়ই নেহাকে নিয়ে হাসি তামাশায় মেতে থাকতো। স্কুলে গেলেও তাকে মাথা নিচু করে পথ চলতে হতো। এমনকি একটা সময় ছিল যখন তিনি স্কুলে যেতেও দ্বিধা বোধ ক’রতেন। পরিবারে তিনি শুধু একাই ছিলেন না। সাথে ছিল তার বড় আর এক বোন সনু কাক্কার, যিনি বর্তমানে নিজেও একজন সংগীত শিল্পী।

আর এক বড় ভাই নাম তার টনি কাক্কার। টনি কাক্কার বর্তমানে ভারতের বড় মাপের একজন মিউজিক ডিরেক্টর। স্বা’ভাবিক ভাবেই পাঁচ সদস্যের একটি পরিবারকে সিংগারা, সমুচ্চা বিক্রি করে চালানো অত্যন্ত ক’ঠিন কাজ ছিল। তাই একটা সময় তাদেরকে জীবিকার খোঁ’জে দিল্লীতে চলে যেতে হয়। সেখান থেকেই শুরু করেন জীবন সংগ্রাম।

নেহা নিজেকে সংগীত শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার আনুপ্রেরণা পান বোন সনু কাক্কারের কাছ থেকে। ছোট কাল থেকেই মিউজিকের উপর তার টান অ’নুভব করা গিয়েছিল। মাত্র ৪ বছর বয়স থেকেই তিনি গান শুরু করেন। আর ১৫ বছর বয়সে ২০০৬ সালে তিনি টেলিভিশন রিয়েলিটি শো “ইন্ডিয়ান আইডল” এর দ্বিতীয় মৌসুমে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

এছাড়া ২০১৪ সালে সনি টিভির “কমেডি সার্কাস কে টান সেন” এ অংশ গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি জী টেলিভিশনের সা রে গা মা “লিটিল চ্যাম্পস শো” এর বিচারকের দায়িত্ব পা’লন করছেন । ২০০৮ সালে নেহা তার প্রথম অ্যালবাম “নেহা দ্যা স্টার” প্র’কাশ করেন, যার সংগীত পরিচালনা ক’রেছেন মিত ব্রাদার্স।

তার অন্যান্য সংগীত গুলোর মধ্যে আছে ইয়ারিয়া চলচ্চিত্রের সানি সানি, দ্যা শৌকিন্স চলচ্চিত্রের মানালি ট্রান্স, গাব্বার ইজ ব্যাক চলচ্চিত্রে হানি সিংয়ের সাথে আওরাজা, কুইন চলচ্চিত্রের লন্ডন তুমাকদা, সত্যমের জয়তে চলচ্চিত্রে দিলবার। মেইয়াং চ্যাংয়ের সাথে “হ্যাজ” (অ্যালবাম) এবং গিপ্পি গ্রেএয়ালের সাথে “প্যাট লাইংগে” (অ্যালবাম)।

তিনি বাংলা সিনেমা’র চলচ্চিত্রেও গান গেয়েছেন যেটি ছিল মাহিয়া মাহি অভিনীত ম্যাজিক মামুনি গানটি। শারুখ খানের দিলওয়ালে সিনেমা’র টুকুর টুকুর গানটিও একটি ব্যবসা সফল গান। ২০১২ সালে তিনি বার বার দেখো চলচ্চিত্রের জন্য “কালা চশমা” গানের অসাধারণ পারফরম্যান্স দিয়েছেন যা একটি ব্লকব্লাস্টার বলিউড মুভি গান। ২০০৯ থেকে ২০১৬ মধ্যে তিনি ৫০ টিরও বেশি বলিউড সিনেমায় গান ক’রেছেন।

নেহা কে উপর থেকে দেখে একজন আবেগী মেয়ে হিসাবেই উপলব্ধি করা যায়। কিছুদিন আগেই বলিউডের অভিনেতা হিমাংশু কলির সাথে চলতে থাকা প্রেমের স’ম্পর্ক ভে’ঙে যাওয়ায় মা’নসিক ভাবে ভে’ঙে প’ড়েন নেহা। সামাজিক যোগাযোগ মাধমে বিভিন্ন কথা লিখে নিজে’র রাগ ও অভিমান প্র’কাশ ক’রেছেন নেহা। এর আগে ২০১৪ সালে ইয়ারিয়া চলচ্চিত্রের গান গাওয়ার সময় পরিচয় হয় হিমাংশু কলির সাথে।

সেখান থেকেই তাদের মধ্যে ঘনি’ষ্ঠ স’ম্পর্ক তৈরি হয়। এরপর থেকে তাদের ঘনি’ষ্ঠ স’ম্পর্ক সারা বিশ্ব খোলা মেলা ভাবেই দেখেছিল । তাদের প্রেমের রসায়ন ছিল চোখে পড়ার মতন। তবে স’ম্প্রতি তাদের এই হুট করে আলা’দা হওয়ার রহ’স্য বুঝে উঠা দায় হয়ে প’ড়েছে। তবে বেশির ভাগ গুনজনে শুনা

যায় হিমাংশু তার পরিচিতি বাড়ানোর জন্যই নাকি এমনটা ক’রেছেন। অন্যদিকে এখন শুনা যাচ্ছে হিমাংশু নতুন প্রেমে মেতেছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ভারতীয় ক্রিকেটার সচিন টেল্ডুলকারের মেয়ের সাথে। নেহার প্রিয় অভিনেতা শারুখ খান এবং প্রিয় অভিনেত্রী জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ। গান করাই একমাত্র শখ এই ৩০ বছর বয়সী শিল্পীর। প্রতিটি গানের জন্য তিনি দুই লাখ করে পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন।

নেহার বাকি দুই ভাইবোন তার মতো জনপ্রিয় না হলেও তারাও যথেষ্ট্য। নেহার সাথে যৌথভাবে গাওয়া “মিলে হ তুম” গানটি ব্যা’পক সাড়া জাগিয়েছিল। অন্যদিকে নেহা বার বার তার উঠে আসার পিছনে তার বোন সনুর ভূমিকা স্বী’কার করে এসেছেন। একটা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে কিংবা এক কথায় বলা যায় একটা রাস্তা থেকে উঠে আসা এই তিন কাক্কার যা করে দেখালেন তা সত্যিই রীতিমতো অ’বাক করার মতো ও অনুপ্রেরণা দায়ক। যে পরিমান কষ্ট করে তারা পরিবারটিকে উঠিয়ে নিয়ে এসেছেন তা অনেকদিনই ইতিহাস হয়ে থাকবে।