ফেসবুক লাইভে এসে ব্যবসায়ীর আ’ত্ম’হ’ত্যা

ফেসবুক লাইভে এসে ফাঁসিতে ঝুলে আ’ত্ম’হ’ত্যা করেছেন গাজীপুরে পূবাইলের স্বপন চন্দ্র দাস (৪২) নামের এক ব্যবসায়ী। বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে নিহতের লা’শ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে, মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত ১টা ৫৫ মিনিটের দিকে নিজের শয়ন কক্ষ থেকে ফেসবুক লাইভে আসে আ’ত্ম’হ’ত্যা করেন তিনি।

নিহত স্বপন চন্দ্র দাস মহানগরের পূবাইল থানার নয়ানীপাড়া এলাকার নগেন্দ্র চন্দ্র দাসের ছেলে এবং পূবাইল থানা পূজা উদযাপন কমিটির অর্থ সম্পাদক ছিলেন। তিন সন্তানের জনক ছিলেন এ ব্যবসায়ী। তার আ’ত্ম’হ’ত্যার লাইভটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। স্বপন স্থানীয় আশার আলো সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে খাবার খেয়ে স্বপন চন্দ্র দাসের পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। বাড়িতে ছিলেন না তার স্ত্রী। ১টা ৫৫ মিনিটের দিকে ফেসবুক লাইভে এসে প্লাস্টিকের মোড়ার ওপর দাঁড়িয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন। পরে তিনি পায়ের নিচ থেকে মোড়াটি সরিয়ে ফাঁসিতে ঝুলে পড়েন। কয়েক মুহূর্ত পরেই তার শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়ে। মধ্যরাতের এ দৃশ্য প্রতিবেশী শরিফসহ অন্তত ৩০-৩৫ জন সরাসরি দেখেন।

লাইভ দেখে স্বপনের ব্যবসায়িক সহযোগী আনোয়ার হোসেনের ছেলে নীরবকে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানান শরিফ। খবর পেয়ে প্রতিবেশী কয়েকজন দ্রুত ওই বাড়িতে গিয়ে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে টঙ্গী আহসানউল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের স্ত্রীসহ দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

ওই দিন দুপুরে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে অনেকগুলো ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখেন, ‘জীবনের কিছু স্মৃতিময় মুহূর্ত। হয়তো এটাই জীবনের শেষ আপলোড।’ তার আত্মহত্যার বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছেন। অনেকের ধারণা, ব্যবসায়িক পার্টনারদের মাঝে বিরোধের কারণেই তিনি আ’ত্ম’হ’ত্যা করেছেন।

পূবাইল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহ আলম জানান, ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের লা’শ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ও লাইভে গিয়ে আ’ত্ম’হ’ত্যার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পু’লি’শ।