সফল রিভিউয়ে ভাঙল ভায়রা-ভাই জুটি

আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ওভারেই মঈন আলীকে জোড়া বাউন্ডারি হাঁকান সমালোচনার নিশানায় থাকা লিটন দাস। দুটোই ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে। শটে আত্মবিশ্বাস ছিল। মনে হচ্ছিল, খারাপ সময় পেছনে ফেলে ফর্মে ফিরছেন এই ওপেনার। কিন্তু তৃতীয় ওভারেই আশার সমাপ্তি ঘটিয়ে দেন সেই মঈন আলী। ওভারের দ্বিতীয় বলে বাজে শটে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফিরেন লিটন দাস (৮ বলে ৯)। পরের বলেই ৭ বলে ৫ করা অপর ওপেনার মোহাম্মদ নাঈমকেও ক্রিস ওকসের তালুবন্দি করেন মঈন। মুশফিকের কল্যাণে এই যাত্রায় মঈনের হ্যাটট্রিক হয়নি।

১৪ রানে নেই ২ উইকেট। উইকেটে ছিলেন দুই সিনিয়র মুশফিকুর রহিম আর সাকিব আল হাসান। ম্যাচ শুরুর কিছুক্ষণ আগে টি-টোয়েন্টি র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষে ওঠা সাকিব আজ ক্রিস ওকসের বলে ৭ বলে ৪ রান করে ধরা পড়েন আদিল রশিদের হাতে। ২৬ রানে পতন হয় তৃতীয় উইকেটের। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভরে ওঠে ২৭ রান। যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে বাংলাদেশের সর্বনিম্ম। বিপদে পড়া দলকে টেনে তোলার দায়িত্ব নেন মুশফিক আর অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ।

ব্যক্তিগত জীবনে ভায়রা-ভাই রিয়াদ-মুশফিক পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা কারেন। তাদের ব্যাটেই বিপর্যয় কাটিয়ে বাংলাদেশ আবার ঘুরে দাঁড়ায়। ১০ ওভারে আসে ৬০ রান। কিন্তু নতুন ধাক্কা আসে লিয়াম লিভিংস্টোনের করা ১১তম ওভারে। চতুর্থ বলটি ৩০ বলে তিন চারে ২৯ করা মুশফিকের পায়ে লাগে। আম্পায়ার নট আউট ঘোষণা করলে ইংল্যান্ড রিভিউ নেয়। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, মুশফিক স্পষ্ট এলবিডাব্লিউ। এর সাথেই ভাঙে ৩২ বলে ৩৭ রনের চতুর্থ উইকেট জুটি। ৬৩ রানে পতন হলো চতুর্থ উইকেটের।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ম্যাচে বাংলাদেশ একাদশে আজ একটা পরিবর্তন অনুমিতই ছিল। চোট পেয়ে ছিটকে গেছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। তার বদলে মূল স্কোয়াডে সুযোগ পেলেও একাদশে নেই রুবেল হোসেনর নাম। সাইফের শূন্যস্থান পূরণ করেছেন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী তরুণ পেসার শরীফুল ইসলাম। অনেকেই ভেবেছিলেন ওপেনার লিটন দাস হয়তো বাদ পড়তে যাচ্ছেন। তবে লিটন-নাঈমই আজ ইনিংস শুরু করবেন। অন্যদিকে ইংল্যান্ড দলে কোনো পরিবর্তন নেই।

বাংলাদেশ একাদশ : লিটন দাস, মোহাম্মদ নাঈম, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, আফিফ হোসেন, নুরুল হাসান, মেহেদী হাসান, শরীফুল ইসলাম, নাসুম আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান।

ইংল্যান্ড একাদশ : জস বাটলার, জেসন রয়, ডেভিড মালান, এউইন মরগান (অধিনায়ক), জনি বেয়ারস্টো, লিয়াম লিভিংস্টোন, মঈন আলী, ক্রিস ওকস, ক্রিস জর্ডান, আদিল রশিদ, টাইমাল মিলস।

তথ্যসূত্র: কালের কণ্ঠ