উপচে পড়ছে সাহায্য, আর জঙ্গলে ফলমূল-ঘাস খেয়ে থাকতে হবে না বাস্তবের ‘মোগলি’কে

মানুষের আদল থাকলেও দেখতে অনেকটা সে ভিন্ন। তাই গ্রামের মানুষের কাছে বিদ্রুপের পাত্র হয়ে উঠেছিল সে। ২১ বছর বয়স পর্যন্ত মায়ের আদর যত্ন থেকেও বঞ্চিত ছিল ওই তরুণ। বিদ্রুপের হাত থেকে বাঁচতে জঙ্গলে গিয়ে বেশির ভাগ সময় কাটায় ওই তরুণ। সোশাল মিডিয়ার চর্চায় এখন সে ‘বাস্তবের মোগলি’।

কিন্তু এলির এমন জীবনের জন্য দায়ি কে? সম্প্রতি এক টিভি চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তরুণের মা জানান তিনিই সঠিকভাবে দেখভাল করতে পারেননি তার সন্তানের।

তিনি আরও বলেন, নিজের প্রথম পাঁচটি সন্তানকে হারানর পর এলি ছিল তাঁর ছয় নম্বর সন্তান। কিন্তু এলির শরীরে ছিল দৈহিক সমস্যা। মাথা বড় ছিল। দাঁতও বেশ অদ্ভুত ছিল। অদ্ভুত আকার ইঙ্গিত করত সে। গ্রামের লোকেরা তাকে তাড়া করত, ঢিল মারত। সেই বিদ্রুপের হাত থেকে বাঁচতে অদ্ভুত মুখভঙ্গি করত এলি।

আসলে তার একটা অসুখ আছে, মাইক্রোসেফালি।এরপর সে জীবনের অধিকাংশ সময় পশুদের সঙ্গে জঙ্গলে কাটায়।

‘আফ্রিম্যাক্স’ নামের স্খানীয় টিভি চ্যানেলে তাঁর সাক্ষাৎতার দেখানো হয়। সেই চ্যানেলের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ার নাগরিকরাও এখন তাঁকে আর্থিকভাবে সাহায্য করছে।

চ্যানেল কর্তৃপক্ষ একটি বিবৃতিতে জানায়, ‘‘এই একলা মা ও তাঁর সন্তানকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসুন। কোনও উপার্জন নেই। তাই খাদ্যের অভাবে ভুগছে পরিবারটি। এই তরুণটিকে জঙ্গলে গিয়ে ঘাস খেতে হয় খিদের তাড়নায়। আসুন এই ছেলেটি ও তার মায়ের জীবন বাঁচাই।’’ ইতিমধ্যে প্রায় ৪ হাজার ডলার অনুদান জমা হয়েছে।