মাথা নতুন চুল গজাতে মেনে চলুন ঠাকুমা দিদিমার পুরনো টোটকা!

প্রতিদিন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কি আপনি সেই পুরনো আপনিকে খুঁজে বেড়ান? এই আপনারই এক সময়ে যে ঘন কালো চুল ছিল, তা এখন ইতিহাস। বরং প্রতিবারই যখন আয়নার সামনে দাঁড়ান আপনার সিঁথি দেখে রীতিমতো চমকে ওঠেন এই ভেবেই যে, মাথার যে অংশে আজ টাক পড়ে গিয়েছে, সেখানে কি আর আদৌ চুল উঠবে!

আজ তাই আপনাদের জন্য রইলো এমন কয়েকটি ঘরোয়া পদ্ধতির সন্ধান যা কিনা চলে আসছে সেই মা-ঠাকুমার আমল থেকে। দেখে নিন সেগুলি কী কী-

১. জবা কুসুম তেল
‘মায়ের পায়ের জবা’ কিন্তু আপনার জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। জবা ফুলের তেল মাথায় লাগালে আপনার চুল পড়া তো বন্ধ হবেই একইসঙ্গে মাথায় নতুন চুল গজাতেও শুরু করবে।

উপকরণ:
লাল জবা ফুল ১০-১২টা কারি পাতা ২০-২৫টা মতো নারকেল তেল ৪০০ গ্রাম প্রণালী এবং ব্যবহারবিধি: প্রথমে জবা ফুল এবং কারিপাতা ভাল করে ধুয়ে নিন। এবার তা ভাল করে শুকিয়ে নিন। এবার একটি পাত্রে নারকেল তেল ভাল করে গরম করে নিন। এবার তাতে জবা ফুলের বৃন্তটি ছাড়িয়ে নিয়ে তেলে দিন, সঙ্গে দিন কারিপাতাও।

এরপর দশ মিনিট কম আঁচে গরম করুন, খেয়াল রাখবেন যাতে পুড়ে না যায়। এরপর তেলটি ঠান্ডা হলে তা ছেঁকে নিয়ে একটি কাঁচের শিশিতে ভরে রাখুন। প্রতিদিন রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে ৫মিনিট মতো মাসাজ করুন। তবে যদি ঠান্ডা লাগার ধাত থাকে তাহলে রাতে লাগিয়ে শোবেন না। দিনের বেলা ব্যবহার করবেন সেক্ষেত্রে।

২ মাসে রেজাল্ট পাবেন হাতে-নাতে। ২. আমলার তেল আমলা অর্থাৎ আমলকী। যা চুলের যত্ন নিতে দারুন কার্যকরী একটি প্রাকৃতিক উপাদান। এটি খুশকি দূর করা থেকে শুরু করে চুলের গ্রোথ বাড়াতেও সমান ভাবে সাহায্য করে।

উপকরণ:
এক কাপ নারকেল তেল বা আমন্ড অয়েলও এক কাপ পরিমাণ আমলকির রস। প্রণালী এবং ব্যবহারবিধি: প্রথমে আমলকী থেকে বীজ বের করে নিয়ে মিক্সিতে পেস্ট করে নিন। এবার এর থেকে রস ছেঁকে বের করে, তাতে নারকেল তেল মেশান। এবার মিশ্রণটি অল্প আঁচে গরম করুন। এবার প্রতিদিন রাতে ওই তেল মাথায় মাসাজ করলে চুল পড়া বন্ধ হবে সঙ্গে নতুন চুল গজাবে।

৩. মেথির তেল মেথি চুলের জন্য খুবই উপকারি। চুল কালো রাখার পাশাপাশি এই তেল চুল পড়া নিয়ন্ত্রণে রাখে। নিয়মিত এই তেলের ব্যবহারে নতুন চুল গজানো শুরু হয় একমাসের মধ্যেই।

উপকরণ:
১-টেবিল চামচ মেথি ১-চা চামচ সর্ষে ১-চা চামচ নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল প্রণালী এবং ব্যবহারবিধি: মেথি ও সর্ষে একসঙ্গে গুঁড়ো করে নিন। এরপর এতে ২-৩ চামচ উষ্ণ জল মেশান। এরপর তাতে যোগ করুন নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল। এবার প্যাকটি স্ক্যাল্পে খুব ভাল করে অ্যাপ্লাই করুন, ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। মেথিতে প্রচুর পরিমাণে লেসিথিন রয়েছে, যা চুলের গোড়ায় পুষ্টি যুগিয়ে চুল গজাতে এবং চুল লম্বা ও শক্ত বানাতে সাহায্য করে।

৪. মেহেন্দি পাতা
আগে যখন চুলে রঙ করার প্রচলন ছিল না তখন মেহেন্দি পাতা বেটে মাথায় লাগানোর প্রচলন ছিল, এতে যেমন আপনার চুল পায় এক প্রাকৃতিক রঙ তেমনই, চুলের গোড়ায় পুষ্টি যোগায়। তবে এখন আর মেহেন্দি পাতা হাতের কাছে না পেলে বাজার চলতি হার্বাল মেহেন্দির গুঁড়ো কিনে নিতে পারেন।

উপকরণ:
হাফ কাপ মেহেন্দির গুঁড়ো নারকেল তেল ২-চা চামচ প্রণালী এবং ব্যবহারবিধি: মেহেন্দি পাউডারের সঙ্গে পরিমাণ মতো গরম জল মিশিয়ে একটা পেস্ট তৈরি করুন। এরপর তাতে পরিমাণ মতো নারকেল তেল মিশিনে নিন। মাথায় রাখবেম মিশ্রণটি যদি লোহার পাত্রে মেশাতে পারেন খুব ভাল হয়। এবার মিশ্রণটি মাথায় মেখে ৪০ মিনিট মতো রেখে দিন। তারপর শ্যাম্পু করে দিন। মাসে দুবার করে এই পদ্ধতি ব্যবহার করলে ভাল ফল পাবেন।

৫. তুলসী পাতার তেল
তুলসীর তেল আপনার চুলকে বাইরের দূষণের হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। খুব প্রাচীন কাল থেকেই এই তুলসীর তেলের ব্যবহার করা হয়ে আসছে, কিন্তু আপনারা অনেকেই হয়তো জানতেন না।

উপকরণ:
তুলসী পাতা ২০-৩০টি লবঙ্গ ২-৩টি নারকেল তেল পরিমাণ মতো প্রণালী এবং ব্যবহারবিধি: উপকরণগুলি একসঙ্গে মিশিয়ে নিন ভাল করে। তারপর কম আঁচে তা ফুটিয়ে নিন, তবে যদি মনে করেন তাহলে কয়েকটি মেথি বীজও দিয়ে দিতে পারেন।

এবার তেলটি নামিয়ে নিয়ে ঠান্ডা হলে ছেঁকে নিয়ে কাঁচের পাত্রে রেখে দিন। এরপর ব্যবহার করার সমযে তেলটি অল্প গরম করে নেবেন। এই তেল মাসাজ করলে চুলের গোড়ায় কোনও ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাল ইনফেকশন হবে না, ফলে চুলের গোড়া হবে মজবুত।