ক্ষব্যাধির ইমার্জেন্সি : কী করবেন

বক্ষব্যাধির বেশ কিছু ইর্মাজেন্সি দেখা দেয়। অনেকে এগুলোকে আমলে আনতে চান না। রোগ পালন করে অকালে ঝরে পড়ে অনেক প্রাণ। অথচ একটু সচেতন হলে এ প্রাণগুলো রক্ষা করা যায়। এ ধরনের রোগ নিয়ে আজকের আলোচনা।

হঠাৎ করে তীব্র হাঁপানি-শ্বাসকষ্ট : যদি হঠাৎ করে হাঁপানির তীব্রতা বেড়ে যায় এবং ইনহেলারের ডোজ দ্বিগুণ করার পরেও যদি শ্বাসকষ্ট না কমে তাহলে দেরি না করে তখনই রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসবেন।

যদি বিশ্রামের সময় শ্বাসকষ্ট থাকে, এক নিঃশ্বাসে একটি বাক্য বলতে না পারে, গলা দিয়ে তীব্র আকারে বাঁশির মতো শব্দ হয়, শ্বাসকষ্টের জন্য রাত্রে ঘুমাতে না পারে, শরীর নীল বর্ণ হয়ে যায়, অজ্ঞান ভাব হয় এই উপসর্গগুলো থাকলে কালবিলম্ব না করে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে।

অ্যাকুউট এক্সাজারবেশন অব সিওপিডি : দীর্ঘ দিনের ধূমপানের ইতিহাস, বয়স ৪০-এর বেশি, দীর্ঘ দিনের কাশি ও শ্বাসকষ্টের ইতিহাস থাকে, পরিবেশের তারতম্যের কারণে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় এই ধরনের রোগীর যদি হঠাৎ কারে শ্বাসকষ্টের তীব্রতা বেড়ে যায়, কফের পরিমাণ বেড়ে যায়, কফের রঙ হলুদ-সবুজ হয় এবং এর সাথে যদি জ্বর, কাশি,

বাঁশির মতো শব্দ আগের চেয়ে বেড়ে যায় তাহলে দেরি না করে অতিসত্বর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসতে হবে। এ ছাড়া দীর্ঘ দিনের কফের সাথে সাথে শরীর নীল হয়, পা ফুলে যায়, অজ্ঞান ভাব হয় বিলম্ব না করে হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে যাবেন।

টেনশন নিউমোথেরাক্স : হঠাৎ করে তীব্র শ্বাসকষ্ট ও একদিকে বুকে ব্যথা থাকলে এর সাথে পূর্বের ফুসফুস সংক্রান্ত জটিলতা যেমন ক্রনিক কফ, যক্ষা, হাঁপানি কাশির ইতিহাস, ফুসফুসে ফোড়ার ইতিহাস থাকলে, ফুসফুসে পূর্বের জটিলতা ছাড়াও তীব্র শ্বাসকষ্ট হতে পারে জন্মগত কারণ থাকলে অনেক সময় টেনশন নিউমোথোরাক্স হতে পারে এবং হৃদরোগ আলাদা করা কঠিন হয়ে যায়, তাই এই রকম সমস্যা থাকলে অতিসত্বর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যেতে হবে।

নিউমোনিয়া
অল্প দিনের বেশি জ্বরের ইতিহাস এবং এর সাথে প্রথম শুকনা কাশি, পরে মরিচা রঙের মতো কফ বের হলে বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট হলে দেরি না করে জরুরি বিভাগে নেয়া প্রয়োজন। এ ছাড়া বুকে ব্যথা, বুক ধরফর করা, শোয়ার কিছুক্ষণ পর শ্বাসকষ্ট হলে, পূর্বে হৃদরোগের ইতিহাস থাকলে অতিসত্বর রোগীকে হাসপাতালে নেয়া প্রয়োজন। হঠাৎ করে বুকে তীব্র ব্যথা, সাথে সাথে ঘা ঘাম দেয়া, বুকের মাঝে চাপ চাপ লাগা, শ্বাসকষ্ট থাকলে, হৃদরোগ হয়েছে বলে সন্দেহ করা হয়।

চোখের পাতা ফুলে গেলে করণীয় ডা: হুমায়ুন কবীর সরকার
অনেক সময় দেখা যায়, চোখের পাতা ফুলে লাল হয়ে গেছে। চোখ ছোট হয়ে আসে। দেখতে কষ্ট হয়। চোখের পাতায় প্রচণ্ড ব্যথা করে। নিচের দিকে তাকালে ব্যথা বেশি অনুভূত হয়। মাঝে মধ্যে এ সমস্যা দেখা যায়। তবে চোখের মণিতে কিন্তু কোনো সমস্যা দেখা যায় না। যেমন- চোখ দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া, এ লক্ষণগুলো থাকে না। এ সমস্যাটিকে বলে ব্লেফারাইটিস।

কোনো কারণে চোখের পাতায় প্রদাহ হলে চোখের পাতা ফুলে গিয়ে প্রচণ্ড ব্যথা করে। এ ধরনের সমস্যার প্রধানতম কারণ হচ্ছে খুশকি। মাথা খুশকিমুক্ত করতে হবে। এ জন্য অ্যান্টিডেনড্রাফ শ্যাম্পু যেমন কিটোকোনাজল ব্যবহার করতে হবে। মাথায়শ্যাম্পু দেয়ার সময় ভ্রণ ও চোখের পাতায় শ্যাম্পু দিতে হবে।

এ ধরনের শ্যাম্পু দেয়ার পর ১০ মিনিট অপেক্ষা করে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। বাজারে অ্যান্টিডেনড্রাফ শ্যাম্পু কিনতে পাওয়া যায়। ব্যাপক ব্যবহৃত শ্যাম্পু কিন্তু অ্যান্টিডেনড্রাফ শ্যাম্পু নয়।

খাবার ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে কসমেটিক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সমস্যা হতে পারে। এ ছাড়া ঠাণ্ডা বা গরমের কারণেও এটি বারবার হতে পারে। এমনটি বারবার হলে খেয়াল করুন, কী কারণে হচ্ছে। সে কারণটি বাদ দিন। অনেক সময় কসমেটিক থেকে হতে পারে এ সমস্যা। তাই কসমেটিক ব্যবহার না করাই ভালো।

এ ধরনের সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ব্যথানাশক সেবন করে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। কুসুম গরম পানিতে বোরিক পাউডার মিশিয়ে সেঁক দিলে ফোলা ও ব্যথা দুটিই কমে যাবে। বেশ আরাম পাবেন। এ ছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শমতো অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের প্রয়োজন হতে পারে। চোখে অ্যান্টিবায়োটিক মলম ও ড্রপ দিতে হতে পারে।