শীতের রাতে কেঁপে আর ঝড়বৃষ্টিতে আল্লাহকে ডেকে রাত কাটে দম্পতির

পলিথিন আর চটে ঘেরা জরাজীর্ণ ছাপড়া ঘরেই কে’টে যাচ্ছে ইসমাইল হোসেন-মমেনা বেগম দম্পতির জীবন। অসহায় ইসমাইল হোসেনের বয়স ৭৩ এবং মমেনা বেগমের বয়স ৬৩ বছর পার হলেও তাদের ভাগ্যে আজও জোটেনি বয়স্ক

ভাতা। তিন শতক ভিটেমাটি আর ফুটোয় ভরা পলিথিন ও চটে ঘেরা ঘরটি তাদের একমাত্র সম্বল। এক ছে’লে ও চার মে’য়ে থাকলেও খবর নেয় না কেউ। খেয়ে না খেয়ে কোনো রকমে দিন কাটছে অভাগা এই বৃদ্ধ দম্পতির।

দুর্ভাগা সংসারে ফিরেও তাকায়নি কেউ। তবুও তারা হাত পাততে চান না অন্যের কাছে। এই ইসমাইল-মমেনা দম্পতির বাড়ি রংপুরের পীরগাছা উপজে’লার কৈকুড়ী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মকসুদ খাঁ গ্রামে।

বাপ-দাদারা ছিলেন জোতদার বংশের। মাতব্বরি করতেন এই গ্রামে। এখন কিছু নেই। সংগ্রামী জীবনে চার মে’য়ে ও এক ছে’লের মধ্যে মে’য়েদের বিয়ে হয়ে গেছে। তারা ঢাকায় গার্মেন্টেসে কাজ করেন। ছোট ছে’লে মানিক মিয়া (২২) বিয়ে করে ঢাকায় রিকশা চালান। তাদের কেউই বাবা-মা’র খোঁজ নেন না তাদের।

অনেক ক’ষ্টে পাঁচ বছর আগে একটি চালাঘর দিতে পারলেও তার অবস্থা এখন জরাজীর্ণ। ঘরের চারপাশের বেড়া নেই। পলিথিন আর চট দিয়ে ঘিরে চলছে তাদের সংসার। ফুটোয় ভরা ঘরে এই শীতের রাতে হু-হু করে হিমেল বাতাস ঢুকে পড়ে। ঝড়-বৃষ্টিতে আল্লাহকে ডেকে জড়োসড়ো হয়ে থাকেন দুজন।

ওই গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল গণি, বাচ্চা মিয়া, আবু বক্কর ও শিক্ষার্থী শাকিল মিয়া বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভূমিহীন ও দুস্থ অসহায়দের বাড়ি করে দিলেও তাদের ভাগ্যে জোটেনি ঘর। কেউ খোঁজ নেন না তাদের। জরুরিভাবে তাদের একটি ঘর দরকার।’

বৃদ্ধ ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারের কাছে ধরনা দিয়েও কাজ হয়নি। ভোট দেননি বলে তারা দূরে ঠেলে দিয়েছেন। আমি একটি ঘর চাই। আর কোনো দাবি নাই।’

বৃদ্ধা মমেনা বেগম বলেন, ‘গত কোরবানির ঈদে গোশত দিয়া ভাত খাইছোং। আর গোশত পেটোত যায় নাই। খুব ক’ষ্টে দিন কাটছে হামা’র।’

কৈকুড়ী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মিজানুর রহমান প্রথমে কথা বলতে রাজি না হলেও পরে বলেন, তাদের চেয়েও গরিব মানুষ আছে। তবুও চেয়ারম্যান তাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

কৈকুড়ী ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইস’লাম লেবু মণ্ডল বলেন, ‘ইসমাইল হোসেনের বক্তব্য সঠিক নয়। মকসুদ খাঁ গ্রামে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করা হচ্ছে। তাদের ওখানেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঘর দেয়া হবে।’

এ ব্যাপারে পীরগাছা উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তা (ইউএনও) শেখ সামছুল আরেফীন বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। ওই দম্পতির বিষয়ে বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

পীরগাছা উপজে’লা চেয়ারম্যান শাহ মাহবুবার রহমান বলেন, পরবর্তীতে তাকে (খ) শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঘর দেয়া হবে।