সৃজিতের আস্থার প্রতিদান দিতে চাই: বাঁধন

আজমেরি হক বাঁধন। মডেল ও অভিনেত্রী। সৃজিত মুখার্জির পরিচালনায় ‘রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি’ নামে কলকাতার একটি ওয়েব সিরিজে অভিনয়ে এখন ব্যস্ত। এই ওয়েব সিরিজ ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা হয় তার সঙ্গে-

সৃজিত মুখার্জির পরিচালনায় প্রথম কলকাতার ওয়েব সিরিজে অভিনয় করছেন। কাজের অভিজ্ঞতা জানতে চাই? একজন পরিচালকের কাছে কতটা সহযোগিতা পাওয়া যেতে পারে, তার উদাহরণ হতে পারেন সৃজিত মুখার্জি।

‘রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি’ ওয়েব সিরিজের শুটিং শুরুর আগে সৃজিত আমার সহকর্মীর সংলাপ রেকর্ড করে পাঠিয়েছেন। এরপর আমার সংলাপ রিহার্সেল করে আমি তাকে পাঠিয়েছি।

এভাবে দীর্ঘদিন আমি অনলাইনে কাজ করেছি, যাতে করে উচ্চারণে কোনো সমস্যা না থাকে। এর পাশাপাশি গান গাওয়ার যে বিষয়টা ছিল, তার জন্য সা রে গা মা থেকে শুরু করতে হয়েছে। কারণ, আমি গাইতে পারি না।

গান কখনও শিখিওনি। তাই গান আর চরিত্রের জন্য আলাদা করে প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। এই ওয়েব সিরিজের জন্য যতটা পরিশ্রম করেছি, তা আগে কোনো কাজে করতে হয়নি। এই ওয়েব সিরিজের জন্যই কি গত কয়েক মাস নতুন কাজ হাতে নেননি?

হ্যাঁ, কারণ আমি চাচ্ছি, এখন যে কাজগুলো করব, তা যেন অনেক দিন দর্শকের মনে গেঁথে থাকে। তাই যখনই কোনো কাজ শুরু করব, তা ভালোভাবে শেষ না করে অন্য কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়তে চাই না। প্রতিটি কাজের জন্য যথেষ্ট সময় নিয়ে আলাদা করে প্রস্তুতি নিতে চাই।

আমি এই কাজটি পরিচালকের প্রত্যাশামাফিক করতে চেয়েছি, এর মধ্যে নতুন কোনো কাজ হাতে নেইনি। সৃজিতের আস্থার প্রতিদান দিতে চাই বলে এই সিদ্ধান্ত।

সিরিজে আপনার মুশকান জুবেরী চরিত্রটি দর্শক মনে কতটা প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন? আমি মনে করি, মুশকান জুবেরীর চরিত্রে দর্শক নতুন এক বাঁধনকে আবিস্কার করবেন। কারণ, মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের উপন্যাস পড়ার পর থেকেই এই চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে মিশিয়ে ফেলার চেষ্টা করেছি।

ওজন কমানো থেকে শুরু করে, কথা বলার ধরন- যতভাবে নিজেকে বদলানো যায়, ততটা বদলে ফেলেছি। ঢাকা আর কলকাতার কাজে কোনো পার্থক্য পেলেন?

কলকাতায় নির্মাতারা যে টেকনিক্যাল সাপোর্ট পান, আমরা ততটা পাই না। তাদের কাজও বেশ গোছানো, যেটা এ দেশে কম দেখা যায়। বাজেট হয়তো এর মূল কারণ। তবে তাদের মতো এ দেশেও অনেক মেধাবী নির্মাতা আছেন।