অবস্থান বদলে আশার মা বলছেন, প্রধান আ’সামি নি’র্দোষ

রাজধানীর টেকনিক্যাল মোড়ে একটি ট্রাকের ধাক্কায় নি’হত হন তরুণ অ’ভিনেত্রী আশা চৌধুরী। আশার পরিবারের অ’ভিযোগ ছিল, আশাকে বহন করা মোটরসাইকেল চালক শামীম আহমেদের বি’রুদ্ধে। ঘটনা গত ৪ জানুয়ারির। সেই অ’ভিযোগে করা মা’মলার প্রধান আ’সামি করা হয় শামীমকে। কিন্তু এখন নিজেদের অবস্থান বদলে ফেলেছে আশার পরিবার। পরিবার বলছে, ‘তথ্য বি’ভ্রাটে শামীমকে আ’সামি করা হয়।’

আজ মঙ্গলবার বিকেলে অ’ভিনেত্রী আশা চৌধুরীর মা পারভীন আক্তারের সঙ্গে কথা হয় এনটিভি অনলাইনের। তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ দেখে আমাদের মনে হয়েছে, শামীমের এখানে দোষ নেই।’

গত ৪ জানুয়ারি রাত দেড়টার দিকে টেকনিক্যাল মোড় দিয়ে মোটরসাইকেলে চড়ে মিরপুরের বাসায় ফিরছিলেন আশা চৌধুরী। সে সময় পেছন থেকে একটি ট্রাকের ধাক্কায় মোটরবাইক থেকে রাস্তায় ছিট’কে পড়েন আশা। এতে তাঁর মা’থা থেঁতলে যায়। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃ’ত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক শামীম আহমেদকে প্রধান আ’সামি করে দারুস সালাম থা’নায় সড়ক পরিবহণ আইনে মা’মলা করেন আশার বাবা আবু কালাম। ওই মা’মলায় অ’জ্ঞাতপরিচয় আরো এক-দুজনকে আ’সামি করা হয়। আশার বরাত দিয়ে পরিবারের অ’ভিযোগ ছিল, নির্দিষ্ট সময়ে বাসায় ফেরার কথা থাকলেও শামীম ফেরেননি। পরিবার আড়াই ঘণ্টার হিসাব পাচ্ছিলেন না। সেজন্য তাকেই প্রধান আ’সামি করা হয়। কিন্তু এখন আশার পরিবারের অ’ভিযোগ বদলেছে, বদলেছে অবস্থানও। মা’মলা থেকে শামীমকে অব্যাহতি দেওয়ার ব্যাপারেও ভাবছে আশার পরিবার।

অ’ভিনেত্রী আশার মা পারভীন আক্তার এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘আমা’র মে’য়েকে যে রাতে হ’ত্যা করা হয়েছিল তখন আমাদের মনে হয়েছিল এ হ’ত্যাকা’ণ্ডে শামীম আহমেদ জ’ড়িত। কারণ, সে সময় শামীম আমাদের প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিতে পারছিলেন না। একেক সময় একেক কথা বলছিলেন। ফলে আমাদের স’ন্দেহ জন্মেছিল। কিন্তু পু’লিশের উ’দ্ধার করা সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ দেখে আমাদের মনে হয়েছে, এখানে শামীমের কোনো দোষ নেই। ট্রাকটি পেছন থেকে ধাক্কা না দিলে আমা’র মে’য়ের কিছু হতো না। শামীম নি’র্দোষ। মা’মলা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা করছি আম’রা। নি’র্দোষ ছে’লেকে ক্ষতি করে আমা’র কোনো লাভ নেই।’

পারভীন আক্তার বলেন, ‘শামীম আহমেদ আমাদের পুরো পরিবারের সঙ্গে অনেকদিন ধরে জ’ড়িত। সে আমা’র মে’য়েকে কখনো নাম ধরে ডাকত না। ওদের স’ম্পর্ক ছিল ভাই-বোনের মতো। নানা কাজে শামীম আশাকে সহযোগিতা করত। আম’রা শামীমের সঙ্গে কথা বলেছি। শামীম নিজেকে নি’র্দোষ দাবি করেছে। এবং ওই দিনের সব ঘটনা আমাকে খুলে বলেছে। সব মিলিয়ে আমাদের মনে হয়েছে শামীম দোষী না।’

ঘটনার পরে আপনি দাবি করে বলেছিলেন, আড়াই ঘণ্টার হিসাব পাচ্ছেন না এবং ওই আড়াই ঘণ্টা তারা কোথায় ছিল, সে তথ্যও দিতে পারেননি শামীম। সেজন্য তাকে প্রধান আ’সামি করেছিলেন। এখন কী’ সময়ের হিসাব পেলেন-এমন প্রশ্নে অ’ভিনেত্রী আশার মা বলেন, ‘ঘটনার পরপরই নানা রকম কথা বলেছিল আমাদের আত্মীয়-স্বজনরা। এ ছাড়া শামীমের কথা-বার্তায় নানা অসঙ্গতি দেখে আমাদেরও মনে হয়েছিল সেই দোষী। সেজন্য তাকে প্রধান আ’সামি করা হয়েছে। আমা’র মে’য়ের হয়তো কোনো কাজ ছিল, সেজন্য তাদের বাসায় ফিরতে দেরী হয়েছিল। শামীম যদি দোসী না হয়ে থাকে, তাহলে তার ক্ষতি করে আমাদের লাভ নেই।’

পারভীন আক্তার বলেন, ‘আরো সাত-আট বছর আগে আমা’র ছে’লে মা’রা যায়। সেখান থেকে শামীম আমাদের অনেক কাজে সহযোগিতা করে। তারপরও যদি সে দোষী হয়, তাহলে তা ত’দন্তে প্রমাণিত হবে।’

এ ব্যাপারে দারুস সালাম থা’নার ভা’রপ্রাপ্ত কর্মক’র্তা (ওসি) তোফায়ের আহমেদ এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘অনেকক্ষেত্রে দেখা যায়, আ’সামিপক্ষের সঙ্গে বাদীপক্ষের সমঝোতা হয়। সেক্ষেত্রে তো পু’লিশের কিছু করার থাকে না। তবে মা’মলা তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু অনাপত্তিপত্র দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আর মা’মলা তুলে নেওয়ার ব্যাপারে ওই পরিবারের সঙ্গে আমা’র কথা হয়নি। আম’রা ট্রাকচালককে ধ’রার চেষ্টা করছি।’

এদিকে মা’মলা’টির ত’দন্ত কর্মক’র্তা দারুস সালাম থা’নার উপপরিদর্শক (এসআই) সোহান আহম্মেদের মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি এই ব্যাপারে কথা বলতে চাননি।

তবে গত ৬ জানুয়ারি সোহান আহম্মেদ এনটিভি অনলাইনকে বলেছিলেন, ‘টানা চার ঘণ্টা ধরে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখলাম। ফুটেজে দেখা গেছে, একটি ট্রাক পেছন থেকে শামীমের মোটরসাইকেলকে মে’রে দেয়। এতে মোটরসাইকেল থেকে ছিট’কে পরে আশা ট্রাকের নিচে চাপা পড়েন। ঘটনাস্থলেই তিনি মা’রা যান। এ ঘটনায় প্রধান আ’সামি শামীমকে আম’রা গ্রে’প্তার করেছি। তারপর তাকে আ’দালতে পাঠানো হয়েছে। আ’দালতে পাঠানোর আগে শামীম আমাদের বলেছেন, তিনি নি’র্দোষ। তারা দুজন রাতে একসঙ্গে বিভিন্ন স্থানে ঘুরেছেন। তারপর বাসায় ফেরার পথে এই ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া মা’মলায় ট্রাকচালককে দ্বিতীয় আ’সামি করা হয়েছে। এখনো ট্রাকের খোঁজ মেলেনি।’

এদিকে তরুণ অ’ভিনেত্রী আশা চৌধুরীর মৃ’ত্যুতে তাঁর পরিবারের জন্য এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে গত রোববার হাই’কোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি এই মৃ’ত্যুর ঘটনায় দায় নিরুপণে একটি ত’দন্ত কমিটি গঠনেও রুল চাওয়া হয়েছে।

আশার মা পারভীন আক্তার হাই’কোর্টে এ রিট আবেদনটি করেছেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন রিটের পক্ষের আইনজীবী আনিচুর রহমান।

রিটে সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র, উত্তর সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মক’র্তা, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান, ঢাকা মহানগর পু’লিশ (ডিএমপি) কমিশনারসহ আটজনকে বিবাদী করা হয়েছে।

প্রায় চার বছর আগে টেলিভিশন নাট’কে আশার অ’ভিনয়ে আসা। অ’ভিনয়কেই তিনি পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। শিল্পী হিসেবে বিটিভির তালিকাভুক্ত হয়েছিলেন। চার বোনের মধ্যে আশা ছিলেন সবার বড়।

রাজধানীর বাংলাদেশ ইউনিভা’র্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলোজিতে (বিইউবিটি) আইন বিভাগে সপ্তম সেমিস্টারে পড়াশুনা করতেন আশা। তাঁর গ্রামের বাড়ি পাবনা জে’লায়।