আজহারির নামানুসারে রাখা হয়েছিল শি’শুর নাম, এখন অঝোরে কাঁদছেন অসহায় মা-বাবা

দুই মে’য়ের পর ছে’লেসন্তানের জন্ম। পরিবারে বইছিল আনন্দের ব’ন্যা। খুশিতে বাবা-মা ছে’লের নাম রাখেন বিশিষ্ট ইস’লামী বক্তা মিজানুর রহমান আজহারির নামানুসারে ‘মিজানুর রহমান’। কিন্তু চার মাস বয়সী মিজানুরকে এখন পর্যন্ত ডাক্তারের ছু’রি-কাঁ’চির নিচে যেতে হয়েছে দুইবার। তবুও সুস্থ হয়নি সে! উপরন্তু হৃ’ৎপি’ণ্ডে ছি’দ্র দেখা দিয়েছে ছোট্ট এই শি’শুটির। ফের অ’পারে’শন টেবিলে যেতে হবে মিজানুরকে। একমাত্র ছে’লের এমন জটিল অ’সুস্থতায় পরিবার থেকে উ’ধাও হয়ে গেছে হাসি।

পাবনার চাটমোহর উপজে’লার ফৈলজানা ইউনিয়নের ইদিলপুর গ্রামের রিকশাচালক বাবা রফিকুল ইস’লাম ও গৃহিণী খুশি আরা খাতুনের কপালে এখন চিন্তার ভাঁ’জ। হৃৎপি’ণ্ডের অ’পারে’শন করাতে লাগবে প্রায় দুই লাখ টাকা। এমনটাই জানিয়েছেন চিকিৎসক। কিন্তু কোথায় পাবেন এত টাকা? এই চিন্তায় দি’শেহা’রা অ’সহা’য় পরিবারটি!

সরেজমিন জানা যায়, জন্মের সময় মিজানুরের না’ভির ওপর একটি বড় মাং’সপি’ণ্ড দেখা দেয়। ছিল না পা’য়ুপ’থ। এছাড়া প্র’স্রা’বের রাস্তাও দুটি। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লে (রামেক) নিয়ে গেলে দুই দফায় অ’স্ত্রো’প’চা’রের মাধ্যমে মাংসপি’ণ্ড অ’পসা’রণ এবং পা’য়ুপ’থ বের করেন চিকিৎসক। এর জন্য দরিদ্র পরিবারটির ধা’রদে’না হয়েছে প্রায় লাখ টাকার ওপরে।

সম্প্রতি শি’শু মিজানুর পুনরায় অ’সুস্থ হয়ে পড়লে ঢাকা শি’শু হাসপাতা’লে নিয়ে যান তার বাবা-মা। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় মিজানুরের হৃ’ৎপি’ণ্ডে ছি’দ্র ধ’রা পড়ে। শুধু তাই নয়, প্র’স্রাবে’র রাস্তায় রয়েছে সমস্যা। তিন মাস পর অ’পারেশন করাতে হবে। অ’পারে’শন করাতে খরচ হবে দুই লাখ টাকার বেশি।

চিকিৎসকের এমন কথা শুনে বাড়ি ফিরে আসেন তারা। বর্তমানে মিজানুরের প্রতিনিয়ত ঠা’ণ্ডা লেগে থাকছে। শ্বা’সক’ষ্টসহ নানা উপসর্গ দেখা দিয়েছে। প্রায়শই অ’সুস্থ হয়ে পড়ছে শি’শুটি। কোথাও সহযোগিতা না পেয়ে হাল ছেড়ে দিয়েছেন রিকশাচালক বাবা রফিকুল ইস’লাম। কিন্তু ছে’লের এমন করু’ণ অবস্থা দেখে অ’ঝো’রে কেঁ’দে চলেছেন মা খুশি আরা খাতুন।

রফিকুল ইস’লাম যুগান্তরকে বলেন, ছে’লে হবে জেনে বিশিষ্ট ইস’লামী বক্তা মিজানুর রহমান আজহারি সাহেবের নাম অনুসারে নাম রেখেছিলাম। ইচ্ছে ছিল ছে’লেকে আলেম বা’নানো’র। কিন্তু টাকার কাছে হে’রে যাচ্ছি আম’রা। আমাদের স্বপ্ন কী’ শেষ হয়ে যাবে? বারবার অ’পারে’শন করাতে গিয়ে আমি নিঃ’স্ব হয়ে পড়েছি। ঋ’ণগ্র’স্ত হয়ে পড়েছি। প্রতিদিন ৩-৪শ’ টাকা আয় করে অ’পারে’শনে’র এত টাকা জো’গা’ড় করব কী’ভাবে?

অ’শ্রুসি’ক্ত নয়নে মা খুশি আরা খাতুন বলেন, আর কত ক’ষ্ট করবে আমা’র ছে’লে? এত টাকা আম’রা পাব কোথায়? লজ্জায় ভি’ক্ষা’ও করতে পারছি না! তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কা’মনা করেন তিনি।

এ ব্যাপারে ফৈলজানা ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইদ্রিস আলী প্রামাণিক বলেন, পরিবারটি খুব অ’সহা’য়। ধা’রদে’না করে দুইবার অ’পারে’শন করিয়েছে। বর্তমানে পরিবারটির চিকিৎসা করানোর মতো সাম’র্থ্য নেই। তাই সরকারি সহযোগিতা পেলে উ’পকৃ’ত হতো দরিদ্র পরিবারটি।