জোড়া পাথর নিয়ে চাঞ্চল্য

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা সদরের গড়ফতেহপুর মৌজায় সাধারণ মানুষকে দুটি জোড়া পাথর কৌতূহলী করে তুলেছে। চৌকোনা পাথর দুটি সম্পর্কে কেউ কিছু বলতে পারছেন না। তবে এ পাথর নিয়ে লোকমুখে ছড়িয়ে পড়েছে নানা গল্প, যা কেবলই রহস্য তৈরি করে চলেছে।

জেলা শহর থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে সোনাতলা উপজেলা সদর। সেখান থেকে ১ কিলোমিটার পূর্ব দিকে কাবিলপুর ও গড়ফতেহপুরের মধ্যবর্তী স্থানে রয়েছে জোড়া পাথর। গড়ফতেহপুর এলাকাটি ঢালু উঁচু ভূমি। পাশেই বাঙালি নদী। কথিত আছে, অতীতে এই এলাকাটি ছিল জঙ্গলে ভরা।

এর মধ্যেই ছিল পাথরের অবস্থান। গ্রামের মানুষ বংশানুক্রমে এ পাথর দেখছেন। অতীতে জোড়া পাথরের পাশেই ছিল হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কালীমন্দির। বর্তমানে কালীমন্দির অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নিকট অতীতেও অনেকে পাথরের ওপর গাভীর দুধ ঢলে দিতেন।

প্রবীণ লোকজন বলেন, জোড়া পাথরের কাছেই অনেক বড় বাঁশঝাড় ছিল। ঝাড়ের পাশেই নাপিত সম্প্রদায়ের বসতি থাকায় পরিচিতি ছিল নাপিতের আড়া। সন্ধ্যার পর এই রাস্তায় একা চলাচল করতে অনেকেই ভয় পেতেন। কখনো শোনা যেত জোড়া পাথরের ভিতর থেকে কালো বিড়াল বের হয়ে ছুটছে।

বগুড়ার সোনাতলা এলাকার শিক্ষাবিদ ইকবাল কবির লিমন জানান, ফতেহপুর সিক্রি ইতিহাস বিখ্যাত। প্রাচীন আমলের যুদ্ধের সময় ব্যবহার হতো বড় কামান। জোড়া পাথর দেখে মনে করা হয় বড় কামান বসানো হয়েছিল সেখানে। সেই থেকে পাথর দুটি রয়ে গেছে।

জোড়া পাথরের রং বর্তমানে কিছুটা বিবর্ণ হয়ে গেছে। কথা হয় প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগীয় আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানার সঙ্গে। তিনি বলেন, সোনাতলায় গিয়ে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন।