এসিআই ছাড়ছেন সৈয়দ আলমগীর

প্রায় দুই যুগ আগে ‘একশ ভাগ হালাল’ সাবানের স্লোগান নিয়ে দেশে আলোচনায় আসে যমুনা গ্রুপের অ্যারোমেটিক সাবান। যার মূল কারিগর ছিলেন সৈয়দ আলমগীর। যমুনা থেকে ১৯৯৮ সালে এসিআইতে যোগদানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির বেশ কয়েকটি দ্রুতবর্ধনশীল ভোগ্যপণ্যকে (এফএমসিজি) শীর্ষ কাতারে নিয়ে আসেন তিনি।

এসিআইয়ের বার্ষিক আয় ৭ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করতে রেখেছেন অবদান। তবে দীর্ঘ ২২ বছরের সম্পর্ক ছেদ করে নতুন প্রতিষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন সৈয়দ আলমগীর।

জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে এসিআই গ্রুপের বার্ষিক আয় ছিল ৬ হাজার ৯৪৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে কনজিউমার ব্র্যান্ডের অবদান ছিল প্রায় ২৪ শতাংশ। প্রায় শূন্য থেকে শুরু করা কনজিউমার ব্র্যান্ডকে মহীরুহে পরিণত করতে নতুন নতুন উদ্ভাবনী ধারণা ও ব্র্যান্ডিংয়ের বাস্তবায়ন করেছেন সৈয়দ আলমগীর। এ সময়ে বেশ কয়েকটি পণ্যকে বাজারের শীর্ষ অবস্থানে

নিয়ে আসতে সক্ষম হন তিনি। এসিআই অ্যারোসল ও লবণ এখন সুপার ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে। দেশে লবণের বাজারে এসিআই পিওর সল্টকে শীর্ষস্থানে আনতে এ পর্যন্ত লবণের প্যাকেটে ৬৬ বারের বেশি পরিবর্তন এনেছেন তিনি। আবার দেশে এফএমসিজিতে লেমিনেটেড প্যাকেজিংয়েওর সূচনা করেন সৈয়দ আলমগীর।

এসিআই অ্যারোসল, মশার কয়েল, স্যাভলন, এসিআই পিওর আটা, ময়দা, সুজি, এসিআই পিওর মসলাসহ আরো বেশকিছু পণ্যকে বাজারের নেতৃস্থানীয় করে তুলতে ভূমিকা রেখেছেন তিনি। এসিআই অ্যারোসল মার্কেটের ৯৫ শতাংশ ও স্যাভলন ৮০ শতাংশ মার্কেট শেয়ার দখল করতে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি স্যাভলন সাবান বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে।

শুধু এসিআইয়ের ব্যবসা সম্প্রসারণের মধ্যে তার চিন্তা-ধারণা সীমাবদ্ধ থাকেনি। ভোগ্যপণ্যের বাজারে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর শেয়ার কমাতে তার রয়েছে বড় ধরনের অবদান। দীর্ঘ এ সময়ে ইউনিলিভারের মতো বহুজাতিক কোম্পানির ব্র্যান্ডের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে তিনি সফল হয়েছে।

ইউনিলিভারসহ সবাই অ্যালুমিনিয়াম প্যাকেজিং করত। কিন্তু তিনি দেশে প্রথম লেমিনেটেড প্যাকের সূচনা করেন। লেমিনেটেড টিউব করে বাজারে ছাড়ার মাধ্যমে ক্লোজআপ, পেপসোডেন্টের মতো প্রতিষ্ঠিত পণ্যকে হারাতে সমর্থ হয়েছিলেন। নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণে তিনি সবসময়ই অগ্রগামী।

এসিআই কেন ছাড়ছেন বা নতুন কোথায় যাচ্ছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ আলমগীর বণিক বার্তাকে বলেন, সময় হলে সব জানাব। সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

জানা গেছে, দীর্ঘ প্রায় ২২ বছরের দায়িত্ব পালনকালে এসিআই কনজিউমারের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পান দুই বছর আগে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে এমবিএ সম্পন্ন করার পর বহুজাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি সানোফি এভেন্টিসে কর্মজীবন শুরু করেন।

১৯৯৮ সালে এসিআইতে দায়িত্ব গ্রহণের আগে ছয় বছর যমুনা গ্রুপে গ্রুপ মার্কেটিং ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মার্কেটিংয়ের গুরু ফিলিপ কটলার তার সর্বশেষ গ্রন্থ ‘প্রিন্সিপাল অব মার্কেটিং’-এ সৈয়দ আলমগীরের কার্যক্রম ও সৃষ্টি ‘একশ ভাগ হালাল’ স্লোগান অন্তর্ভুক্ত করেন। ২০১৪ সালে তিনি এশিয়ান রিটেইল কংগ্রেস কর্তৃক রিটেইল লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন।