নিজে পড়াশোনা জানেন না, অথচ চা বিক্রি করে চালান স্কুল!

পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষ রয়েছে যাদের জন্মই হয়েছে পরের উপকার করার জন। সারাটি জীবন এই মানুষগুলো নিজের খেয়ে বনের মহিষ তাড়িয়ে চলেন। ঠিক তেমনেই একজন হলেন ৫৮ বছর বয়সী ডিপ্রকাশ।

যিনি নিজে পড়াশোনা জানেন না, রোজগার বলতে ছোট্ট একটি চা দোকান। কিন্তু তাতে কি, মন টা তার অনেক বড়। সেই রোজগারের অর্ধেক টাকা দিয়ে তিনি বস্তিবাসীর ছেলেমেয়েদের জন্য চালান স্কুল। টাকা তো অনেকের থাকে। কিন্তু এমন বড় মন ক’জনের থাকে।

সবাই যখন আরও বেশি টাকার পিছনে সারাদিন দৌড়ে চলেছেন, তখন এদেশেরই কোনও এক প্রত্যন্ত গ্রামে সবার নজররে আড়ালে কাজ করে যাচ্ছেন এই বৃদ্ধ। শিক্ষার আলো দেখাচ্ছেন গরীব ছেলেমেয়েদের। তিনি জানিয়েছেন, চা বিক্রি করে তাঁর যা আয় হয় তার ৫০ শতাংশ একটি স্কুলে দান করেন তিনি। সেখানে বস্তিবাসী গরীব ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করে। ভারতের ওড়িশার বাসিন্দা বৃদ্ধ ডি প্রকাশ।

যার পুঁথিগত শিক্ষা বলতে তেমন কিছু নেই। মাত্র ৭ বছর বয়সেই চা বিক্রি শুরু করতে হয়েছিল। তাই স্কুলমুখো হওয়া হয়নি। পড়াশোনায় ভাল ছিলেন, কিন্তু পরিস্থিতি তাঁকে আর সে পথে এগোতে দেয়নি। তবু শিক্ষার কদর করতে জানেন তিনি। তাই তো দিনের পর দিন এই কাজ করে চলেছেন তিনি। তাঁর কাছে পরিবারেরও আগে এ স্কুল।

স্কুলটা তাঁর কাছে মন্দিরের মত, এমনটাই উল্লেখ করেছেন তিনি। না, তাঁর টাকা নিয়ে কোনও আগ্রহ নেই। এতগুলো শিশুর মুখে হাসি ফোটাতে পেরেছেন এটাই তাঁর জীবনের সবথেকে বড় আনন্দের। এছাড়া নিয়মিত র’ক্তদানও করেন তিনি। তাঁর পড়াশোনা করা হয়নি, তাতে কি, এতগুলো শিশুর মধ্যে দিয়ে এ বিশ্বের জন্য অনেক বড় অবদান রেখে যাচ্ছেন তিনি।