তামিমার তালাক নিয়ে এবার বিপরীত কথা বলছে ইউনিয়ন পরিষদ

সম্প্রতি বিয়ে করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাসির হোসেন। আর এ বিয়ে নিয়ে সৃষ্ট বিতর্ক ইস্যুতে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান তিনি। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে প্রমাণ স্বরূপ নাসিরের স্ত্রী তামিমা সুলতানা প্রথম বিয়ের তালাকের কাগজ প্রকাশ করেন।

বিতর্ক ইস্যু নিয়ে বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বনানীতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ক্রিকেটার নাসির। সেখানেই এই তালাকনামা প্রকাশ করা হয়। ওই তালাকের কপি দেখিয়ে তামিমা জানান, তালাকের এই কপি রাকিবের গ্রামের বাড়ি নলছিটি উপজেলার ভৈরবপাশা ইউনিয়ন পরিষদেও পাঠানো হয়েছে।

তবে এরকম কোনো নোটিশ বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত পাননি বলে জানিয়েছেন ওই ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মাকসুদুল হক মাকসুদ।

বৃহস্পতিবার তিনি এ সংক্রান্ত রেজিস্ট্রার দেখিয়ে বলেন, সাধারণ রেজিস্টার্ড ডাকযোগে এ জাতীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়। রেজিস্টার্ড ডাকযোগে পাঠানো হলে তা না আসার কোনো কারণ নেই। আমাদের রেজিস্ট্রারে এ ধরনের নোটিশ আসার কোনো প্রমাণ লিপিবদ্ধ নেই। তাছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে যেরকম তোলপাড় চলছে তা জানার পর আমরা পুনরায় যাচাই করে দেখেছি কিন্তু কোনো ধরনের নোটিশ আসার রেকর্ড নেই।

উল্লেখ্য, গেল ১৪ ফেব্রুয়ারি বিয়ে করেছেন ক্রিকেটার নাসির হোসেন। বিয়েকে স্মরণীয় করতে ভালোবাসা দিবসটিকেই বেছে নেন তিনি। কিন্তু বিয়ের সপ্তাহ পার না হতেই চরম বিতর্ক শুরু হয়েছে।

২০ ফেব্রুয়ারি নাসিরের স্ত্রীকে নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য বেরিয়ে আসে। সকাল থেকে সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে তামিমার আরেক স্বামী ও সন্তানের ছবি। রাকিব নামে ওই স্বামীর সঙ্গে তার বিয়ে হয় ১১ বছর আগে। সেই ঘরে কন্যা সন্তানের বয়স এখন নয় বছর।

নাসিরের সঙ্গে বিয়ের ভিডিও ও খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে উত্তরা পশ্চিম থানায় জিডি করেন রাকিব। এ কথা নিশ্চিত করেন উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও (ওসি) শাহ মো. আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস।

জিডিতে রাকিব উল্লেখ করেন, তামিমার সঙ্গে এখনো তার ডিভোর্স হয়নি। ডিভোর্স ছাড়া স্ত্রী কিভাবে অন্যের সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন সেই প্রশ্ন তার। এজন্য স্ত্রীর বিরুদ্ধে জিডি করেছেন তিনি।

পরে জিডির কপি ও তাদের বিয়ের কাবিননামাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। জিডিতে রাকিব অভিযোগ করেছেন, তার সঙ্গে সংসার করা অবস্থায় তামিমা গোপনে আরেকজনকে বিয়ে করেন। সেখানে ছয়মাস সংসারও করেন।

জিডি সূত্রে আরও জানা যায়, তামিমা ছয় মাস যে ছেলের সঙ্গে সংসার করেছেন ওই ছেলের নাম অলক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি অডিও ক্লিপে এই ছেলের বিষয়েই নাসির ও রাকিবের মধ্যে কথোপকথনও শোনা যায়।

শনিবার রাকিব তামিমা ও তার সম্পর্কের নানা বিষয়ে কথা বলেছেন গণমাধ্যমের সঙ্গে। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, তামিমাকে তিনি দুবার বিয়ে করেছেন। অর্থাৎ তামিমার জীবনে তিন স্বামী (নাসির হোসেন, অলোক ও রাকিব) এলেও বিয়ে করেছেন চারবার।

রাকিব বলেন, ‘প্রেম করে বিয়ে করেছিলাম। সে আসলে আমাকে চাপ দিয়েই বিয়ে করেছিল। প্রথমে আমরা টাঙ্গাইলে কোর্ট ম্যারেজ করেছিলাম। পরে আমরা বিয়ে করি বরিশালে। আমার বউকেই দুবার বিয়ে করেছি। এরপর সংসার শুরু করি।’

এদিকে রাকিব ও নাসিরের ফোন রেকর্ড ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে রাকিবকে ফোন করে জিডি করার ব্যাপারটি ধামাচাপা দিতে বলেন নাসির।

কথোপথনে রাকিবের প্রশ্ন ছিল, আপনি কি তামিমা সম্পর্ক সব কিছু জানেন? উত্তরে নাসির হোসেন বলেন, তার সব কিছু জেনেশুনেই আমি তাকে বিয়ে করেছি। তার বাচ্চা আছে, তার আগেও বয়ফ্রেন্ড ছিল সবকিছুই আমি জানি। আপনার বৌ আপনার সাথে ভালো থাকলে নিশ্চয়ই আপনার ১১ বছরের সংসার ভেঙে আমার কাছে চলে আসতো না।

রাকিব হাসান ও তামিমার কাবিননামায় দেখা যায় ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তিন লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে হয়। রাকিবের দাবি, গেল ১১ বছরে তার স্ত্রীর পড়াশোনা থেকে শুরু করে জব সবক্ষেত্রেই তিনি সাহায্য করেছেন।