পানি পান জরুরি কেন

আমাদের পুরো শরীরে রয়েছে অসংখ্য শিরা-উপশিরা। এই শিরা-উপশিরাগুলো ‘র’ক্ত”নালি। এই নালিগুলোর ভেতর দিয়ে ‘র’ক্ত প্রবাহিত হয়। প্রতিনিয়ত এই নালিগুলোর মধ্যে ‘র’ক্ত সরবরাহ করে ‘হৃ’ৎ’পি’ণ্ড। ‘হৃৎ’পি’ণ্ড সারা শরীরের জন্য ‘র’ক্ত সঞ্চালনকারী পাম্প হিসেবে কাজ করে। পানির মটর যেমন পুরো বিল্ডিং-এর পানির পাইপ লাইনগুলোতে পানি সরবরাহ করে, তেমনি হৃৎপিণ্ড সারা দেহের ‘র’ক্ত’না’লিতে ‘র’ক্ত প্রবাহিত করে।

পানি পান করলে ‘র’ক্ত সঠিকভাবে প্রবাহিত হতে পারে। ফলে পুরো শরীরের সবগুলো ‘অ’ঙ্গে ‘র’ক্ত পৌঁছাতে সুবিধা হয়। পানি পান সব সময়ের জন্যই জরুরি। তবে গরমে পানি পানের পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দিতে হবে। এর কারণ হলো গরমে ঘামের কারণে আমাদের শরীরের প্রয়োজনীয় পানির অনেকটা বের হয়ে যায়। ফলে দেখা দিতে পারে পানিশূন্যতা।

* নিয়মিত পান করলে ‘র’ক্তে চর্বির মাত্রা কমে। নিয়মিত দেড় থেকে দুই লিটার পানি পান করলে ত্বকের প্রতিটি কোষের মধ্যে পানি পৌঁছে, এতে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে।

* ‘কি’ডনি আমাদের শরীরের ছাঁকনযন্ত্র হিসেবে কাজ করে। নিয়মিত পানি পান করলে ‘কি’ডনির কাজ করতে সুবিধা হয়। আমাদের মূত্রথলিতে যে রোগজীবাণুগুলো জমে যায়, পানি পান করার ফলে মূত্রের সাহায্যে তা শরীরের বাইরে চলে যায়।

* পানি পুরো শরীরের তাপমাত্রা বজায় রাখে। আমাদের শরীরের পানি শূন্যতা রোধ করে, অম্ল ও ক্ষারের সাম্যাবস্থা ঠিক রাখে। ‘র’ক্তে’র টক্সিন বা ‘ক্ষ’তি’কর উপাদানগুলোর পরিমাণ কমায়।

* পানি হজমশক্তি বাড়িয়ে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। ফলে এসিডিটির পরিমাণ কমে। ব্রণ, ত্বকের সমস্যা কমাতে ভূমিকা রাখে।

* ফ্যাটি লিভারের রোগীরা নিয়মিত দুই লিটার পানি খাবেন। পাশাপাশি খাবার নিয়ন্ত্রণ জরুরি। ফ্যাটি লিভারের রোগীকে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। লিভারে চর্বি জমে গেলে ফ্যাটি লিভার হয়। এই সমস্যায় ওজন কমানো ভীষণ জরুরি। নিয়মিত পানি পান করলে পেট ভরে থাকবে দীর্ঘ সময়। যা পরোক্ষভাবে ওজন কমাতে সাহায্য করবে।

* পানি সারা শরীরের খাবারের পুষ্টি এবং অক্সিজেন সঠিকভাবে পৌঁছাতে সাহায্য করে। তাই খাবার থেকে পর্যাপ্ত পুষ্টি গ্রহণের জন্য নিয়মিত পানি পান করুন।

* ডায়াবেটিসে ‘আ’ক্রা’ন্ত রোগীর ‘র’ক্তে ‘ই’ন’ফে’কশন হওয়ার ‘ভ’য় বেড়ে যায়। তবে নিয়মিত পানি পান করলে ‘ভ’য় নেই। কারণ এর ফলে ‘র”ক্তের ‘জী’বা’ণু ঘাম ও মূত্রের মাধ্যমে শরীরে বাইরে চলে যায়।

* ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য যারা খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন, তারা পানি এবং পানি জাতীয় খাবারের পরিমাণ বাড়িয়ে দেবেন। এতে ত্বক ভালো থাকবে।

* পিত্তথলি বা গলব্লাডার কেটে ফেলার পর অনেকের হজমশক্তি দুর্বল হয়ে যায়। পিত্তথলির অপারেশনের পর সুস্থ হয়ে নিয়মিত পানি পান করলে কমতে পারে অ্যাসিডিটির ‘ঝুঁ’কি।

* উচ্চ ‘র’ক্ত’চা’পের রোগীরা নিয়মিত পানি পান করবেন। এতে ‘র’ক্ত’না’লি’গুলো সঠিকভাবে কাজ করবে। ফলে উচ্চ ‘র’ক্ত’চাপ কমবে।

* যারা শারীরিক পরিশ্রমের কাজ বেশি করেন বা বাসার বাইরে দীর্ঘ সময় রোদে কাজ করেন, তারা শরীরের পানিশূন্যতা রোধ করার জন্য নিয়মিত দেড় থেকে দুই লিটার পানি পান করবেন।

* ত্বক ও চুলের উজ্জ্বলতা বাড়াতে নিয়মিত পানি পান করা জরুরি। কারণ ত্বক ও চুলের প্রতিটি বিন্দুতে পানি অক্সিজেন পৌছাতে সাহায্য করে।

* কিডনির জটিলতায় ‘আ’ক্রা’ন্ত বা ডায়ালাইসিস চলছে, এমন রোগীকে অনেক সময় মেপে পানি খেতে হয়। এমন অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া পানি পান করা অনুচিত।