ইউটিউব দেখে কৌশলে কোটিপতি দিনমজুরের ছেলে দীপু!

দীপুর বাড়ি ভোলার চরফ্যাশনে। দিনমজুরের এই ছেলে ইউটিউব দেখে দেখে মাত্র ২০ বছর বয়সেই কোটিপতি হয়ে গেছেন। তিনি নিজেকে কখনো মার্কিন নাগরিক, কখনো এনএসআইয়ের পরিচালক, বড় সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দেন। এভাবে মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা।

ইউটিউব দেখে দেখে তিনি প্রতারণার নতুন নতুন কৌশল রপ্ত করেছেন। আর সেই কৌশল কাজে লাগিয়ে কোটি টাকার মালিক হয়েছেন অল্পদিনেই। তিনি পরিচয় দিতেন গ্রুপ অব কোম্পানির মালিক হিসাবে।

সম্প্রতি ওই প্রতারক পোশাক তৈরির প্রতিষ্ঠান নোমান গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পাওয়ার খবর জানাতে রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

ফেসবুক লাইভে জানায়, গুলশান ওয়েল ফেয়ার ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছে। এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে নোমান গ্রুপের হেড অব প্রটোকল মাজহার ইসলাম চৌধুরীর নজরে আসে বিষয়টি।

এটি যে প্রতারণা, তা ধরে ফেলেন তিনি। পরে প্রতারক দীপুর বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি। এ ছাড়া অভিযোগ করা হয়েছে গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগে। পরে তাকে রাজধানীর পল্লবী থেকে রোববার বিকালে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ডিএমপি গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মাদ শরীফুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে দীপুর প্রতারণার সত্যতা পাওয়া গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে তার প্রতারণার নানা কৌশল।

তিনি জানান, ১৪ বছর বয়সে ভোলায় ত্রাণের টাকা আত্মসাতের মধ্যদিয়ে শুরু হয় দীপুর প্রতারণা। নিজ জেলা ভোলাসহ, কিশোরগঞ্জ ও সিলেট সরকারি প্রটোকলে সফর করে সে। এমনকি সৌদি সরকারের ডাকে হজও করে। এনএসআইয়ের সহকারী পরিচালক হিসাবে চাকরি দেওয়ার নামে হাতিয়েছে মোটা অঙ্কের অর্থ।

পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, করোনায় অসহায় মানুষকে সহায়তার নামে টিম গঠন করে প্রবাসীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় লাখ লাখ টাকা। তার নামে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ আছে এমন চেক দেখিয়ে করে প্রতারণা।

ফাঁদ পাততে সে চলাফেরা করত দামি ব্র্যান্ডের ভাড়া করা গাড়িতে। তার হাত থেকে রেহাই পাননি ভাড়া করা গাড়িচালকরাও। তার বিরুদ্ধে গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর ভাটারা থানায় মামলা করেন লেকশো অটো লিমিটেডের গাড়িচালক মীর সুজেল।

দীপুর বিরুদ্ধে গাজীপুরের শ্রীপুর মডেল থানা, টাঙ্গাইলের কালিহাতী থানাসহ চরফ্যাশন থানায় প্রতারণাসহ জাল-জালিয়াতির ১০-১৫টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ চর আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ।