আরও এক সপ্তাহ বাড়ছে ল’কডা’উন

চলমান ল’কডা’উনের মেয়াদ আরো এক সপ্তাহ বাড়িয়ে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একইসংগে বহাল রাখা হয়েছে আগের সব শর্ত। সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে সচিবদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। পরে বৈঠকের বিস্তারিত জানান প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুরথ কুমার সরকার।

তিনি বলেন, চলমান ল’কডা’উনের মেয়াদ আর এক সপ্তাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে সচিবদের বৈঠকে। এই বিষয়ে আজ অথবা কাল প্রজ্ঞাপন হতে পারে। লকডাউন বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে আগের দেওয়া নির্দেশনা বহাল থাকছে বলে জানান তিনি।

এর আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে সরকার সারাদেশে আরও এক সপ্তাহ সর্বাত্মক ল’কডা’উন বাড়ানোর চিন্তা ভাবনা করছে।

সোমবার (১৯ এপ্রিল) দুপুর সোয়া ১২টায় নিজ বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্স যুক্ত হয়ে এই কথা জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, ‘জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে সরকার ঈদের আগে লকডাউন শিথিলেরও চিন্তাভাবনা করছে।’

সারাদেশে গত ১৪ এপ্রিল শুরু হওয়া এ সর্বাত্মক ল’কডা’উন শেষ হওয়ার কথা ছিল ২১ এপ্রিল। তার আগেই রোববার (১৮ এপ্রিল) এক ভার্চুয়াল বৈঠকে করো’নাভা’ই’রাস সং’ক্র’মণ রোধে আরও এক সপ্তাহের জন্য ‘কঠোর ল’কডা’উন’ আরোপের সুপারিশ করে কো’ভি’ড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। প্রস্তাবিত এই ল’কডা’উন শেষ হওয়ার আগে সং’ক্র’মণের হার বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ারও পরামর্শ দেয় এই কমিটি।

কমিটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈজ্ঞানিকভাবে দুই সপ্তাহের কম ল’কডা’উনে কার্যকর ফলাফল আশা করা যায় না। এজন্য জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি কমপক্ষে দুই সপ্তাহের জন্য পূর্ণ ল’কডা’উন সুপারিশ করেছিল। সরকার ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের ল’ক ডা’উন ঘোষণা করায় কমিটি সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

ল’কডা’উনের সময় স্বাস্থ্যসেবা, ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য জরুরি সেবা ছাড়া সবকিছু বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে কমিটি। খোলা রাখা যাবে এমন জরুরি সেবার তালিকা প্রকাশ করারও অনুরোধ জানানো হয়েছে। তা না হলে বিরূপ পরিস্থিতির আশংকা রয়েছে উল্লেখ করে সম্প্রতি চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের চলাচলে বাধা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয় সভায় তুলে ধরা হয়। কাঁচা বাজার আবারও উন্মুক্ত স্থানে বসানোরও প্রস্তাব দেয় জাতীয় কমিটি।

ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, “দেশের অর্থনীতি সচল রাখার স্বার্থে শিল্প-কলকারখানা খোলা রাখার বিষয়টি কমিটি উপলব্ধি করে। তবে, বেসরকারী দপ্তর, ব্যাংক খোলা রাখা, ক্রমবর্ধমানভাবে ব্যক্তিগত গাড়ী চলাচল, ইফতার বাজারে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ভিড় ল’কডা’উনের সাফল্যকে অনিশ্চিত করে।”

রবিবার রাতে অনুষ্ঠিত ওই ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কো’ভি’ড ১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লা।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে দেশে ক’রোনা’ভা’ইরা’সের সং’ক্র’মণ বাড়তে শুরু করে। ক’রো’নার সং’ক্র’মণ আচমকা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবছর ৫ এপ্রিল থেকে প্রথম দফায় সাত দিনের ‘কঠোর বিধিনিষেধ’ জারি করে সরকার। এর ধারাবাহিকতা চলে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত। ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হয় দ্বিতীয় দফা কঠোর নিষেধাজ্ঞা। এটি চলবে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত।