লোকে লোকারণ্য শিমুলিয়া!

করোনা পরিস্থিতি যাই হোক স্বপ্নকে বাড়ি নিয়ে যেতেই হবে। করতে হবে পরিবার পরিজনের সাথে ঈদ! আর তাই মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ফেরিঘাটে মানুষের ঢল নেমেছে।

দূরপাল্লার যানবাহন বন্ধ থাকলে কী হবে, বাড়ি যাওয়া থেমে নেই নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষদের। ফেরি করে পারাপারের জন্য দক্ষিণবঙ্গের ঘরমুখী হাজার হাজার মানুষ এসে জড়ো হচ্ছেন শিমুলিয়া ঘাট এলাকায়। বেলা যত বাড়ছে, বাড়ছে ভিড়।

আজ বুধবার ভোর থেকেই শিমুলিয়া ঘাট লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। সকাল ১০টা পর্যন্ত পাওয়া খবরে প্রায় ৩ হাজারেরও বেশি মানুষ ঘাটে অপেক্ষা করছে নদী পার হওয়ার জন্য। এর আগে পাওয়া খবরে জানা গেছে, ঘরমুখী যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে ফেরি চলাচলের অনুমতি দিয়েছে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়। এই অনুমতির পর শিমুলিয়া ঘাটে ঘরমুখী মানুষের চাপ বেড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার গভীর রাত থেকেই শিমুলিয়া ঘাটে লোকজন আসতে শুরু করে। ভোট হতে হতে সেটি উপচে পড়া অবস্থানে রূপ নেয়।

শিমুলিয়া ঘাটে বসানো চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করছেন বিজিবি সদস্যরা। গত কয়েকদিনের মতো আজও ঘাটের প্রবেশ মুখে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রায় ১ কিলোমিটার হেঁটে যাত্রীদের ঘাটে প্রবেশ করতে হচ্ছে। পরিবার পরিজন ও মালপত্র নিয়ে হেঁটে ঘাটে পৌঁছাতে হাঁপিয়ে উঠছে যাত্রীরা। ঘাটে এসে যাত্রী চাপে ফেরিতে উঠতে যুদ্ধ করতে হচ্ছে যাত্রীদের।

দায়িত্বরত কয়েকজন বিজিবি সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘরমুখী যাত্রীরা নানা কারণ-যুক্তি দেখিয়ে সরকারি বিধিনিষেধ অমান্য করছেন। ফেরিঘাটের আশপাশে থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই জেলে নৌকাসহ ট্রলারে যাত্রীরা পদ্মা পার হওয়ার চেষ্টা করছেন। তাদের আটকানোর চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। প্রচুর পরিমাণ মানুষ জড়ো হচ্ছেন ঘাটে।

বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ফেরিঘাটের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের ১৬টি ফেরির মধ্যে ১৩টি চলছে। তবে ঘাট পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে পণ্যবাহী ৪ শতাধিক গাড়ি। কোনোভাবেই জনস্রোত ঠেকানো যাচ্ছে না। স্বাস্থ্যবিধির কিছুই মানা হচ্ছে না।

শফিকুল আরও বলেন, ‘বাংলাবাজার থেকে যখন কোন ফেরি আসছে তখনি হুমড়ি খেয়ে পড়ছে যাত্রী। যাত্রীদের চাপে বাংলাবাজার ঘাট থেকে ছেড়ে আসা ফেরিগুলো থেকে যানবাহন ঠিকমতো নামাতে পারছি না। ফলে যানবাহন নামিয়ে ফেরি ছাড়তে দেরি হচ্ছে