মানুষ যেভাবে বাড়ি গেল, তাতে আমরা মর্মাহত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঈদ উপলক্ষে ঘরে ফেরা মানুষের ঢল দেখে মর্মাহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেছেন, ‘করোনা পরিস্থিতি মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে আছে। মানুষ যেভাবে বাড়িতে গেল, তাতে আমরা খুবই মর্মাহত হলাম। সরকার তো চেষ্টা করেছে মানুষকে সুরক্ষিত রাখার। সে জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। কিন্তু মানুষ সেই সুরক্ষা মানল না। চলে গেল যে যেমনে পারে।’

ওই অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এটি আশা করব, তাঁরা যেন নিজের জায়গায় গিয়ে বেশি ঘোরাফেরা না করেন। তাঁরা যেন ভাইরাসটা ছড়িয়ে না দেন। আমরা আল্লাহু তাআলার কাছে দোয়া করি, যাতে ভাইরাসটি ছড়িয়ে না যায়।’ তিনি আরও বলেন, করোনা নিয়ন্ত্রণের জন্য টিকা একটি পন্থা। এর পাশাপাশি মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলাও একটি বড় বিষয়।

চীনের উপহার হিসেবে আসা করোনাভাইরাসের পাঁচ লাখ ডোজ টিকা হস্তান্তর অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং আনুষ্ঠানিকভাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের কাছে উপহারের এই টিকা হস্তান্তর করেন। রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এই টিকা হস্তান্তর করা হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ১২ হাজার শয্যার ব্যবস্থা করেছি হাসপাতালে। এ ছাড়া ১৩০টি হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইনের ব্যবস্থা রয়েছে। সাড়ে চার শ ল্যাব কাজ করছে এই ভাইরাসের পরীক্ষা–নিরীক্ষার জন্য এবং মানুষ সুবিধা পাচ্ছে।’

চীন থেকে টিকা পাওয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘এই দুঃসময়ে আমাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও দেশটির নাগরিকদের ধন্যবাদ জানাই। আমরাও চীনের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম, যখন চীনের উহানে করোনা ছড়িয়েছিল।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আরও বেশি টিকা পেতে তাঁরা চীন সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছেন। চীনের সিনোফার্মের টিকা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত। অনেক দেশই এই টিকা ব্যবহার করছে। চীনও এই টিকা ব্যবহার করছে। আরও বেশি টিকা পাওয়ার আশা করছেন বলেও জানান মন্ত্রী।