অক্সিজেন কালোবাজারি, নকল ওষুধ বিক্রির শাস্তি নিশ্চয় একদিন তারা পাবে

অপেক্ষার হলো অবসান। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গতকাল অনলাইনে মুক্তি পাচ্ছে সালমান খান অভিনীত ও প্রযোজিত ছবি ‘রাধে: ইয়োর মোস্ট ওয়ান্টেড ভাই’। প্রভু দেবা পরিচালিত অ্যাকশন-থ্রিলার ধর্মী এ ছবিতে সালমান ছাড়াও আছেন দিশা পাটানি, রণদীপ হুদা, জ্যাকি শ্রফ প্রমুখ। সম্প্রতি এক ভার্চ্যুয়াল সাক্ষাৎকারে বলিউড সুপারস্টার সালমান খানের মুখোমুখি হন প্রথম আলোর মুম্বাই প্রতিনিধি দেবারতি ভট্টাচার্য। বৈশাখের সেই বৈকালিক আড্ডায় নিজের নতুন সিনেমা ছাড়াও অভিনেতা সালমান কথা বললেন করোনার ভয়াবহতা নিয়ে।

আমাকে অনেকে বলেছে যে এখন ‘রাধে’ রিলিজ করার সঠিক সময় নয়। চারদিকে এত মৃত্যু। কোভিডে আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। কিন্তু আমি মনে করছি যে এটাই সঠিক সময়। কারণ, মানুষের মনজুড়ে শুধু আতঙ্ক। এই সময়ে ‘রাধে’ মানুষকে বিনোদন দিতে পারবে। মহামারির সময় মানুষ হাসতে ভুলে গেছে। তাদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য ‘রাধে’কে নিয়ে আসছি। আর আমি আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে এবারের ঈদে ‘রাধে’ রিলিজ করব। থিয়েটারে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল এটা। কিন্তু করোনার কারণে এখন অনলাইনে আসছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অবশ্যই ‘রাধে’ সিনেমা হলেও মুক্তি পাবে।

না, না। এটা একদম ভুল কথা। আমরা যা ‘কাট’ করেছি, তা থিয়েটারের জন্য। বরং ওটিটির জন্য আমাদের সিনেমার দৈর্ঘ্য আরও বাড়ানো উচিত ছিল। আমরা ছবিটিকে আড়াই বা তিন ঘণ্টা করতে পারতাম। আমি আমার ছবি সাধারণত ২ ঘণ্টা ২০ মিনিটের মতো রাখার চেষ্টা করি। অনেক সময় আরও ছোট রাখি। আসলে আমি চাই, দর্শক যাতে ছবিটা পুরোপুরি উপভোগ করেন।

অতীতের দিকে ফিরে দেখুন। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি সব সময় সবার আগে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। শুধু বলিউড বললে ভুল বলা হবে। দক্ষিণ, বাংলা, পাঞ্জাব—সব ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি সবার আগে মানুষের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। কারণ, সচেতনতার বার্তা ইন্ডাস্ট্রির মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছায়। আর ফ্যানরা আমাদের কথা শোনেন।

রাধে’ থেকে আমরা লাভ করব না, বরং আমরা ক্ষতির অপেক্ষায় আছি। কারণ, ‘রাধে’ থিয়েটারে মুক্তি পায়নি। থিয়েটারে মুক্তি পেলে আমরা কোটি কোটি টাকা আয় করতাম। আর তা সত্ত্বেও দর্শকের মনোরঞ্জনের জন্য ছবিটা অনলাইনে আনতে যাচ্ছি। তাই রিলিফ ফান্ডে যা যাবে, তা আমাদের পক্ষ থেকেই যাবে। গতবার আমরা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির কর্মীদের মাথাপিছু দেড় হাজার থেকে তিন হাজার টাকা দিয়েছিলাম। এই প্রক্রিয়া আবার শুরু হয়ে গেছে। এবার ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ৪৫-৫০ হাজার দিনমজুরসহ সিনেমাকর্মীরা এই টাকা পাবেন। আমার ফ্যানক্লাবগুলো যেভাবে নিজেদের পকেট থেকে সাধারণ মানুষকে সাহায্য করছে, সেটা সত্যিই প্রশংসনীয়।

কী বলব বলুন? করোনার প্রায় দেড় বছর হতে চলল। আর এবারের ঢেউ অনেক বেশি মারাত্মক। আগে কেবল শুনতাম দূরে কোথাও মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এখন তো সবার ঘরে ঘরে করোনা হানা দিচ্ছে। আমি চাই, সবাই যেন নিরাপদ থাকে। গত বছর আমার ড্রাইভার করোনায় আক্রান্ত হয়েছিল। এবার আমার দুই বোন পজিটিভ ছিল। আমি কোনোক্রমে পাশ কাটিয়ে বেঁচেছি। সবাইকে টিকা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। টিকা নিলে করোনা হবে না, এমনটা নয়। কিন্তু ভেন্টিলেটর পর্যন্ত যেতে হবে না। প্রাণসংশয় কম হবে। আমি টিকা নিয়েছি। বাবা-মা গতকাল নিয়েছেন। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আমরা সতর্ক হলেই অনেক প্রাণকে রক্ষা করতে পারব।
প্রভু দেবার পরিচালনায় আপনি একাধিক হিট ছবি উপহার দিয়েছেন। আবার আপনাদের জুটির ছবি এল।

সবই ভক্তদের ভালোবাসা। আল্লু অর্জুন আমার দেখা অন্যতম সেরা ড্যান্সার। আমার সঙ্গে তাঁর যদি তুলনা করা হয়, তাহলে তো নিশ্চয়ই ভালো। আমি আমার নাচের পারদর্শিতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। আরও বেশি পরিশ্রম করলে আমি আরও ভালো নাচ করব। তবে সে জন্য অনেক সময় লাগবে। আমি নিশ্চিত যে আগামী ৩০-৪০ বছর পর আমি মাইকেল জ্যাকসন ও প্রভু দেবার থেকেও ভালো নাচ করব (সশব্দে হেসে)।

আসলে ভাইয়ের অকালমৃত্যুতে সাজিদ ভীষণ ভেঙে পড়েছিল। সেটাই স্বাভাবিক। ওয়াজিদ শুধু তার ভাই নয়, পরস্পরের ভালো বন্ধু, পার্টনার, সংগীতের সাথি ছিল। তাদের দিন শুরু হতো একসঙ্গে। তারা একে অপরকে প্রচণ্ড ভালোবাসত। করোনায় ভাইকে হঠাৎ করে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে গিয়েছিল সাজিদ। ওয়াজিদের অসংখ্য গান আমার কাছে আছে। তার গাওয়া গানও আমার কাছে আছে। ওয়াজিদের সঙ্গে দেখা হলে সে নানা রকম গান দিত। সেগুলো আমি সযত্নে তুলে রেখেছি। আগামী দিনে আমার সব ছবিতে সেই গানগুলো সুযোগমতো ব্যবহার করব। আমি যত দিন বেঁচে থাকব, ওয়াজিদের সুরও তত দিন থাকবে। আগামী প্রজন্মও তার গান শুনবে

আমরা এক দুঃসময় পাড়ি দিচ্ছি। সবার মুখে হাজারবার শুনতে পাই শুধু কয়েকটি কথা, ‘শক্ত থাকো, সাবধানে থাকো, বাড়িতে থাকো।’ কিন্তু যাঁরা প্রিয়জনদের করোনায় হারিয়েছেন, তাঁদের কাছে এই শব্দগুলো যেন অর্থহীন। আজ এমন এক ভয়াবহ পরিস্থিতি যে মানুষের কাজ নেই, পেটে ক্ষুধা, ওষুধ কেনার টাকা নেই। অক্সিজেন নেই, বেড নেই, ওষুধ নেই, চারদিকে শুধুই হাহাকার। আমি চারদিক থেকে প্রচুর ফোন পাই। আমি যতটা পারি সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। হাসপাতালের বেড চেয়ে সাহায্যের ফোন আসে। কিন্তু আমি যদি কাউকে বেড পাইয়ে দিই, তার মানে অন্য একজনকে বঞ্চিত করছি, আর এটা কাম্য নয়। সবচেয়ে দুঃখজনক যে একটা ওষুধের দাম যেখানে ২৫০-৩০০ টাকা, সেই ওষুধের নকল বিক্রি হচ্ছে ৫০ হাজার টাকায়। অক্সিজেন কালোবাজারি চলছে। এরা কেমন মানুষ? এখন মানুষের জীবন বাঁচানো প্রয়োজন। আর সেখানে একদল মানুষ লুটেপুটে খাচ্ছে। এসবের প্রতিদান তারা নিশ্চয়ই পাবে। অক্সিজেন কালোবাজারি, নকল ওষুধ বিক্রির শাস্তি নিশ্চয় একদিন তারা পাবে।