কোয়ারেন্টিনে থাকা ভারতফেরত যাত্রীদের পাশে বেনাপোল পৌর মেয়র

ভারতে নতুন করে করোনা ভেরিয়েন্ট নামক উপসর্গ দেখা দেওয়ায় সে দেশ থেকে ফেরত আসা বাংলাদেশি পাসপোর্টযাত্রীদের সরকার প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা হচ্ছে। করোনা মহামারি সংক্রমণ ছড়িয়ে একাকার হতে না পারে তার জন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে বেনাপোল দিয়ে ভারতফেরত অনেক যাত্রীরা সে দেশের অর্থ খরচ করে নিজ দেশে ফিরে আর্থিক সংকটে ভুগছে। হোটেল ভাড়া, খাবার বিলসহ আনুসাঙ্গিক খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। তারপর মুসলিম উম্মাহর বড় উৎসব ঈদুল ফিতরের দিন হোটেলে আটকা পড়ে আছে। পারছে না পরিবার পরিজনের সঙ্গে ঈদ উপভোগ করতে। এমন সময় এসব মানুষের কথা ভেবে মানবতার সেবায় এবং ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে এগিয়ে এসেছে বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটন।

তিনি উন্নত মানের খাবার নিয়ে ছুটে গেছেন বেনাপোলের ১৩টি হোটেলে থাকা ৪৫০ জন ভারতফেরত বাংলাদেশি যাত্রীদের কাছে। এছাড়াও তাদের দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা কর্মীদের হাতেও তুলে দেন একই খাবার।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার সময় যশোর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটন এসব মানুষের কথা ভেবে উন্নতমানের খাবার, পানিসহ নিজেই ছুটে যান হোটেলে হোটেলে। সেখানে কোয়ারেন্টিনে থাকা ভারত থেকে আসা বাংলাদেশি পাসপোর্টযাত্রীদের তিনি সরকারি সিদ্ধান্তের কথা মেনে চলার জন্য বলেন। যাত্রীদের বলেন, হয়ত আপনাদের সাময়িক কষ্ট হবে বা হচ্ছে। তবে বৃহৎ ও দেশের স্বার্থে আমাদের সরকারের এই সিদ্ধান্তের ওপর অটল থাকতে হবে। কোনো যাত্রীদের কোনো সমস্যা হলে তিনি হোটেল ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার কাছে জানাতেও বলেন।

এ ব্যাপারে মেয়র আশরাফুল আলম লিটন বলেন, আনন্দ যত ভাগাভাগি করা হয় তত বাড়ে। এটা কমে না। আজ এই দুর্যোগ মহামারির সময় আমার বেনাপোল শহরে দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষ কোয়ারেন্টিনে আটকা পড়েছে। এই শহরের একজন মেয়র হিসাবে তাদের দেখভালের দায়িত্বও অনেকটা তার রয়েছে। যারা এখানে রয়েছে তাদের প্রত্যেকের পরিবার পরিজন, প্রিয়জন আপনজন রয়েছে। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ করোনার কাছে আমাদের মতো তারাও অসহায়। তারা পারছে না পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে।

সরকারিভাবে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তার প্রতি আমরা শ্রদ্ধা জানিয়ে তারাও আমাদের দেশের সন্তান এবং আমাদের ভাই, বোন, চাচা ইত্যাদি বয়সের লোক রয়েছে তাদের সঙ্গে মিশে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে চাই এবং বুঝাতে চাই আমরাও তাদের পরিবারের একজন সদস্য। অন্তত কিছুটা সময় হলেও তারা মনে স্বস্তি ও সাহস পাবে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ এপ্রিল থেকে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভারত থেকে ফেরত যাত্রীদের হোটেলে বা হাসপাতালে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে ১৪ দিন থাকার সিদ্ধান্ত হয়। সেই অনুযায়ী বেনাপোলে বর্তমান ১৩টি হোটেলে অবস্থান করছে প্রায় ৪৫০ জন যাত্রী। যাদের ইতিমধ্যে ১৪ দিন হয়েছে তারা বাড়ি চলে গেছে।