করোনায় মানুষের কষ্ট ‘বুঝছেন’ মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, করোনা মহামারিতে ভোগা মানুষের কষ্ট বুঝছেন তিনি। আজ শুক্রবার এক টিভি ভাষণে এ কথা বলেন তিনি। দেশটিতে গত কয়েক সপ্তাহে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু অনেক বেড়ে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা নিয়ে সমালোচনার শিকার হয়ে অবশেষে মুখ খোলেন মোদি। খবর এএফপির।

গতকাল বৃহস্পতিবার ভারতে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ৩ লাখ ৪৩ হাজার। এখন পর্যন্ত মোট সংক্রমিত হয়েছেন ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ। গত ২৪ ঘণ্টায় টানা তৃতীয় দিনের মতো মারা গেছেন ৪ হাজার মানুষ। মোট মৃতের সংখ্যা ২ লাখ ৬২ হাজার ৩৫০ জন।

ভারতে করোনার ধাক্কায় বিপর্যস্ত মানুষ। হাসপাতালের শয্যা, অক্সিজেন সিলিন্ডার এবং অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে দেশটিতে। এর জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোদি সরকারকে দায়ী করেছেন অনেক মানুষ।
বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, হাসপাতালের শয্যা ও অক্সিজেন সিলিন্ডারের মতো ‘গায়েব’ প্রধানমন্ত্রী মোদিও। তবে শুক্রবার মোদি দাবি করেন, তাঁর সরকার যুদ্ধ পরিস্থিতির মতোই কোভিড-১৯ মোকাবিলা করছে।

টিভি ভাষণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনার কারণে আমাদের অনেক কাছের মানুষকে হারিয়েছি আমরা। সম্প্রতি আমাদের নাগরিকেরা যে বেদনা সইছেন, তা আমি অনুভব করছি। সব বাধা দূর করার চেষ্টা করছি আমরা

করোনাভাইরাসকে এক অদৃশ্য শত্রুর সঙ্গে তুলনা করে মোদি বলেন, এটি ক্রমাগত তার ধরন পরিবর্তন করছে। ভাইরাসটির সংক্রমণ রোধে কাজ করছে সেনাবাহিনী। তিনি আরও বলেন, ‘ভারত আশা হারাচ্ছে না। আমরা লড়ে যাচ্ছি এবং এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে আমাদের জয় হবে নয়াদিল্লি ও মুম্বাইয়ের মতো বড় শহরে ব্যাপক সংক্রমণের মধ্যে মোদির বক্তব্য এল। তবে ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলে দেশটির দু্‌ই-তৃতীয়াংশ মানুষ করোনার ধাক্কা সামলাচ্ছে। ২ কোটি ৪০ লাখের বেশি জনসংখ্যার উত্তর প্রদেশ রাজ্যে সবচেয়ে বেশি আঘাত হেনেছে ভাইরাসটি।

দেশটিতে করোনায় মৃতদের সংখ্যা গোপন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সৎকারের জায়গা না পেয়ে করোনায় মারা যাওয়া কিছু মানুষকে নদীতে ফেলা দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদে প্রকাশ পেয়েছে। শুক্রবার পুলিশি টহলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে গঙ্গা নদীতে বা অন্য কোথাও মরদেহ ফেলতে না পারেন স্বজনেরা।

মোদি বলেন, ‘আমাদের গ্রামগুলোতেও করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুত। সংক্রমণ রোধে সব ধরনের চেষ্টা করে যাচ্ছে সরকার। করোনা প্রতিরোধে গণটিকাদানের কার্যক্রম শুরু করেছিল ভারত। চলতি বছরের জুলাইয়ের শেষে ৩০ কোটি মানুষকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল মোদি সরকার। তবে এ লক্ষ্য পূরণে পিছিয়ে পড়েছে দেশটি।

ভারত করোনার টিকা উৎপাদনে সর্ববৃহৎ দেশ। এরপরও নিজ জনসংখ্যার মাত্র ৩ কোটি ৮০ লাখের বেশি মানুষকে টিকা দিতে পেরেছে দেশটি। এর মধ্যে টিকার সংকট দেখা দিয়েছে, থমকে গেছে টিকা গ্রহণের জন্য অনলাইন প্রক্রিয়াও।