অবৈধ পথে ভারত থেকে দেশে ২৭ জন, ৩ জনের করোনা

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে বিনা পাসপোর্টে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসা ২৭ জনের মধ্যে তিনজনের নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। তাদের তিনজনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে জেলা শহরের আজাদ রেস্টহাউজ নামক একটি আবাসিক হোটেল থেকে বিশেষ অ্যাম্বুলেন্স করে হাসপাতালে নেয়া হয় তাদের। এরপর সেখানে বিশেষ নিরাপত্তায় আলাদা কক্ষে রাখা হয় তাদের।

শনিবার ফের ওই তিনজনের নমুনা সংগ্রহ করা হবে এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে পাঠানো হবে। এছাড়াও আইইডিসিআর ল্যাবেও তাদের নমুনা পাঠানো হবে। দুটি ল্যাবের ফলাফল পাওয়ার পরেই জানা যাবে আক্রান্ত ওই তিনজন ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট বহন করছে কিনা।

সুত্র জানায় গত ১০ মে ভোরের দিকে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার মাটিলা বিওপির বিজিবি সদস্যরা ১৭ জন এবং একই উপজেলার সামন্তা বিওপির বিজিবি সদস্যরা বাঁশবাড়িয়া গ্রাম থেকে ১০ জন নারী-পুরুষকে অবৈধ পথে ভারত থেকে দেশে প্রবেশের অভিযোগে আটক করে। তাদের সঙ্গে থাকা স্থানীয় পাচারকারী চক্রের এক সদস্যকেও এ সময় আটক করা হয়।

ওই দিনই অবৈধ পথে ভারত থেকে আসা ২৭ জনসহ মোট ২৮ জনকে প্রথমে মহেশপুর থানায় এরপর ঝিনাইদহের আদালতে এবং সব শেষ জেলা শহরের আজাদ রেস্ট হাউস নামের একটি আবাসিকে নেওয়া হয় তাদের। আটক ব্যক্তিরা বাংলাদেশের বাগেরহাট নরসিংদী খুলনা, নাটোর, যশোর সহ বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা। জীবিকার সন্ধানে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অবস্থান করছিলেন তারা।

বৃহস্পতিবার রাতে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ল্যাব থেকে ওইসব ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষার ফলাফল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে পাঠানো হয়। ২৮ জনের নমুনার মধ্যে তিনজনের নমুনায় করোনা পজেটিভ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নড়চড়ে বসেন ঝিনাইদহের প্রশাসন।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডাক্তার সেলিনা বেগম শুক্রবার রাত ৮টার দিকে জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় শনাক্ত তিনজনকে জেলা সদর হাসপাতালে করোনা ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, তাদের কঠোর ব্যবস্থায় রাখা হয়েছে। ওইসব ব্যক্তির কাছাকাছি কাউকে ভিড়তে দেয়া হচ্ছে না। ভ্যারিয়েন্ট শনাক্তের পরে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

অপর দিকে ভারত থেকে আসা বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে আনা পাসপোর্টধারী আরও ১৬৭ জনকে জেলা শহরের দুইটি কোয়ারেন্টিন সেন্টারে রাখা হয়েছে। তবে ওইসব ব্যক্তির কারো শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন সিভিল সার্জন। সিভিল সার্জন আরও জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে অবৈধ পথে ভারত থেকে দেশে আসা আটক ২৮ ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা বিজিবি ও পুলিশ সদস্যদের আইসোলেশনে পাঠানো হয়েছে।