কয়েক দিনের তুলনায় ভারতে করোনায় মৃত্যু কিছুটা কম

ভারতে এক দিনে (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন ৩ লাখ ২৬ হাজার জন। এ সময়ে মারা গেছেন ৩ হাজার ৯৮০ জন। গত কয়েক দিনে দেশটিতে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল চার হাজারের ঘরে। সে তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে মৃত্যু কিছুটা কমেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ভারতের পরিস্থিতিকে ‘খুবই উদ্বেগজনক’ বলে অভিহিত করেছে। ওয়ার্ল্ডোমিটার বলছে, এ পর্যন্ত ভারতে ২ কোটি ৪৩ লাখ ৭২ হাজার ৯০৭ জন করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন। আর দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ৬৬ হাজার ২২৯ জনের। করোনায় সংক্রমিত হয়ে সুস্থ হয়েছেন ২ কোটি ৪৩ লাখ ২ হাজার ৮৯৮ জন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, শুক্রবার পর্যন্ত ভারতে ১৮ কোটির বেশি মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে। ভারত সরকার বলছে, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, কেরালা, উত্তর প্রদেশসহ ১২টি রাজ্যে এক লাখের বেশি মানুষ করোনায় সংক্রমিত।

ভারতের পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক বলে শুক্রবার মন্তব্য করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, মহামারির দ্বিতীয় বছর প্রথম বছরের তুলনায় বেশি মারাত্মক হবে।

ওয়ার্ল্ডোমিটারস শুরু থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের করোনাবিষয়ক হালনাগাদ তথ্য দিয়ে আসছে। ওয়ার্ল্ডোমিটারসের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের পরেই রয়েছে ভারত। ভারতের পর রয়েছে ব্রাজিল। সম্প্রতি সংক্রমণের দিক দিয়ে ব্রাজিলকে টপকে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসে ভারত।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে, এমন আশঙ্কার কথা বিজ্ঞানীরা আগে জানালেও তাতে গুরুত্ব না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে। ভারতের করোনা সংকটের জন্য দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কাঠগড়ায় তুলেছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মেডিকেল জার্নাল দ্য ল্যানসেট। কোনো রকম রাখঢাক না রেখেই গত শনিবার এই জার্নালের সম্পাদকীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নরেন্দ্র মোদির সরকারই দেশে কোভিড বিপর্যয়ের জন্য দায়ী।