যার উদ্দেশ্যে কথা গুলো বললেন শেখ হাসিনা

গতকাল রোববার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতিসংঘে এটি ছিলো তার ১৭তম ভাষণ। এই ভাষণে, ভ্যাকসিন, রোহিঙ্গা ইস্যু সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু উত্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

কিন্তু এর মধ্যে একটি ইস্যু নিয়ে গণমাধ্যমে আলোচনা একেবারেই নেই। অথচ কূটনীতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে তার বক্তব্যের ঐ অংশটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বলেছেন, ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব কারো সাথে বৈরিতা নয়’-এই নীতি আমাদের পররাষ্ট্র নীতির মূলমন্ত্র। এই মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাদেশ শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা এবং শান্তির সংস্কৃতি বির্নিমানে নিয়মিত অবদান রেখে চলেছে।’ তিনি বলেছেন, ‘মহামারী কালে অসহিষ্ণুতা, ঘৃণা, বিদ্বেষ ও উগ্র জাতীয়তাবাদের মতো বিষয় গুলো বৃদ্ধি পাচ্ছে।

শান্তির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা এই বিষয় গুলো মোকাবেলা করতে পারি। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বিশ্বব্যাপী ৩টি বিপদের কথা বলেছেন, অসহিষ্ণুতা, ঘৃণা ও বিদ্বেষ এবং উগ্রজাতীয়তাবাদ। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য বিশ্বব্যাপী মুক্ত চিন্তা এবং প্রগতিবাদী মানুষের কন্ঠস্বর। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘৃণা, বিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন বলে প্রকাশ্যেই অভিযোগ উঠেছে।

তার পক্ষে এখন উগ্রবাদীরা একট্টা হচ্ছে। শেখ হাসিনা কি ট্রাম্পের ঘৃণা ও বিদ্বেষের কথা এখানে বলেছেন? ভারতে উগ্র জাতীয়তাবাদ নিয়ে কথা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের দিনই ভারত প্রতীচী ট্রাস্টের উদ্যোগে আলোচনায়’ অর্থনীতিতে নোবেল জয়ী অমর্ত্য সেন মোদী সরকারের ‘উগ্র জাতীয়তাবাদী’ নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন।

অধ্যাপক সেন বলেছেন, ‘ভারতের আদর্শের প্রতি একনিষ্ঠ হওয়া কখনওই সেই আদর্শের একটি ধারার প্রতি একনিষ্ঠ থাকা নয়।’ প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি ভারত অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে বলেই ভারতের মুক্ত বুদ্ধির চর্চাকারীরা বলছেন। তাহলে কি শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ইঙ্গিত করেই ঐ কথা বলেছেন? রাশিয়ার উগ্র জাতীয়তাবাদের উত্থান নিয়ে ইউরোপ জুড়ে আলোচনা চলছে। পুতিন যেন রাশিয়ায় চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করতে চাইছেন।

শেখ হাসিনা কি পুতিনের উদ্দেশ্যে কথা গুলো বলেছেন? কিংবা চীনের আগ্রাসী বিদ্বেষের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী? কূটনীতিক বলছেন, শেখ হাসিনা কোন বিশেষ দেশকে বা নেতাকে উদ্দেশ্য করে কথা গুলো বলেননি। দেশে দেশে যেভাবে উগ্রজাতীয়তাবাদ, অসহিষ্ণুতা এবং ঘৃণা সংস্কৃতি বাড়ছে তার প্রতি ইঙ্গিত করেই হয়তো শেখ হাসিনার ঐ বক্তব্য।