গো’বরের সূত্র ধরে পাঁচ গ’রুচোর আ’টক, গরু উ’দ্ধার

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে গোবরের সূত্র ধরে পাঁচ গরুচোরকে আটক করেছে পুলিশ। এসময় গরু চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি মিনিট্রাক জব্দ এবং চুরি হওয়া দুটি গরু উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার (১৮ মে) বিকেলে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ধরমপুরার মোড়ে অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া দুটি গরু উদ্ধার করে ঘোড়াঘাট থানা পুলিশ।

এর আগে মঙ্গলবার ভোরে দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের ঘোড়াঘাট উপজেলার কারিগরি কলেজ মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে গরু চুরির কাজে ব্যবহৃত মিনিট্রাকটি আটক করা হয়। আটকরা হলেন-গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার অনন্তপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে ট্রাকচালক সাজু মিয়া (২৭) ও একই উপজেলার কামদিয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত কেফায়েতুল্লার ছেলে মজনু মণ্ডল (৫৫), দিনাজপুরের

নবাবগঞ্জ উপজেলার নামাকাঁঠাল হরিনাথপুর গ্রা’মের মৃ;ত রমজান আলীর ছেলে মিজানুর রহমান (৪৪), ঘোড়াঘাট উপজেলার দক্ষিণ দেবীপুর গ্রামের মৃ’ত হা’ছেন আলীর ছে’লে সাহেব মিয়া (৩৮) এবং সিংড়া বেড়ীভিটা গ্রামের মৃ’ত রমজান আলীর ছেলে সাইদুল ইসলাম (৪৫)।

ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন জানান, সোমবার (১৭ মে) দিবাগত রাতে জেলার ফুলবাড়ি উপজেলার উত্তর লক্ষীপুর (চিলাপাড়া) গ্রামের আদিবাসী যোগেন সরেনের বাড়ি থেকে দুটি গরু চুরি হয়। মঙ্গলবার ভোরে ঘোড়াঘাট উপজেলার কারিগরি কলেজ মোড়ে চেকপোস্টে একটি মিনিট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ড-১২-০৩৬৪) থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। তল্লাশির এক পর্যায়ে ট্রাকের পেছনে গরুর কাঁচাগোবর দেখতে পেয়ে পুলিশের সন্দেহ হয়। এসময় ট্রাকের চালক সাজু মিয়া এবং দুই যাত্রী মজনু মণ্ডল ও মিজানুরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তারা গরু চুরির ঘটনা স্বীকার করেন। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার সুজা মসজিদ এলাকার আব্দুল করিম মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। কিন্তু পুলিশ যাওয়ার আগে করিম গরুগুলো নিয়ে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে প্রযুক্তির সহযোগিতা নিয়ে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ধরমপুরার মোড়ে অভিযান চালিয়ে দুটি গরুসহ সাহেব মিয়া ও সাইদুল ইসলামকে আটক করা হয়। এই ঘটনার পর থেকে আব্দুল করিম পলাতক রয়েছেন।

তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে গরুর মালিককে খবর দিলে তিনি থানায় এসে নয়জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। বুধবার সকালে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা পেলে গরু দুটি বাদীর কাছে হস্তান্তর করা হবে। আটক গরুচোরদের বিরুদ্ধে উপজেলার পার্শ্ববর্তী বেশ কয়েকটি থানায় ডাকাতি ও চুরির মামলা রয়েছে।