বন্ধু হারানোর শোকে পাথর নেইমার

কথা ছিল দেখা হবে…কিন্তু বন্ধু কেভিন নাসিমেন্তো বুয়েনো, সবাই যাঁকে ম্যাক কেভিন নামেই বেশি চেনে, তাঁর সঙ্গে আর কখনোই দেখা হবে না নেইমারের। পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন নেইমারের খুব ঘনিষ্ট বন্ধু ম্যাক কেভিন। কাল ঘুম থেকে উঠেই প্রিয় বন্ধুর মৃত্যুর খবর পেয়েছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। সেই থেকেই মনটা ভারী হয়ে আছে নেইমারের।

প্রতিভাবান ব্রাজিলিয়ান সংগীতশিল্পীর মৃত্যুতে অনেকেই শোক জানিয়েছেন। কিন্তু নেইমারের শোক জানানোর সঙ্গে মিশে ছিল খুব কাছের বন্ধুকে হারানোর কান্না। কিছুদিন আগেও দুজনের কথা হয়েছিল। দুই ভুবনের দুই তারকা মিলে পরিকল্পনা করেছিলেন এবারের গ্রীষ্মের ছুটিতে দেখা করবেন। সেই দেখা আর হবে না, শোক জানানোর সময় সে কথা বলতে গিয়ে ভেঙে পড়েছেন নেইমার।

ম্যাক কেভিনের মারা যাওয়ার খবর শোনার পর ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন আবেগাপ্লুত নেইমার। ম্যাক কেভিনের ছোট একটি ভিডিও ক্লিপ দিয়ে নেইমার সেখানে লিখেছেন, ‘আমি এটা বিশ্বাসই করতে পারছি না। তার বয়স মাত্র ২৩ বছর ছিল। বুঝতে পারছি না কী বলব। বন্ধু, তুমি আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছ, এর জন্য কৃতজ্ঞ থাকব।’

আগামী গ্রীষ্মের ছুটিতে ম্যাক কেভিনের সঙ্গে দেখা করার কথা জানিয়ে নেইমার লিখেছেন, ‘ছুটির সময় দেখা করার পরিকল্পনা করেছিলাম আমরা। কিন্তু দুঃখ এটাই যে সেটা আর পারছি না আমরা। যদিও আমি নিশ্চিত যে আমরা আলিঙ্গন করব। আমার প্রতি তোমার যে ভালোবাসা ছিল, তার প্রশংসা আমি সব সময়ই করব। বন্ধু, ওপারে চিরশান্তিতে থেকো।’

ম্যাক কেভিনের মৃত্যু নিয়েও অবশ্য তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। রিও ডি জেনিরোর একটি হোটেলের পাঁচতলা থেকে পড়ে গিয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। অনেকে বলছেন এটি আত্মহত্যা। কিন্তু ম্যাক কেভিনের ঘনিষ্ট এক বন্ধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে জানিয়েছেন, তিনি হোটেলে কয়েকজন নারীর সঙ্গে একটি কক্ষে ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে তিনি এক কক্ষের ব্যালকনি দিয়ে আরেক কক্ষের ব্যালকনিতে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

ব্যালকনি দিয়ে এক কক্ষ থেকে আরেক কক্ষে যাওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন ম্যাক কেভিনের ওই বন্ধু। তিনি নাকি মনে করেছিলেন, নারীদের সঙ্গে তিনি যে কক্ষে ছিলেন, সেই কক্ষের দরজার সামনে তাঁর স্ত্রী ছিল বলে মনে করেছিলেন! কিন্তু ব্যালকনি দিয়ে যাওয়ার সময় নিচে পড়ে যান ম্যাক কেভিন। স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

গত এপ্রিলেই অনেক দিনের বান্ধবী ব্রাজিলের ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ দিওলানে বেজেরাকে বিয়ে করেন ম্যাক কেভিন। সেই বিয়েতে আরও অনেকের সঙ্গে নিমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে ছিলেন কলম্বিয়ার ফুটবলার রাদামেল ফ্যালকাও। ম্যাক কেভিনের অকালমৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না বেজেরা, ‘তুমি চলে গেলে। নিজের সঙ্গে তুমি আমার সুখ–শান্তিও নিয়ে গেলে। তোমার এভাবে চলে যাওয়াটা মেনে নেওয়া যায় না। না, এটা হতে পারে না। এটা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না।’