৩৪ কোটি টাকার মালিক সাই

খুব অল্প সময়ে দক্ষিণ ভারতের জ্বলে ওঠা তারকাদের একজন সাই পল্লবী। মাত্র পাঁচ বছরের মাথায় তিনি টেক্কা দিচ্ছেন দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিগুলোর প্রথম সারির নায়িকাদের। প্রথম ছবি ‘প্রেমাম’ দিয়েই সাই পেলেন প্রত্যাশার চেয়ে ঢের বেশি। একবারও হোঁচট না খেয়ে তরতর করে এগিয়ে গেছেন সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে। ‘ফিদা’ থেকে ‘কারু’, ‘মারি টু’ থেকে ‘কালি’—সাইয়ের সাফল্যের একেকটা বড় সোপান।

২০২০ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিন তাঁকে স্থান দিয়েছে থার্টি আন্ডার থার্টির সম্মানজনক তালিকায়। ছোটবেলায় ‘মেডিসিন’ আর ‘ড্যান্সিং’ এই দুইয়ের মধ্যে একটাকে বেছে নিতে বলা হলে জবাব দিতে পারতেন না সাই। দুটোর প্রতিই সমান আর তুমুল আগ্রহ ছিল।

জর্জিয়ার মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিবিএস শেষ করে দেশে ফিরে কার্ডিওলজিস্ট হিসেবে কাজ শুরু করবেন। এমন সময় মনে হলো, বড় পর্দায় ভাগ্যটা একবার যাচাই করে দেখলে কেমন হয়? যেই ভাবা, সেই কাজ। আগে দুবার তামিল সিনেমায় ছোট ছোট চরিত্রে দেখা গেছে তাঁকে। সিনেমা জোটাতে তেমন বেগ পেতে হয়নি।

অনেকে ভাবে, সাই বোধ হয় কেরালার। কিন্তু তিনি তামিলনাড়ুর নীলগিরি হিলসের কন্যা। দ্য নেট ওর্থ পোর্টালের প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২০ সালে সাইয়ের মোট সম্পদের পরিমাণ ৪ মিলিয়ন ডলার বা ৩৪ কোটি টাকা। বছরে তাঁর আয় পাঁচ–সাত কোটি টাকা। ত্বকের রং ফর্সাকারী ক্রিমের বিজ্ঞাপনকে ‘হ্যাঁ’ বলে দিলেই এই সম্পদের পরিমাণ আরও বড় হতো। ফেয়ারনেস ক্রিমের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হওয়ার প্রস্তাবও এসেছিল একাধিকবার। কিন্তু তা অনৈতিক মনে হওয়ায় ‘না’ বলতে সময় নেননি ২৯ বছর বয়সী সাই।

মা–বাবার সঙ্গে তামিলনাড়ুর কৈয়েমবাটুরে প্রাকৃতিক পরিবেশে একটি চমৎকার বাড়িতে থাকেন সাই। সেই বাড়ির চারপাশে জঙ্গল আর বাগান। নীলগিরি জেলার কোটাগিরিতেও তাঁর একটি নিজের বাড়ি আছে। সেখানেও মাঝেমধ্যে গিয়ে থাকেন। তাঁর সংগ্রহে রয়েছে অডি কিউ থ্রি, মারুতি সুইফটসহ বেশ কিছু গাড়ি।

প্রতি ছবিতে সাই নিচ্ছেন দুই কোটি রুপি, যা দক্ষিণ ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় নায়িকা আনুশকা শেঠি, তামান্না ভাটিয়া, কাজল আগারওয়াল, সামান্থা আক্কিনেনিদের সমান। সাইকে শেষবার দেখা গেছে তামিল ‘পাভা কাধাইগাল’ ছবিতে। ‘লাভ স্টোরি’ ও ‘ভিরাতা পারভাম’ নামে দুটো তেলেগু ছবির শুটিং শেষ। চলছে ‘শ্যাম সিংহ রায়’ ছবির কাজ।