গুজরাটের রমেশ যাদব থেকে বলিউডের রেমো ডিসু’জা হয়ে ওঠার কাহিনী হার মানাবে বলিউডের চিত্রনাট্যকে! পড়ে নিন-

রেমো ডিসু’জা। এই নামটা ভারতবর্ষে জানেনা মানুষের সংখ্যা হয়তো খুঁজে পাওয়া ভার। নৃত্য প্রেমী, সিনেমাপ্রেমীদের কাছে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয়। ‌ তিনি বলিউডের ডান্স কোরিওগ্রাফার। একইস’ঙ্গে আবার সিনেমা পরিচালক, প্রযোজক‌ও। কিন্তু তাঁর এই ঝলমলে, প্রাচুর্যে ভরা জীবন রাতারাতি তৈরি হয়ে যায়নি। ‌ তাঁর এই ব্যাপক সফলতার পিছনে আছে কঠোর কঠিন পরিশ্রম। ১৯৭২ সালের ২রা এপ্রিল কর্নাটকের রাজধানী ব্যা’ঙ্গালুরুতে জন্মগ্রহণ করেন রেমো ডিসু’জা ওরফে রমেশ যাদব।

তাঁর বড় হয়ে ওঠা গু’জরাটে। ছোটবেলা থেকেই নাচ যেন‌ও তাঁকে আঁকড়ে ছিল। ঝকঝকে বাড়িতে থাকা মানুষটা একটা সময় বস্তিতে থেকেছেন। তাঁর পরিবারও ছিল বেশ গরিব। তাঁর বাবা ছিলেন এয়ারফোর্সের রাঁধুনি, এই যৎসামান্য উপার্জনে তাঁর পরিবার একদমই চলতনা। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারকে সাহায্য করার জন্য রেমো বেকারি, রেশন শপ এবং সাইকেল মেরামতের দোকানে কাজ শুরু করেন।

আর আজ তাঁর প্রশিক্ষণেই কোমর’ দোলান বরুণ, রনবীর, দীপিকা, শ্রদ্ধা’রা। নিজের স্বপ্নকে সত্যি করার জেদ নিয়ে বাড়ি থেকে একদিন পালিয়ে যান রেমো। ওঠেন স্বপ্ননগরী মুম্বাইতে। ব্যাক ডান্সের হিসেবে শুরু করেন নিজের জীবন। মুম্বাইতে এসে প্রথম প্রথম ক্ষুধার্ত পেটে তাঁর রাত কাটত স্টেশনে।‌অর্থের অভাবে এমনও দিন গেছে যে সারাদিন তিনি কিছু খাবার জোগাড় করতে পারেননি, যার কারণে সারাদিন খালি পেটে থাকতে হয়েছিল তাঁকে।

এরই মধ্যে তাঁর স’ঙ্গে তাঁর সহকর্মী লিজেলে’র দেখা হয়। সেখানে থেকেই তাঁদের প্রেম এবং বিয়ে। বিয়ের পরেও রেমো স্টেশনে রাত কাটিয়েছে তাঁর স্ত্রী লিজেলকে নিয়ে। আজ তাঁদের দুই সন্তান। কর্মজীবনের শুরুতেই তিনি তরুণ তারকাদের স’ঙ্গে কাজ শুরু করেন, এবং বিশেষ কোরিওগ্রাফারদের স’ঙ্গেও শুরু করেন কাজ। এরপর তাঁর লম্বা সফর। ডান্স ইন্ডিয়া ডান্সের সেটে বিচারক হিসেবে শুরু হয় জার্নি। রেমো স্যার বিপুল জনপ্রিয়তা পান সেখান থেকে।

মাত্র ৪৯ বয়সেই নিজেকে বলিউডের একজন বড় কোরিওগ্রাফার হিসেবে প্রমাণ করে ফেলেন। রেমো ডিসু’জা নিজেকে প্রমাণ করার সবচেয়ে বড় সুযোগ পান একটি নৃত্য প্রতিযোগিতার বিজয়ী হওয়ার মাধ্যমে। এরপরেই তিনি অভিনেত্রী উর্মিলার ছবি ‘র’ঙ্গিলা’ তে নাচার সুযোগ পেয়ে যান। তারফর সনু নিগমের প্রথম স’ঙ্গীত অ্যালবাম দিবানাতে অভিনয় করার সুযোগ পান।

কিন্তু এই কোরিওগ্রাফার লাইমলাইটে এসেছিলেন ‘কান্ত’ চলচ্চিত্রের আইটেম সং ইশক সামান্দারের থেকে। সেখান থেকেই শুরু তাঁর ক্যারিয়ার। রেমো ডিসুজার জীবনকাহিনী থেকেই অনুপ্রাণিত হয় দেশের কোটি কোটি যুবক। দুচোখ ভরা স্বপ্ন থাকলে যে কোন‌ও বাধাই অতিক্রম করা যায় তার জলজ্যান্ত উদাহরণ বলিউডের এই স্টার কোরিওগ্রাফার।