ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘যশ’, আম্পানের মতো ভয়াবহতার আশঙ্কা

সুপার সাইক্লোন আম্পানের ঠিক এক বছরের মাথায় আবহাওয়াবিদরা বঙ্গোপসাগরে আরও একটি সুপার সাইক্লোন সৃষ্টির আভাস দিয়েছেন । তারা বলছেন, চলমান তাপপ্রবাহের ফলে বঙ্গোপসাগরের পৃষ্ঠদেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ফলে চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে একটি লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস রয়েছে। এতে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হবে ঘূর্ণিঝড় ‘যশ’। যা চলতি সপ্তাহেই সুন্দরবনে আছড়ে পড়তে পারে সুপার সাইক্লোন আম্পানের মতো ভয়াবহ শক্তি নিয়ে।

ঘূর্ণিঝড়ের এ নামটি দিয়েছে ওমান। এটি শক্তিশালী রূপে আসার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে পূর্ব উপকূলে বঙ্গোপসাগরে নতুন করে সৃষ্ট বড় ধরনের এই ঝড়ের বিষয়ে বৃহস্পতিবার (২০ মে) সতর্ক করা হয়েছে। ঝড়টি পশ্চিমবঙ্গ ও উড়িষ্যার উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

ভারতের আবহাওয়া অফিস (আইএমডি) ও ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের তথ্য মতে, উত্তর আন্দামান সাগর ও পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে আগামী ২২ মে’র দিকে একটি লঘুচাপের সৃষ্টি হতে পারে। পরবর্তীতে লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হয়ে আগামী ২৪ মে’র দিকে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। আর আগামী ২৬ মে’র দিকে এটি উত্তর পশ্চিম ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছবে।

এর প্রভাবে আগামী ২৫ মে বিকাল থেকে ২৬ মে পর্যন্ত উত্তর বঙ্গোপসাগর, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশ উপকূলে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বাতাসের গতিবেগ থাকবে ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার। আগামী ২৪ থেকে ২৬ মে পর্যন্ত মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং ২৫ থেকে ২৭ মে পর্যন্ত উত্তর বঙ্গোপসাগর, ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ সাগর খুব উত্তাল থাকবে।

আগামী ২৩ থেকে ২৫ মে পর্যন্ত সব মাছ ধরা নৌকা এবং ট্রলারকে মধ্য বঙ্গোপসাগর ও উত্তর বঙ্গোপসাগরে চলাচল না করতে এবং ২৪ থেকে ২৭ মে পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও বাংলাদেশের উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আবহাওয়া উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় সাগরের পানি উষ্ণ হচ্ছে। এর ফলে এ অঞ্চলে ঘন ঘন ও তীব্র ধরনের ঘূর্ণিঝড় তৈরি হচ্ছে।