চাঁদের দুই মেরু থেকে আসা আলো বিশ্লেষণ করে “হেমাটাইট”-এর সন্ধান পাওয়া গেছে যা মরিচা বলেই বেশি পরিচিত

পৃথিবীর কারণে চাঁদে মরিচা সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানতে পেরেছেন বিজ্ঞানীরা। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের একটি খবরে বলা হয়, ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (ইসরো) “চন্দ্রযান-১” এর পাঠানো ছবি ও তথ্য বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শুয়াই লি চাঁদের দুই মেরু থেকে আসা আলো বিশ্লেষণ করে “হেমাটাইট”-এর সন্ধান পান। হেমাটাইট লোহার এক ধরনের অক্সাইড যা মরিচা হিসেবে সবার কাছে পরিচিত।

লোহায় মরিচা সৃষ্টির জন্য অক্সিজেন প্রয়োজন। কিন্তু চাঁদে কোনো অক্সিজেন নেই। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক লি বলেন, “এটি খুবই বিভ্রান্তিকর। কারণ চাঁদে প্রচুর পরিমাণে লোহা থাকলেও হেমাটাইট তৈরি হওয়ার মতো কোনো পরিবেশ নেই।”

চাঁদে বাতাসের কোনো অস্তিত্ব নেই। উল্টে চাঁদে সূর্য থেকে আসা হাইড্রোজেনের অস্তিত্ব বিপুল পরিমাণে রয়েছে। কিন্তু মরিচা সৃষ্টির জন্য প্রয়োজন পানি ও অক্সিজেন যা লোহা থেকে ইলেকট্রন শোষণ করে। হাইড্রোজেন করে ঠিক এর উল্টো। কাজেই চাঁদের পরিবেশে মরিচা সৃষ্টি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে এই বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করে এর কারণ বেরিয়ে এসেছে বলে জানিয়েছেন নাসা ও অধ্যাপক লি’র নেতৃত্বাধীন গবেষকরা। তারা জানিয়েছেন, এই রহস্যের উত্তর আমাদের পৃথিবীতেই লুকিয়ে রয়েছে।

বিজ্ঞানীরা জানান, চাঁদের পৃথিবীমুখী পৃষ্ঠে অন্যান্য জায়গার থেকে সবচেয়ে বেশি মরিচার অস্তিত্ব লক্ষ্য করা গেছে। এটিই চাঁদে মরিচা সৃষ্টির পেছনে পৃথিবীর অবদানের পক্ষে অন্যতম বড় প্রমাণ বহন করে।

গবেষকরা জানান, পৃথিবী একটি চৌম্বক ক্ষেত্র পরিবেষ্টিত হয়ে আছে। সৌর বায়ুর কারণে এই চৌম্বক ক্ষেত্র নিম্নমুখী হয়ে অনেকদূর পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রতি পূর্ণিমার তিনদিন আগে চাঁদ পৃথিবীর এই বর্ধিত চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে প্রবেশ করে। এটি অতিক্রম করতে চাঁদের আরও ছয়দিন সময় লাগে।

অধ্যাপক লি’র ধারণা, এই ছয়দিনে বর্ধিত এই চৌম্বক ক্ষেত্রের মাধ্যমে পৃথিবী থেকে অক্সিজেন চন্দ্রপৃষ্ঠে পৌঁছায় এবং সেখানে থাকা হাইড্রোজেনের সাথে বিক্রিয়ায় পানির ক্ষুদ্র কণার সৃষ্টি করে। এটির সংস্পর্শে এসেই চাঁদের পৃষ্ঠে থাকা লোহায় মরিচার সৃষ্টি হচ্ছে।

একই সাথে এই বর্ধিত চৌম্বক ক্ষেত্র চাঁদে সূর্য থেকে আসা হাইড্রোজেনের প্রবাহ বন্ধ করে দেয়। এর ফলে মরিচা ধরার জন্য আরও উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণা এবং চাঁদে থাকা খনিজ পদার্থ আবার নতুন করে বিশ্লেষণ করতে নতুন যন্ত্র তৈরি করছে নাসা। এর মাধ্যমে চাঁদে সন্ধান পাওয়া হেমাটাইটের আরও বিস্তারিত বিশ্লেষণ ও বিবরণ জানা যাবে বলে নাসা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।